৫ জনের ফাঁসি বহাল জুবায়ের হত্যায়

0
807

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনের যাবজ্জীবনের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

Advertisement

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রানা কাউসার। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন— প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের কর্মী জুবায়েরকে কুপিয়ে জখম করে তারই সংগঠনের একটি পক্ষ। পরে তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাতেই তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই ৯ জানুয়ারি ভোরে মারা যান জুবায়ের। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৩ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। হত্যাকাণ্ডের দেড়বছর পর মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে এলে তা হাকিম আদালত থেকে পাঠানো হয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজন খালাস পান। নিম্ন আদালতে দণ্ডিতদের মধ্যে কারাগারে থাকা ফাঁসির আসামি রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং যাবজ্জীবনের পাঁচজন হাই কোর্টে আপিল করেন। সেই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথি আসে হাই কোর্টে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে মোট আট দিন শুনানি করে হাই কোর্ট। এরপর ৯ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here