মামলার জট কমাতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও পুলিশ প্রশাসনকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রোববার বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল বার সমিতির ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আইন জনগণের জন্য। আইন প্রয়োগে ধনী ও দরিদ্রের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে আইনজীবীরা ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজ থেকে অসাম্য ও অবিচার দূর করতে আপনাদের ভূমিকা পালন করতে হবে।
আবদুল হামিদ বলেন, বিচার ব্যবস্থায় আইনজীবীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং আইনজীবী পেশা এমন একটি পেশা যেখানে সমাজের কল্যাণের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। আইনজীবী পেশাকে একটি মহৎ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অসহায় ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনো ফি না নিয়ে অন্তত একটি মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আপনাদের প্রতি একটি অনুরোধ রাখতে চাই, প্রত্যেক আইনজীবী বছরে অসহায় দুস্থদের অন্তত একটি মামলায় কোনো ফি না নিয়ে পরিচালনা করবেন। আপনারা যদি এটি করেন তাহলে সমাজে পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হবেন। রাষ্ট্রপতি নিজেও একজন আইনজীবী ছিলেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অসচ্ছলতার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ আইনের আশ্রয় নিতে পারে না। আবদুল হামিদ বলেন, যারা অসচ্ছল, অসহায় ও বঞ্চিত তাদের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যাক্ট-২০০০ অনুমোদন করেছে। সংসদে আইনজীবীদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংসদ আইন তৈরির কেন্দ্র এবং ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন আইনজীবী। তবে এই সদস্য সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, টাঙ্গাইল বার ১৮৮৭ সালে গঠিত হয়। এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন বার। এই বারটি জনগণের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই বারের বিজ্ঞ আইনজীবীরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মহান ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। টাঙ্গাইল বার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুলতান উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মোহসিন সিকদার প্রমুখ। এর আগে রাষ্ট্রপতি টাঙ্গাইল বার সমিতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
