ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের অভাবনীয় সাফল্য অর্জন সততা আর আদর্শের প্রতিমূর্তি, জাতিসংঘ পদকপ্রাপ্ত ঢাকা জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ ফরহাদ হায়দার

0
1714

নোমান মাহমুদঃ
সারাদেশে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যখন অনিয়ম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারনে সমালোচনা সৃষ্টি করছে ঠিক সেই মুহুর্তে সকল সমালোচনার ঝড়, প্রতিকুল পরিবেশ ও নানান প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে দৃড়ভাবে নিজের দায়িত্ব আর কর্তব্যের প্রতি অবিচল থেকে সততা আর আদর্শের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করলেন জাতিসংঘ পদক প্রাপ্ত সাভারেরর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ ফরহাদ হায়দার।
গত ২০১৩ সালের পহেলা জানুয়ারি সাভারের ট্রাফিক অফিসে যোগদান করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। যোগদানের পরপরই অনিয়ম আর দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে শক্ত হাতে দমন করেন তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় কর্মরত সকল ট্রাফিক সার্জেন্টদের অনিয়মগুলো। সড়ক দূর্ঘটনা মোকাবেলায় ট্রাফিক সার্জেন্টদের সাথে নিয়ে শনাক্ত করতে শুরু করেন সাভার আশুলিয়াসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ঝঁকিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন সকল যানবাহন। শনাক্ত করা হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন অদক্ষ চালকদের। তারপর এসকল ফিটনেস বিহীন যানবাহন ও চালকদের আইনের আওতায় এনে প্রতিষ্ঠা করেন ট্রাফিক আইনের বাস্তবায়ন। সড়ক দূর্ঘটনা মোকাবেলা ও সড়ক-মহাসড়কে যানজট নিরসনে করে চলেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। এর আগে ঢাকা জেলা ট্রাফিক অফিসে ২০০০ইং সাল থেকে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রশিদ থেকে শরু করে মোট ১১ জন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর অত্র এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। তাদের দায়িত্ব পালন কালে ঢাকা জেলার ট্রাফিক অফিসকে ঘীরে নানান অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও, সততা আর আদর্শের সাথে ২০১৩ সালে দায়িত্ব গ্রহন করে ট্রাফিক আইনের সুশাসন নিশ্চিত করে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের জন্য গৌরবজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই ট্রাফিক কর্মকর্তা। সাভার বাজার বাস ষ্টান্ড সহ আশেপাশের সড়ক মহাসড়কগুলো আনা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়। শুধু তাই নয়, ট্রাফিক আইন অমান্য করাসহ বিভিন্ন কারনে অত্র এলাকায় চলাচলকারী যানবাহন ও চলকদের জরিমানা করে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০১৬ইং মাসেই ঢাকা জেলা ট্রাফিক অফিস আদায় করেছে মোট ২০ লক্ষ ৯ হাজার টাকার উর্দ্ধে যা পূর্বের সকল রেকর্ডগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। আর সরকারী কোষাগারে জমা হওয়া এই জারিমানার অর্থই প্রমান করে এই দক্ষ ও সৎ ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব আর কতব্যের প্রতি অবিচল অবস্থানের কথা।

Advertisement

mg-06
এ প্রসঙ্গে গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, “আমি যা কিছুই করেছি, তা আমার দায়িত্ব আর কর্তব্য থেকে। পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের সময় যে শপথ গ্রহন করেছি তা যেন চাকুরী জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত পালন করতে পারি, সেইটুকুই শুধু প্রত্যাশা”। এ সময় তিনি তার সুদুর প্রসারী আরও কিছু পরিকল্পনার কথাও অপরাধ বিচিত্রাকে জানান। বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে তার আওতাধীন এলাকায় আরও উন্নয়ন সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব ও উন্নয়নের পথে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন “আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি ট্রাফিক বিভাগে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে। আরও কিছু দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত যানবাহন ও উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টিকারী প্রতিবন্ধকতাগুলো নিরসন করা গলে ট্রাফিক আইনের বাস্তবায়ন ও ঢাকা জেলা ট্রাফিক বিভগের এই উন্নয়ের গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং ট্রাফিক আইনের সর্বোচ্য বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। এ বিষয়ে সরেজমিনে ঢাকা আরিচা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায় সওজ (সড়ক ও জনপথ) বিভাগের গাফিলতি ও পৌরসভার উদাসিনতাই ঢাকা জেলা ট্রাফিক বিভাগের উন্নয়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসাবে কাজ করছে। ঢাকা আরিচা মহাসড়কে অবস্থিত রোড ডিভাইডারের ফেন্সি বেড়ার মেরামত ও সংস্কারের অভাবে যএতএ পথচারী পারাপারে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট অন্যদিকে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা। অত্র এলাকায় ফুট ওভারব্রীজ গুলোর পথচারী চলাচলের জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ পথচারীই সাভার বাজার বাস ষ্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন স্থানে রোড ডিভাইডারের ফেন্সি বেড়ার ভাঙ্গা অংশ দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। যার দরুন প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। ফেন্সি বেড়ার সংস্কার ও মেরামতে সওজ বিভাগের গাফিলতিই এই দূর্ঘটনাগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ। সড়ক দূর্ঘটনা মোকাবেলায় একান্ত নিরুপায় হয়েই ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের অনুমতিক্রমে স্ব-উদ্দ্যেগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই রোড ডিভাইডার ও ফেন্সি বেড়ার সংস্কার করে চলেছেন। যদিও তা অপর্যাপ্ত তবুও এই সংস্কার ও মেরামতের কাজের দায়িত্ব তার না হলেও শুধুমাত্র সড়ক দূঘটনা মোকাবেলায় তার এই উদ্দ্যেগ অত্যন্ত প্রশোংসনীয়। অন্যদিকে রয়েছে পৌরসভার উদাসীনতা। সড়ক-মহাসড়কে পাশে যএতএ ময়লা আবর্জনার স্তুপ ও তা অপসারনে পৌরসভার গাফিলতির কারনে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এছাড়া এক জরিপে দেখা যায়, সম্প্রতি আন্তঃ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের আলোচনা সভায় উথাপিত সড়ক দূর্ঘটনা মোকাবেলায় সড়ক মহাসড়কে সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অটোরিক্সা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ঢাকা জেলাতেই এই প্রথম ৯৯ শতাংশ বাস্তবায়ন সহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশোংসনীয়। ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জনে ট্রফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ হায়দারের অবদান অপরিসীম। তার দক্ষতা, সততা ও ত্যাগ গোটা পুলিশ বাহিনী তথা সমগ্র জাতির জন্য আদর্শ স্বরুপ। নীতি আর আদর্শ দিয়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেকটি স্তরে এমন সৎ, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্য ও দেশের ট্রাফিক বিভাগসহ সকল বিভাগে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ উন্নয়নের এমন ধারাাবহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, দেশের সব্যস্তরের জনগনের এমনটিই প্রত্যাশা।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here