হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এর শতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক ডাক টিেিকটের উদ্বোধন করেন রেল মন্ত্রী

0
728

আজ রেলভবনে পদ্মা নদীর উপর নির্মিত রেলওয়ের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এর শতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক ডাক টিেিকটের উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এমপি।
উদ্বোধন উপলক্ষে মন্ত্রী এই সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন এটি শুধু একটি সেতু নয় । ইহা আমাদের  ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এটি শুধু বাংলাদেশ নয় ,সারাবিশ্বের মধ্যে অনন্য স্থাপত্য।
মন্ত্রী এ সময় উল্লেখ করেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নির্মিত অনেক স্থাপত্যের মধ্যে অন্যতম একটি হল হার্ডিঞ্জ ব্রিজ যা বাংলাদেশের একটি তাৎপর্যপূর্ন ইতিহাস তুলে ধরে। ১৯১০ থেকে ১৯১৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়োজিত ভাইস রয় লর্ড হার্ডিঞ্জ এর নামে ব্রিজটির নামকরণ করা হয়। ১০০ বৎসরের ও বেশী সময় ধরে প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর ব্রীজটি অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য ১৯১৫ সালের ০১ জানুয়ারি ব্রীজটির উপর দিয়ে পরীক্ষামুলক ট্রেন পরিচালনা করা হয় এবং একই বৎসরের ০৪ মার্চ লর্ড হার্ন্ডিঞ্জ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটির উদ্বোধন করা হয়। ব্রীজটির দৈর্ঘ্য ১.৮ কি.মি.। মূল ব্রীজটি নির্মাণে ১৫টি প্রি¬ফেব্রিকেটেড ইস্পাত ট্রাস এবং কংক্রিটের তৈরী ১৬টি পিয়ার ব্যবহার করা হয়; ব্রীজের মৌলিক কাঠামোটি এক প্রকার মাইল্ড ইস্পাত দিয়ে তৈরী। ইহা সুরক্ষিত করার জন্য ব্রীজের দুই পার্শ্বে নদী শাসনের লক্ষ্যে ব্রীজ থেকে উজানে ৯১০ মিটার এবং ভাটিতে ৩০০ মিটার করে গাইড বাধ নির্মাণ করা হয়।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স¦াধীনতা যুদ্ধের সময় আকাশ থেকে নিক্ষেপিত বোমার আঘাতে আংশিকভাবে ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে জাপান সরকারের সহযোগিতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ব্রীজটি মেরামত করা হয়। ২০১৫ সালের ০৪ মার্চ ইহা সাফল্যের সাথে ১০০ বৎসর জীবনকাল অতিবাহিত করেছে এবং এখনো তা যথেষ্ট কার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে প্রতিদিন এই সেতুর উপর ২৪ টি ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে আন্তনগর ১৬ টি, মেইল ট্রেন ৬ টি ও লোকাল ট্রেন ২ টি। এটি পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে অবস্থিত।
রেল মন্ত্রী এ সময় ২৫ টাকা মূল্যমানের ২টি স্মারক ডাকটিকেট,৫০ টাকা মূল্যমানের ১টি স্যুভেনির শীট, ১০ টাকা মূল্যমানের ২টি উদ্বোধনী খাম,ও ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ড স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবমুক্ত করেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন ,বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্রসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here