নাজনীনঃ হাউজিং ব্যবসায় প্রতারণা আমাদের দেশে নতুন কোন ঘটনা নহে। প্রতিনিয়তই এই ব্যবসায়ীদের দ্বারা লাখ লাখ টাকা হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারন জনগন। হাউজিং ব্যবসার রাষ্ট্রীয় নীতিমালার লেশমাত্র নেই অথচ চটকদার বিজ্ঞাপনের সাথে জমকালো প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে সাধারন জনগনের চোখে ধুলো দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেরা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে এসব হাউজিং কোম্পানীর মালিকরা। একটুকরো জমি কেনার জন্য জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিশ্বাস করে প্রতারকদের হাতে তুলে দিচ্ছে সাধারন মানুষ। কিন্তু সাধারন মানুষের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এইসব হাউজিং কোম্পানীর মালিকেরা কোটি টাকার গাড়িতে করে চলাফেরা করে, বউ পোলাপান নিয়ে কানাডা, অষ্ট্রেরিয়া, আমেরিকায় গিয়ে পিকনিক করেন। ভোগ বিলাসে, আরাম আয়েশে জীবন যাপন করেন। আবার গ্রাহকের টাকা খরচ করে গ্রাহকদেরকেই উল্টো হয়রানী করে। তাদের পেছনে পুলিশ লেলিয়ে দেন। সন্ত্রাসী দিয়ে আক্রমন করায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটায়। ২০/৩০ বছর চলে যায়, টাকা বা প্লট কোনটাই বুজে পায় না গ্রাহক। টাকা ফেরত চাইতে গেলে বা প্লট বুঝে পাওয়ার কথা বলতে হাউজিং কোম্পানীতে গেলে শোনা যায়, আপনে পরে আসনে এমডি স্যার মন্ত্রীর সাথে মিটিংয়ে আছে, পরে আসলে বলে স্যার ব্যস্ত আছে এখন লাঞ্চে গেছে। এভাবেই কটে যায় যুগের পর যুগ। এই সব প্রতারকের লাগাম টেনে ধরার মতো রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্র যেন পুরোপুরিই ব্যর্থ। জনগনের নিকট থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা আজ সমাজের উচু তলার মানুষ সেজে আছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আবার ব্যবস্থা নিলেও এসব প্রতারক চক্র পাচ্ছে লঘুদন্ড। গ্রাহকের টাকাই গ্রাহকের বিরুদ্ধে খরচ করে তারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এসব প্রতারকদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের একজন বনানী প্রপার্টিজ ডেভলপমেন্ট লিঃ এর বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস শফিক আহম্মেদ। সে বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের নামে সাধারন জনগনের নিকট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আমেরিকায় সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছেন। তার কোম্পানীতে টাকা দিয়ে গত ২০ বছর ধরে তার পেছনে ঘুর ঘুর করছে শত শত গ্রাহক। এক টুকরো জমির আশায় কেউ চাকুরী জীবনের পেশনের টাকা, কেউ বসতভিটা বিক্রয়ের টাকা, কেউ উচ্চ সুদে ঋণের টাকা, কেউবা শেষ সম্বল বিক্রয় করে শফিকের কাছে তুলে দিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অন্যে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মেশিনশ্যান শফিক আহম্মেদের বিরুদ্ধে বনরূপা আবাসিক প্রকল্পে প্লট বুকিং দেয়া শত শত গ্রাহকের অভিযোগের আলোকে অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ানক সব চিত্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনানী প্রপার্টিজ ডেভলপমেন্ট লিঃ এর আওতাধীন বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস শফিক আহম্মেদ। তার বাবা মরহুম হাজী সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত কিছু জমি ও নিজের ক্রয়কৃত কিছু জমি নিয়ে বিশাল আকারে অন্যে জমি সাথে নিয়ে ১২শ প্লটের একটি আবাসন প্রকল্প বনরূপা আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলেন। এর মধ্যে সে ১২শ প্লটই সাধারন জনগনের কাছে বুকিং দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ২০০৫ সাহাবুদ্দিনের মৃত্যু হওয়ার পর তার ছেলে এস শফিক আহম্মেদ বাপের প্রতারনার মেশিন নিজের কাধে তুলে নেন। যদিও শফিক আহম্মেদ তার বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় ১২শ প্লট মালিকের থেকে প্রাপ্ত টাকায় নিজেকে আমেরিকায় সেটেল্ড করেছিলেন। আমেরিকায় গড়ে তুলেন নিজের স্থায়ী জীবন। অথচ অদ্যবধি ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও শত শত প্লট মালিকই বুঝে পাচ্ছেনা তাদের স্বপ্নের জমি এক টুকরো প্লট। শফিকের নিকট টাকা দিয়ে অনেকেরই ঝরছে চোখের জল। অনেকেই টাকা ফেরত পেতে বা প্লট বুঝে পেতে ধরনা ধরছে দ্বারে দ্বারে। একটি সুত্র জানায়, সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ ১২শ প্লট বিক্রির পরিকল্পনা হাতে নিয়েই প্রকল্পটি চালু করেন। মুলত সেখানে তার নিজের জমির পরিমান ছিল খুবই কম। ১২শ প্লটের নকশায় যেসব জমির মালিকরা পড়বে তাদের নিকট থেকে ঐ জমি ক্রয় করে প্লট বুকিংকারীদের প্লট বুঝিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু এসব জমির মালিক পক্ষরা জানেই না যে তাদের জমি বনরূপা প্রকল্পের নিকট বিক্রয় করতে হবে। এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ঐ সব জমির মালিকরা তাদের জমি বনরূপার কাছে অনেকেই বিক্রয় করছে না। অথচ তাদের জমি প্লট আকারে সাধারন জনগনের কাছে বিক্রয় করে দিয়েছে বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ ও তার ছেলে এস শফিক আহম্মেদ। এস শফিক আহম্মেদ এখন আমেরিকার সিটিজেন। এদিকে প্লট না পেয়ে ১২শ গ্রাহক মরলো কি বাচলো তা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যথা নেই। গুলশান-২ এর রোড নং- ৪৬ এর ৩৪ সেবা হাউজের ৪র্থ তলায় বনানী প্রপার্টিজের আলীশান অফিসে ঢুকলে যাদেরকে চোখে পড়ে তাদের কেউ জিআইজির খালতো ভাই, কেউ মন্ত্রীর বন্ধু, কেউ কমিশনারের খালতো ভাইয়ের শালা, আবার কেউ অবসর প্রাপ্ত আর্মি অফিসার সহ ইত্যাদি ইত্যাদি। যাদের অনেকই প্লট বিক্রির জন্য মক্কেল ধরে অফিসে এনে কমিশন খেছেন ইতিপূর্বে। তবে আমেরিকান সিটিজেন এস শফিক আহম্মেদ কোথা আছে কেউ তার সম্পর্কে কোন কিছুই বলে না।

