আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০১৭ মূল প্রবন্ধ

0
2596

মোশারেফ হোসেন ঃ
কাস্টমস রাজস্ব সংগ্রহের একটি প্রাচীন পদ্ধতি। কাস্টমস এর শাব্দিক অর্থ ‘প্রথা’। প্রাচীন আমলে ব্যবসায়ীগণ এক দেশ হতে অন্য দেশে মালামাল নিয়ে প্রবেশের সময় সেখানকার রাজাদের ঞধৎরভভ নামীয় আরোপিত কর হিসেব নিরাপদে ব্যবসার্থে কিছু অর্থ দিতেন। পরবর্তীতে এই প্রথা বাধ্যতামূলক করা হয়। এভাবেই কাস্টমসের জন্ম। কাস্টমস এর মূল কাজ ছিল রাজস্ব আহরণ। তবে আধুনিককালে রাস্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে দেশে ব্যবসা-বানিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের সংরক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সীমান্ত সৈনিক ও পদ্ধতি হিসেবে কাস্টমসের ভূমিকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বায়নের এ যুগে কাস্টমসের ভূমিকা ও গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডঞঙ) আওতায় ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের পন্থা গৃহীত হয়। বিভিন্ন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে আধুনিক কাস্টমস  রাজস্ব সংগ্রহের পূর্বতন দায়িত্বের পাশাপাশি বর্তমানে ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময় ভূমিকা পালন করছে। রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি কাস্টমস নি¤œবর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পাদন করছে ঃ

Advertisement

ক্স    বৈধ বাণিজ্যে সহায়তাকরণ (ঞৎধফব ঋধপরষরঃধঃরড়হ);
ক্স    মাদক,  মুদ্রা পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানসহ অপবাণিজ্য প্রতিরোধ;
ক্স    জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান;
ক্স    রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিধান;
ক্স    বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি;
ক্স    আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন;
ক্স    জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা;
ক্স    দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা; এবং
ক্স    বাণিজ্য তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও গবেষণা।

বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা (ডঈঙ) ও আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের পটভূমি ও বিকাশ
কাস্টমস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ¬। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসার ও প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী কাস্টমস প্রশাসনে অভিন্ন, আধুনিক ও যুগোপযোগী পদ্ধতি অনুসরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এবহবৎধষ অমৎববসবহঃ ড়হ ঞধৎরভভ ধহফ ঞৎধফব (এঅঞঞ)  নীতিমালার আওতায় কাস্টমস ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে ১৩টি ইউরোপিয়ান দেশ কর্তৃক একটি স্টাডি গ্রুপ তৈরীর সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ব্রাসেলসে এই সংস্থার প্রথম আন্তর্জাতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।  ১৯৯৪ সালে এটি বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা (ডঈঙ)  নামে আত্মপ্রকাশ করে।
সংস্থাটির প্রথম আন্তর্জাতিক সভার দিন ২৬ জানুয়ারিকে স্মরণে রেখে ২০০৯ সাল হতে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপিত হয়। ডঈঙ এর সকল সদস্যই দিনটি বর্ণিল উৎসবের আমেজে পালন করে থাকে। আয়োজন করা হয় সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, র‌্যালি, টক শো ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসটি উদযাপনের উদ্দেশ্যসমূহ হলঃ

ক) কাস্টমস এর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব, দায়িত্ব সম্পর্কে কর্মকর্তা ও স্টেকহোল্ডারদের  সচেতনতা বৃদ্ধি;
খ) কাস্টমস ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বান্ধব মনোভাব সৃষ্টি করা;
গ) আন্তর্জাতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য অর্জন;
ঘ) কাস্টমসের উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রাখতে সদস্য দেশসমূহকে উজ্জীবিতকরণ;
ঙ) কাস্টমসের কর্ম পরিবেশ, প্রতিবন্ধকতা এবং চ্যালেঞ্জসমূহ সম্পর্কে আলোকপাত করা; এবং
চ) কাস্টমস সংক্রান্ত কাজে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে সকলকে অনুপ্রাণিত (গড়ঃরাধঃব) করা।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য
বিশ্বব্যাপী কাস্টমস সংক্রান্ত অভিন্ন উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে ডঈঙ ২০০৯ সাল হতে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসে একটি বিশেষ প্রাসঙ্গিক বিষয়কে প্রতিপাদ্য (ঞযবসব) হিসেবে ঘোষণা করে থাকে।
২০০৯ সালে পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয় “ঈঁংঃড়সং ধহফ ঃযব বহারৎড়হসবহঃ: চৎড়ঃবপঃরহম ড়ঁৎ হধঃঁৎধষ যবৎরঃধমব”।
২০১০ সালের প্রতিপাদ্য “ঈঁংঃড়সং ধহফ ইঁংরহবংং: ওসঢ়ৎড়ারহম ঢ়বৎভড়ৎসধহপব ঃযৎড়ঁময ঢ়ধৎঃহবৎংযরঢ়ং”।
২০১১ সালে “কহড়ষিবফমব, ধ পধঃধষুংঃ ভড়ৎ ঈঁংঃড়সং ঊীপবষষবহপব” এবং ২০১২ সালে “ইড়ৎফবৎং উরারফব, ঈঁংঃড়সং ঈড়হহবপঃং” কে প্রতিপাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
২০১৩ সালে কাস্টমসের উন্নয়নে উদ্ভাবনকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয় “ওহহড়াধঃরড়হ ভড়ৎ ঈঁংঃড়সং ঢ়ৎড়মৎবংং”।
২০১৪ সালে “ঈড়সসঁহরপধঃরড়হ: ঝযধৎরহম রহভড়ৎসধঃরড়হ ভড়ৎ নবঃঃবৎ পড়ড়ঢ়বৎধঃরড়হ” ও ২০১৫ সালে “ঈড়ড়ৎফরহধঃবফ ইড়ৎফবৎ গধহধমবসবহঃ: অহ রহপষঁংরাব ধঢ়ঢ়ৎড়ধপয ভড়ৎ পড়হহবপঃরহম ংঃধশবযড়ষফবৎং” প্রতিপাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বিশ্ব কাস্টম ব্যবস্থাপনায় তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৬ সালে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় “উরমরঃধষ ঈঁংঃড়সং: চৎড়মৎবংংরাব ঊহমধমবসবহঃ”।
এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরের প্রতিপাদ্য “উধঃধ অহধষুংরং ভড়ৎ ঊভভবপঃরাব ইড়ৎফবৎ  গধহধমবসবহঃ” অর্থাৎ “কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় তথ্য বিশ্লেষণ” কে প্রতিপাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। স্লোগানটি বর্তমান বিশ্ব কাস্টমস ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী ও সময়োচিত। বিভিন্ন বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে কাস্টমস কার্যক্রমের বহুমাত্রিকতা আনয়ণের যে যাত্রা শুরু, উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে এই কর্মধারাকে আরো বেগবান করা হয়েছে। একইভাবে ডযড়ষব ঙভ ঞযব ঝঃধঃব এমনকি ডযড়ষব ঙভ ঞযব ডড়ৎষফ পর্যায়ে উন্নীত করা  হয়েছে। সর্বশেষ ডিজিটাল কাস্টমস ও তথ্য বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিয়ে তথ্য প্রাপ্তির অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস, ২০১৭ এর প্রতিপাদ্যঃ ”উধঃধ অহধষুংরং ভড়ৎ ঊভভবপঃরাব ইড়ৎফবৎ গধহধমবসবহঃ”
উধঃধ অহধষুংরং ভড়ৎ ঊভভবপঃরাব ইড়ৎফবৎ গধহধমবসবহঃ -‘‘কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় তথ্য বিশ্লেষণ’’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডঈঙ র সদস্য রাষ্ট্রসমূহ আজ আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস’ ২০১৭ পালন করছে।  কাস্টমস ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতার মূল সূত্র হিসেবে তথ্য বিশ্লেষণকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছে। কাস্টমস বিভাগ দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিপুল সংখ্যক তথ্যের ব্যবহার ও সংরক্ষণ করে থাকে। তথ্যগুলোর অধিকাংশই পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও খালাস সম্পর্কিত। এ কাজে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অন্যান্য সহযোগী সরকারী-বেসরকারী কর্তৃপক্ষের বাণিজ্যিক দলিলাদির তথ্য ভান্ডারের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। তবে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের এই  মাহেন্দ্রক্ষণে শুধু তথ্য সংগ্রহ এবং ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। তথ্যের বিপুল ভান্ডারে হারিয়ে যেতে পারে প্রয়োজনীয় তথ্য। সুতরাং যে সব তথ্য প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সে সকল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে সুফল। তাছাড়া, অনেকক্ষেত্রেই উধঃধ নিজে কোন তথ্য দেয় না, তা থেকে তথ্য বের করে নিতে হয়। আর এটাই হল তথ্য বিশ্লেষণ। প্রতিনিয়ত সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে  ওহভড়ৎসবফ  উবপরংরড়হ প্রয়োজন। তথ্যের সঠিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাস্টমস বিভাগ বাণিজ্য সহজীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা দুটো পরস্পর বিপরীতমুখী উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে। যেমনঃ

ক্স    আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রনয়ণ, উন্নয়ন ও অনুশীলনের মাধ্যমে বেআইনি বাণিজ্য রোধ, সন্দেহজনক অপরাধীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অর্থের প্রবাহ রোধ,  এবং এসবের মাধ্যমে বৈধ বাণিজ্যের অবাধ প্রসার নিশ্চিতকরণ;
ক্স    অংশীজনের সাথে তথ্য, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ;
ক্স    জ্ঞান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণার ক্ষেত্র তৈরীকরণ; এবং
ক্স    কাস্টমস প্রশাসনের দক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করণ।
বাংলাদেশ কাস্টমস এর বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ
আন্তর্জাতিক/আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সংস্থা (খবধফ অমবহপু) হিসেবে কাস্টমসকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যত মুক্ত হচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে তার সাথে সাথে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে। নি¤েœ প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ উল্লেখ করা হলঃ

ক্স    পণ্যের বর্ণনা ও পরিমাণে অসত্য তথ্য, এইচ এস কোডের অপঘোষণা, গুণগতমান সম্পর্কে ভুল তথ্য, অবমূল্যায়ন ইত্যাদির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি এবং মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটন;
ক্স    জাল দলিলপত্র দাখিলের মাধ্যমে অবৈধ বাণিজ্য সংঘটন, রাজস্ব ফাঁকি;
ক্স     আন্তর্জাতিক মেধাসত্ত্ব (ওচজ) ও কপি রাইট লঙ্ঘন/কাউন্টারফেইট পণ্যের আমদানি;
ক্স    কাস্টমসের অপর্যাপ্ত ডিজিটালাইজেশন;
ক্স    প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার অভাব;
ক্স    কন্টেইনার স্ক্যানার এর সাথে এসাইকুডার সংযোগ না থাকা;
ক্স    ওয়েব্রিজের ওজনের তথ্যের সাথে এসাইকুডার তথ্যের সমন্বয়ের অভাব;
ক্স    কন্টেইনার ট্র্যাকিং সিস্টেম, আধুনিক ল্যাবরেটরির অভাব;
ক্স    দুর্বল আন্তঃবিভাগ সমন্বয় ও সহযোগিতা;
ক্স    অংশীজনের সঙ্গে অপর্যাপ্ত অংশীদারিত্ব;
ক্স    মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা;
ক্স    কাস্টমস হাউসসমূহে অভিন্ন চৎধপঃরপব এর অভাব;
ক্স    পণ্য চালান শুল্কায়নসহ খালাসে বিলম্ব;
ক্স    বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং রাজস্ব ফাঁকি;
ক্স    চোরাচালান ও অঘোষিত অর্থনীতি (ওহভড়ৎসধষ ঞৎধফব);
ক্স    যথাযথ/অপর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন মানব সম্পদের অভাব;
ক্স    মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতার সীমাবদ্ধতা;
ক্স    প্রয়োজন ভিত্তিক (ঘববফ নধংব) প্রশিক্ষণের অভাব;
ক্স    যাত্রীর অগ্রিম তথ্য (অচও) চালু না হওয়া; এবং
ক্স    অত্যাবশ্যক অংশীজন যেমনঃ বন্দর, বিএসটিআই, কোয়ারেন্টাইন ইত্যাদি বিভাগের অটোমেশনের ও সংযুক্তির অভাব।

চ্যালেঞ্জসমূহ উত্তরণের উপায় (ডধু ঙঁঃ)

বাংলাদেশ কাস্টমসের সমস্যা/চ্যালেঞ্জসমূহ উত্তরণের জন্য ডিজিটালাইজেশনসহ নি¤œরূপ বিভিন্ন আধুনিকায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছেঃ
অঝণঈটউঅ ডড়ৎষফ সিস্টেমে উন্নীতকরণ
কাস্টমস ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নব্বই দশকের শুরুতে অঝণঈটউঅ সিস্টেম প্রচলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কাস্টমসের ডিজিটালাইজেশনের শুভ সূচনা হয়। প্রথমে খঅঘ ভিত্তিক অঝণঈটউঅ  এবং পরবর্তীতে অঝণঈটউঅ++ সিস্টেম চালুর মধ্য দিয়ে তথ্য ভান্ডারের  ভিত রচিত হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালে  অনলাইন ভিত্তিক অঝণঈটউঅ ডড়ৎষফ সিস্টেম এর মাধ্যমে তা পরিপক্কতা লাভ করে। এই পথ পরিক্রমায় তথ্য ভান্ডার বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ই-এলসি, ই-এক্সপি সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের মধ্যে ই-পেমেন্ট পদ্ধতি চালু হবে। বর্তমানে ব্যবহৃত অঝণঈটউঅ ডড়ৎষফ কার্যক্রমের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি ও খালাস কার্যক্রমে গতিশীলতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসাথে পণ্যের মূল্য, পণ্যের শ্রেণীবিন্যাস ইত্যাদি সংক্রান্ত নানাবিধ তথ্য ও বিভিন্ন রুলিং ইন্টারনেটে সহজলভ্য হওয়ায় কাস্টমস প্রশাসনের দক্ষতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইনটার‌্যাক্টিভ কাস্টমস ওয়েবসাইট
বাংলাদেশ কাস্টমস এর অটোমেশনের অংশ হিসেবে িি.িনধহমষধফবংযপঁংঃড়সং.মড়া.নফ শীর্ষক ওয়েবসাইটের বেটা ভার্সন (ইবঃধ াবৎংরড়হ) চালু করা হয়েছে। এটি একটি আধুনিক, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং ইন্টার‌্যাক্টিভ ওয়েবসাইট যা আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার (ইবংঃ চৎধপঃরপব) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি বিপুল তথ্য ভান্ডার ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য সহজলভ্য করা। এ ওয়েব সাইটে কাস্টমস সংক্রান্ত সকল প্রজ্ঞাপন, তথ্য, আদেশ এবং কাস্টমস রাজস্ব আহরণ সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান সন্নিবেশ ও হালনাগাদ করা হয়েছে। এছাড়াও, এ ওয়েবসাইটে কাস্টমস বিভাগের মাঠ পর্যায়ের দপ্তরসমূহ ও বাংলাদেশ ট্রেড পোর্টালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সরকারী ও বেসরকারী দপ্তরের ওয়েবসাইটের লিংক রয়েছে।

তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের উদারীকরণের ফলে প্রতিনিয়ত আমদানি-রপ্তানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পণ্যচালান দ্রুত ছাড় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সকল কাস্টম হাউসে স্থানীয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একটি কেন্দ্রীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। অঝণঈটউঅ ডড়ৎষফ সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য চালান,আমদানিকারক,রপ্তানিকারক,এজেন্ট ইত্যাদি সনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন পণ্য চালান দ্রুত খালাস হচ্ছে, ঈড়সঢ়ষরধহপব বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে যথাযথ রাজস্ব আহরিত হচ্ছে।
খালাসোত্তর নিরীক্ষার (চঈঅ) ব্যবস্থা
পণ্য খালাসে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে খালাসোত্তর নিরীক্ষার উপর জোর দেয়া হয়েছে।  ডঞঙ’ র ঞৎধফব ঋধপরষরঃধঃরড়হ অমৎববসবহঃ (ঞঋঅ) এর শর্তানুসারে চঈঅ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  চঈঅ কার্যক্রমকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘধঃরড়হধষ ঊহয়ঁরৎু চড়রহঃ (ঘঊচ) বাস্তবায়ন
আমদানি-রপ্তানির সাথে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বিষয়ক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাস্টমস ঘধঃরড়হধষ ঊহয়ঁরৎু চড়রহঃ স্থাপন করছে। এর মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারগণ আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত যে কোন তথ্য বা প্রশ্নের উত্তর সহজেই অনলাইনে পেতে পারবেন। এর ফলে ব্যবসায়ীগণ সঠিক ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।
মেধাস্বত্ত্ব অধিকার (ওচজ) সংরক্ষণ
গবেষণা ও উন্নয়নে উৎসাহ প্রদান এবং নকল ও ভেজাল পণ্যের আমদানি রোধকল্পে বাংলাদেশ ওচজ সংরক্ষনে তৎপর রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ওচজ সংক্রান্ত সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ওচজ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নসহ ওচজ লঙ্ঘনক্রমে আমদানিকৃত পণ্য, নকল পণ্য (ঈড়ঁহঃবৎভবরঃ মড়ড়ফং) পরিবেশ, উদ্ভাবক এবং জন-জীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বিধায় এ ধরনের পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই সেল হতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ সক্ষম হবে।
অগ্রিম রুলিং পদ্ধতি (অফাধহপব জঁষরহম ঝুংঃবস) প্রবর্তন
ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে পণ্যের শ্রেনীবিণ্যাসের অগ্রিম রুলিং পদ্ধতি চালু করেছে। এ সম্পর্কিত বিধিমালা জারী করা হয়েছে। এর ফলে কোন পণ্য আমদানির পূর্বেই আমদানিকারকগণ বা নতুন উদ্যোক্তাগণ পণ্যের ঐ.ঝ. ঈঙউঊ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় ফরম ডাউনলোড করে অনলাইনেই এর আবেদন করা যাবে। অফাধহপব জঁষরহম এর বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
কন্টেইনার স্ক্যানার পদ্ধতি (ঘড়হ-ওহঃৎঁংরাব ওহংঢ়বপঃরড়হ) প্রবর্তন
আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ঘোষণা যাচাই ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঘড়হ-ওহঃৎঁংরাব ওহংঢ়বপঃরড়হ (ঘওও) এর জন্য ৪টি বৃহৎ বন্দরে কন্টেনার স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ঘওও পদ্ধতি পরিচালনা ও পণ্যের কায়িক পরীক্ষার বিষয়ে ঝঃধহফধৎফ ঙঢ়বৎধঃরহম চৎড়পবফঁৎব (ঝঙচ) এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। স্ক্যানিং এ প্রাপ্ত ইমেইজ এসাইকুডা সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অহঃর-গড়হবু খধঁহফবৎরহম ও অহঃর-ঞবৎৎড়ৎরংঃ ঋরহধহপরহম কার্যক্রম
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনসহ দেশীয় অর্থের অবৈধ প্রবাহ বন্ধে বাংলাদেশ কাস্টমস সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ লক্ষ্যে  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের ইধহমষধফবংয ঋরহধহপরধষ ওহঃবষষরমবহপব টহরঃ (ইঋওট) এর সংগে যৌথভাবে কাজ করছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, মানি লন্ডারিং আইনে কাস্টমস কর্মকর্তাদের তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ধরণের
অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য প্রোফাইল আকারে ডাটা বেস এ সংরক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধীর অবস্থান, অপরাধের প্রকৃতি ও পদ্ধতি এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের সংগে যোগসূত্র চিহ্নিত করে কার্যকরভাবে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
ঘধঃরড়হধষ ঝরহমষব ডরহফড়ি (ঘঝড) বাস্তবায়ন
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ডড়ৎষফ ঞৎধফব ঙৎমধহরুধঃরড়হ (ডঞঙ) এর নবম মিনিস্টেরিয়াল সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঞৎধফব ঋধপরষরঃধঃরড়হ অমৎববসবহঃ এর অন্যতম ওহংঃৎঁসবহঃ হিসেবে ওহঃবৎধপঃরাব ঘধঃরড়হধষ ঝরহমষব ডরহফড়ি (ঘঝড) ব্যবস্থা প্রবর্তন  করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থা চালু  হলে ব্যবসায়ীগণকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক দপ্তরে বার বার যেতে হবে না। আমদানি-রপ্তানির সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ তাদের লাইসেন্স, পারমিট, সার্টিফিকেট, ছাড়পত্র ইত্যাদি অনলাইনে ঘধঃরড়হধষ ঝরহমষব ডরহফড়ি (ঘঝড) তে প্রদান করবেন। এ ধরণের  তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চোরাচালান, অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন দমনের ক্ষেত্রে  সর্বাত্মক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
অঁঃযড়ৎরুবফ ঊপড়হড়সরপ ঙঢ়বৎধঃড়ৎ (অঊঙ) চালুকরণ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে এর সাúøাই চেইন এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন তথা আমদানিকারক, ট্রান্সপোর্টার, শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রভৃতির গ্রহণযোগ্যতা যাচাই এর জন্য আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা বিষয়ক অঁঃযড়ৎরুবফ ঊপড়হড়সরপ ঙঢ়বৎধঃড়ৎ (অঊঙ) পদ্ধতি বাংলাদেশেও প্রবর্তনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। সাúøাই চেইনের অন্তর্ভুক্ত যে সকল ইকোনমিক অপারেটর  ডঈঙ এর নির্ধারিত মান ও শর্ত পূরণে সক্ষম হবে- তাদের অঊঙ স্ট্যাটাস প্রদান করা হবে। অঊঙ ব্যবস্থায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী, উন্নত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা (ওহঃবৎহধষ ঈড়হঃৎড়ষ ঝুংঃবস) এবং অতীত রেকর্ডে প্রমাণিত বিশ্বস্ত ব্যবাসায়ীগণ ফাস্ট ট্র্যাক সুবিধা পাবেন।  বাংলাদেশে ডিজিটাল কাস্টমস এর বর্তমান প্রেক্ষাপটে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে (অঊঙ) স্ট্যাটাস প্রদান  অনেকটা সহজ হবে।
অন্যান্য সংস্কার
(ক)   বাংলাদেশ কাস্টমস  চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে যা দেশে বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর  ২০১৩ সনের জানুয়ারী হতে ২০১৬ সনের ডিসেম্বর পর্যন্ত চোরাচালানকৃত ৫০১ কোটি টাকা মূল্যমানের ১০৬৫.৭২ কেজি স্বর্ণ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার এক কূটনীতিক এর কাছ থেকে ২৭ কেজি স্বর্ণ আটক করে বাংলাদেশ কাস্টমস জওখঙ (জবমরড়হধষ ওহঃবষষরমবহপব খরধরংড়হ ঙভভরপব) এর ভূয়সী প্রশংসা কুুড়িঁয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ডঈঙ ও জওখঙ এর ঈঊঘ (ঈঁংঃড়সং ঊহভড়ৎপবসবহঃ ঘবঃড়িৎশ) এবং ঝঞঈঊ (ঝঃৎধঃবমরপ ঞৎধফব ঈড়হঃৎড়ষং ঊহভড়ৎপবসবহঃ ) এর তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারকারী অন্যতম একটি দেশ।
(খ) টঘঙউঈ এর তত্বাবধানে কাস্টম হাউস, চট্টগ্রামে একটি চড়ৎঃ ঈড়হঃৎড়ষ টহরঃ স্থাপন করা হয়েছে। এ ইউনিট চোরাচালান, মাদক দ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র, বিলুপ্ত প্রাণী পাচার ইত্যাদি রোধকল্পে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।
(গ) বিমান ও সড়কপথে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র আমদানি রোধকল্পে অফাধহপব চধংংবহমবৎ ওহভড়ৎসধঃরড়হ (অচও)  বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাস্টমস কাজ করছে। এ পদ্ধতি চালু হলে বন্দরে যাত্রী প্রবেশের আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে। এর ফলে পূর্ববর্তী তথ্যের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীকে চিহ্নিত করা যাবে। একইসাথে সাধারণ যাত্রীর শুল্ক আনুষ্ঠানিকতা অপেক্ষাকৃত দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
(ঘ) কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমীকে আন্তর্জাতিক  পর্যায়ে উন্নীতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের মানোন্নয়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কাস্টমস ডাটা বেইজে সংরক্ষিত তথ্য উপাত্তের যথাযথ বিশ্লেষণ করে গবেষণালব্ধ জ্ঞান দ্বারা শুল্ক ব্যবস্থাপনায় গুনগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি
আধুনিক কাস্টমসে রাজস্ব আহরণ মূল লক্ষ্য না হলেও উন্নত ঈড়সঢ়ষরধহপব ব্যবস্থার ফলে দেশ এর সুফল পাচ্ছে। ১৯৭২-৭৩ সালে কাস্টমস এর মোট লক্ষ্যমাত্রা ৫২ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৪.১২ কোটি টাকা।  ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪২,৫০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৫,১৯৩.৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৪৪ বছরে কাস্টমস রাজস্ব ৮৩৫ গুণ বেড়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছরে বেড়েছে প্রায় ১৮ গুণ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আহরণকৃত মোট রাজস্বে কাস্টমস এর অবদান ২৯.০৬% ।
উপসংহার
এবারের কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য “উধঃধ অহধষুংরং ভড়ৎ ঊভভবপঃরাব ইড়ৎফবৎ গধহধমবসবহঃ” কাস্টমস প্রশাসনের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা বিধান, দ্রুত পণ্য খালাসের মাধ্যমে বিশ^ বাণিজ্য ব্যবস্থায় গতিশীলতা অব্যাহত রাখা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান, রেগুলেটরি অথোরিটি ও স্টেকহোল্ডারদের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূূর্ণ। বর্তমান সরকার ঘোষিত “ডিজিটাল বাংলাদেশ” এর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহের মাধ্যমে তা সকলের জন্য সহজ লভ্য করা। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে তথ্য বিনিময় ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাণিজ্য সহায়ক কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামগ্রিক আন্তর্জাতিক  বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে, যা নিঃসন্দেহে বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তথ্য প্রযুক্তির ইতিবাচক বিকাশে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কাস্টমস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও বর্তমান সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বাংলাদেশ কাস্টমস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সদা জাগ্রত।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here