বহুল আলোচিত মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মনিরের নামে থাকা রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ৪০টি প্লট ও ৬১০ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের তালিকা নিয়ে তদন্ত করছে দুদক। এছাড়া, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও অনেক সম্পদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা অর্থের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের অঢেল সম্পদের তথ্য আছে দুদকের হাতে। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে মনিরের নামে ৬১০ কোটি টাকার ও তার স্ত্রীর নামে প্রায় ৬ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। আরও কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই পর্যায়ে আছে। মনির ও তার স্ত্রীকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ইস্যুর জন্য সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।’
এ বিষয়ে দুদকের পরিচালক প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘মনিরের বিরুদ্ধে একাধিক অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। যত দ্রুত সম্ভব অনুসন্ধান শেষ করা হবে।’
গোল্ডেন মনিরের নামে পাওয়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে—রাজধানীর বাড্ডায় রাজউক পুনর্বাসন প্রজেক্টের ২.৫০ কাঠা জমিতে ৬ তলা ভবন, উত্তরার জনপথ এলাকায় ৫ কাঠা জমি (প্লট নং ২৩ ও ২৪), উত্তরার জমজম টাওয়ারে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, বারিধারার জে ব্লকের প্রগতি সরণিতে ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডার বারিধারা জে ব্লকে সাড়ে ৪ কাঠা জমি, একই ব্লকের ১৩ নম্বর রোডে ৪ কাঠা জমি, ১ নম্বর রোডে ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডা রাজউক এলাকায় ১১ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠা জমি (১০ নম্বর প্লট), ওই এলাকায় ৪২ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, ৩২ নম্বর ব্লকে আড়াই কাঠা জমি, বাড্ডার রাজউক এলাকার ১১ নম্বর রোডে ৪৪ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, একই এলাকায় ৩৭ নম্বর প্লট ও ৪১ নম্বর প্লটে ৫ কাঠা জমি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমি, বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠার প্লট, এর পাশেই পৌনে ৩ কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট ও পৌনে ৩ কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে পৌনে ৪ কাঠা প্লট, বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠার প্লট, উত্তরায় হরিরামপুরে ৩৬ শতাংশ জমি, একই এলাকায় ৫ কাঠার প্লট, উত্তরা এলাকায় নলভোগ মৌজায় ৪ কাঠার প্লট, পূর্বাচল প্রকল্পে ৫ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠার প্লট, বাড্ডায় রাজউক এলাকায় ১০ নম্বর সড়কে আড়াই কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে মগর চোর মৌজায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমিসহ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে আত্মীয়-স্বজনের নামে শত শত কোটি টাকার জমি।
অভিযোগউঠেছে, মনিরহোসেনগণপূর্তওরাজউকেরকর্মকর্তাদেরসঙ্গেআঁতাতকরেসরকারিকোটিকোটিটাকারপ্লটনিজেরনামেকরেনিয়েছেন।বিনিময়েসরকারিকর্মকর্তাদেরকোটিকোটিটাকাঘুষদিয়েছেন।
শুধুনিজেরনামেনয়, স্ত্রীরওশনআক্তারেরনামেওসম্পদেরপাহাড়গড়েছেনমনির।৫০০–৬০০ভরিসোনাসহবাড়ি–গাড়ি–ফ্ল্যাটকিনেছেনস্ত্রীওস্বজনদেরনামে।এরমধ্যেস্ত্রীরওশনআক্তারেরনামেবাড্ডায়আছেপৌনে৩কাঠারএকটিপ্লট, একইমৌজায়১১নম্বররোডেআড়াইকাঠারপ্লট, বারিধারাভাটারাথানাএলাকায়আড়াইকাঠারআরেকটিপ্লট, গুলশান–১এলাকায়৬নম্বররোডেতিননম্বরবাড়িতেপ্রায়সাড়ে৩হাজারস্কয়ারফিটেরএকটিফ্ল্যাট, যারআনুমানিকমূল্যপ্রায়৫কোটিটাকা।
মনিরেরঅস্থাবরসম্পদেরমধ্যেআছেমনিরবিল্ডার্সের৬০০শেয়ার, মেসার্সগালসঅটোকারসলিমিটেডের১৬৫০টিশেয়ার, একটিসেডানকার, মিৎসুবিশিমডেলেরএকটিজিপ, একটিপিস্তল, বারোটিশটগানসহঅঢেলসম্পদ।
অনুসন্ধানকালেমনিরহোসেনেরআয়করনথি, বিভিন্নসময়েবিভিন্নসংবাদমাধ্যমেপ্রকাশিততথ্যপর্যালোচনাকরেদুদকদেখতেপায়যে, প্রকৃতপক্ষেতারবৈধআয়েরউল্লেখযোগ্যকোনোউৎসনেই।তিনিরাজউকেরদালালিব্যবসায়অবৈধপন্থায়অর্জিতঅর্থদিয়েএসবসম্পদেরমালিকহয়েছেন।
মনির৬১০কোটি২লাখ২৫হাজারটাকারজ্ঞাতআয়বহির্ভূতসম্পদদখলেরাখায়তারবিরুদ্ধেসম্পদবিবরণীরনোটিশজারিরসুপারিশকরেছেনঅনুসন্ধানকর্মকর্তা।এছাড়া, তারস্ত্রীরওশনআক্তারেরনামে৫কোটি৭৫লাখ৯২হাজারটাকারজ্ঞাতআয়বহির্ভূতঅবৈধসম্পদেরতথ্য–প্রমাণপাওয়ায়তারবিরুদ্ধেওসম্পদবিবরণীরনোটিশইস্যুরসুপারিশকরেছেনঅনুসন্ধানকর্মকর্তামো. শাসছুলআলম।
২০০৯সালেএকবারমনিরহোসেনসম্পদেরহিসাবদুদকেজমাদেন।তাইদুদকএবার২০০৯সালেরপরেরহিসাবসহসম্পদেরহিসাবজমাদিতেবলেছে।
২০১২সালেরএপ্রিলেমনিরহোসেনেরবিরুদ্ধে১কোটি৬১লাখটাকারঅবৈধসম্পদঅর্জনেরঅভিযোগেমামলাকরেছিলদুদক।দুদকেরতৎকালীনউপ–পরিচালকহারুনঅররশীদবাদীহয়েএমামলাকরেন।আদালতেরিটসহবিভিন্নজটিলতায়মামলাটিরতদন্তএখনওশেষহয়নি।কয়েকজনকর্মকর্তাবদলেরপরবর্তমানেদুদকেরউপ–পরিচালকমোশাররফহোসেনমৃধাএমামলারতদন্তকরছেন।
২০নভেম্বরমধ্যরাতেমেরুলবাড্ডারবাড়িতেঅভিযানচালিয়েমনিরহোসেনকেগ্রেপ্তারকরের্যাব।এসময়বিপুলপরিমাণনগদঅর্থওস্বর্ণালঙ্কারজব্দকরাহয়।
স্বর্ণচোরাচালানেরসময় ‘গোল্ডেনমনির’ নামেপরিচিতিলাভকরেনমনিরহোসেন।২০০১সালেরপরসোনাচোরাচালানথেকেসরেএসেজমিরব্যবসারদিকেনজরদেনমনির।

