হাউজপ্লান্ট কর্মক্ষেত্রে মনমেজাজ ভালো রাখে

0
573

অফিসে এলেই মনমেজাজ খিঁচড়ে যায়? বস বা কাজের চাপকে আসলে দোষ না দেয়াই উত্তম। কারণ, কাজ করাটাই আপনার কাজ। আর তা বের করে নেয়াটাই বসের কাজ। কাজ নিয়ে মন খারাপ করার চেয়ে বরং মেজাজ নিয়ে কিছু করা যাক। কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রের পরিবেশে সামান্য পরিবর্তনই মনমেজাজের ওপর অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে নিজস্ব ডেস্ক বা কিউবিকলটিকে ঘর থেকে নিয়ে আসা হাউজপ্লান্ট (ঘরে টবে রোপণ করা ছোট ছোট গাছ) দিয়ে সাজিয়ে তোলার কথা।

Advertisement

‘জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি: অ্যাপ্লায়েড’-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, অফিসে কাজের জায়গাটিকে যদি একটু ছোটখাটো গাছপালা দিয়ে সাজিয়ে তোলা যায়, তাহলে একদিকে যেমন কর্মীর মনমেজাজ ভালো থাকে, তেমনি উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। অফিসের ন্যূনতম সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্ন তথা প্রায় শূন্য ডেস্কের চিরায়ত ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা থেকে একদল ব্রিটিশ ও ডাচ গবেষক সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণায় উদ্যোগী হন। বড় বড় বাণিজ্যিক অফিসে এ নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালান তারা। অফিসে চিরাচরিত সাদামাটা পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন সবুজ প্রাণবন্ত পরিবেশকে। গবেষণাটিকে সফলই বলা চলে। কারণ তারা দেখতে পেয়েছেন, অফিসে ছোট ছোট গাছের উপস্থিতি কর্মক্ষেত্রের পরিবেশকে করে তোলে আরো প্রাণবন্ত ও উৎপাদনশীল। গবেষণায় উঠে আসা ফলটির সপক্ষে একটি যুক্তি হতে পারে, অফিসে পরিবেশের সবুজায়ন কর্মীদের তাদের কাজের সঙ্গে দৈহিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে আরো সংযুক্ত করে তোলে। এছাড়া গাছের উপস্থিতির কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও রয়েছে। কারণ এগুলো বাতাস পরিশোধনকারী হিসেবে কাজ করে। সে ক্ষেত্রে কাজের জায়গাটির বাতাসের মান রক্ষা ও সাধারণ দূষণ থেকে সুরক্ষা— দুটোই নিশ্চিত করে হাউজপ্লান্টের উপস্থিতি। ডেস্কের ওপর মনমেজাজ ভালো করে তোলা একটি গাছের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল-অনুজ্জ্বল কোনো ধরনের জানালার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ হাউজপ্লান্ট হিসেবে ব্যবহূত গাছগুলোর অনেক প্রজাতি আছে, যা স্বল্প আলোয় এবং স্বল্প প্রয়াসে বহাল-তবিয়তে টিকে থাকে। বিশেষ করে পিস লিলি, ফার্ন বা কিছু পাম জাতীয় উদ্ভিদ এ ধরনের পরিবেশে বেশ ভালোভাবেই টিকে থাকতে পারে। আবার এমনো কিছু গাছ আছে, যেগুলোর আসলে মাটিরও দরকার হয় না (পেথেস প্লান্টস)। পানি ভর্তি টবে কিছু কলম করা অংশ এনে ছেড়ে দিলেই হলো।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here