অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক:
দেশের ভেতরে ১০০টি নতুন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে আপাতত বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে ৪টি। বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোন অথরিটি (বিইজেডএ)-এর অধীনে এ বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিক ভাবে ইতিমধ্যে ২১টি অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে শুরু হবে জমি অধিগ্রহনের প্রক্রিয়া। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মোট ১০০টি অঞ্চলেই বিশেষ এই ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।
প্রাথমিক ভাবে চট্টগ্রামের মিরেরসরাই ও আনোয়ারা, বাগেরহাটের মংলা ও মৌলভীবাজারের শেরপুরে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এই প্রকল্প। এসব অঞ্চলে শিল্প প্লট তৈরিসহ রপ্তানি বানিজ্য প্রসারিত করতে সকল ধরণের সুবিধাদি প্রদান করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর দেশের চাহিদা মিটিয়ে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা যাবে বাংলাদেশ থেকে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দরের সুবিধাকে কাজে লাগাতে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে সবার আগে। ইতিমধ্যে সম্ভ্যাবতা যাচাই শেষে ২০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরায় ও মিরসরাই এবং মৌলভীবাজারের শেরপুর অঞ্চলের জন্য জাপান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (জেডিআই), ম্যাক্সওয়েল স্ট্যাম্প ও শেলটেক যৌথভাবে সম্ভ্যাবতা যাচাই করেছে। গহিরায় প্রায় ৬৩৫ একর জমিতে ৩৭০ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টি হবে জাহাজ নির্মাণ শিল্প সংশ্লিষ্ট। এর বাইরে সিমেন্ট শিল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ২০১৭ সালে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরুর পরিকল্পনা বিইজেডএর। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি হবে ইছাখালী চরের ৭ হাজার ৭১৬ একর জমিতে। এতে ১ হাজার ২২২ কারখানার প্লট তৈরি করা হবে। প্রাধান্য পাবে পোশাক খাত, মোটরবাইক, স্টিলসহ অন্যান্য মেশিনারিজ শিল্প। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। শেরপুরে ৩৫২ একর জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় প্রাথমিক কাজ শেষে পরবর্তী পরিকল্পনার কাজ চলছে।

