আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। আর দুই কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। পরে খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। ৬ সপ্তাহের মধ্যে এসব নির্দেশনা পূরণ করলে তারা জামিনে মুক্ত হতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আদালতে আজ তাদের পক্ষ থেকে একটি হলফনামা দেয়া হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, পার্বত্য এলাকায় তাদের কাছে ৩৫ লাখ গাছ আছে। প্রতিটি গাছ গড়ে আট হাজার টাকা করে বিক্রি করে ২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা হবে। এরপর আদালত গাছ বিক্রি করে টাকা জমা দেয়ার শর্তে জামিন দেন। দুই আসামি যাতে কারাগারে বসেই গাছ বিক্রির জন্য স্বাক্ষর দেয়া এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানিকতা সারতে পারেন, সেজন্য কারা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে। তিনি আরও বলেন, ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশনের সিইও ড. শামসুল হক ভূঁইয়া এমপির তত্ত্বাবধানে সবকিছু হবে। যদি গাছ বিক্রি করে ২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে নগদ ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেবেন তারা। এর অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠাতে হবে। খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালতের আদেশ প্রতিপালন করলে তারা জামিনে মুক্তি পাবেন।
দুদক ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৫ মে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এর মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ১৯ জন এবং ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেডে দুর্নীতির মামলায় ৪৬ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন প্রজেক্টের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাড়ে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী। আর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রজেক্টের নামে ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে। ওই অর্থ আত্মসাতের ফলে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ২৪ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ দুই মামলায় আসামিদের বিচার শুরু করেন। অভিযোগ গঠন হওয়ার আগেই এ দুই মামলায় ২০ জুলাই পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে গেলে ৩১ জুলাই জামিন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর দুদকের আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ শর্তসাপেক্ষে জামিনের এই আদেশ দিল। রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে তারা কারাগারে আছেন।
