আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ হামাসের কঠোর প্রতিরোধে ইসরাইল নাস্তানাবুদ ।দীর্ঘদিনের ক্রমাগত বর্বোরচিত নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের গাজাভিত্তিক স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস যোদ্ধারা। শুরুর দিনে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় প্রাণ হারায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি ও বিভিন্ন দেশের নাগরিক । এছাড়াও তারা আরও ২৪০ জনের বেশি ব্যক্তিকে ইসরায়েল থেকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসেন। হামাসের এই সাহসিক কর্মকাণ্ডে কিংকর্তব্য বিমূর হয়ে যায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
তবে ওই দিনই দখলদার ইহুদি গোষ্ঠি যুদ্ধ ঘোষণা করে গাজায় নির্বিচারে বোমা হামলা করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শুরু করে। এরপর ২৮ অক্টোবর শুরু করে স্থলঅভিযান। ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত চৌদ্দ হাজার আট শতাধিক বেশি ফিলিস্তিনি হত্যা করা হয়।যার মধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু।
এছাড়াও ৩০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।ঘর ছাড়া হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।ধ্বংস করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও ধর্মীয় স্হাপনা সমূহ।
এরিমধ্যে চারদিনের যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কালে গাজায় কোনো হামলা এবং কাউকে গ্রেফতার করবে না ইসরায়েলি বাহিনী।
শর্তানুযায়ী প্রতিদিন গাজায় ঢুকতে দেওয়া হবে ২০০ ত্রাণবাহী ট্রাক, চারটি গ্যাসের ট্রাক ও এক লাখ ৩০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল।চিকিৎসা সরঞ্জামাদিও থাকবে এর আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া হামাসের হাতে আটক ৫০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। অপরদিকে ইসরায়েল কারাগার থেকে মুক্তি দেবে ১৫০ ফিলিস্তিনিকে।
এতে একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইসরায়েল। কারণ ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি মানেই হামাসের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাওয়া।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন গাল্ফ স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক এবং কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অধ্যাপক বিশ্লেষক মাহজুব জাভেইরি।
তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনির স্বাধীনতাকামী হামাসের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন ফিলিস্তিনের তাদেব বন্ধিদের
মুক্তি। এতে দখলদার ইসরায়েলের জন্য সংকট ও উদ্ভেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাতারভিত্তিক শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র সাথে সাক্ষাৎকারে জাভেইরি আরও বলেন, যখন ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি কারাগার থেকে বের হয়েছে, যে মূহুর্তে তাদের মুক্তির জন্য আলোচনা করেছে তখন তারা বের হচ্ছে। বাস্তবিকভাবে তারা [গাজায়] ‘ক্ষমতায়’র অধিকারী হয়ে গেছে।সূত্রঃ আল জাজিরা ।

