হবিগঞ্জ সংবাদদাতাঃ হবিগঞ্জ শহরের নয়াহাটি এলাকার প্রহলাদ দাসের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামী। এমনকি হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলসহ কোন অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। ফলে শিশু ও পুত্রকন্যাসহ আতংকে দিন কাটাচ্ছে ওই পরিবারের সদস্যরা।
তাদের ভীতি এখনো কাটেনি। অপরিচিত লোক দেখলেই আতংকিত হয়ে পড়ে তারা। গতকাল সোমবার হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পরিবারের এমন আতঙ্কের কথা তুলে ধরেন প্রহলাদ দাস।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রহলাদ দাস বলেন, গত ২ ডিসেম্বর রাত ১০টায় চাঁদার দাবিতে ওই এলাকার প্রহলাদ দাসের বাসায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায় একদল সন্ত্রাসী। হামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন তনু দাস, হরিদাস, সুমন, শ্যামল ওরপে বাঘা, নজির মিয়া ও সুজন মিয়া। হামলাকারীরা প্রহলাদকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে মারধোর করে লুটপাট চালায় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রহলাদের স্ত্রীসহ স্বজনরা প্রাণভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে ঘরের বাইরে চাঁদর মুড়িয়ে থাকা অন্য দুই সন্ত্রাসী তাদেরকে বের হতে দেয়নি। বরং তাদের হামলায় প্রহলাদের স্ত্রী ও শিশুরা আহত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাতক্ষণিক ওই এলাকার বাসিন্দা জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের ছোট ভাই সাইদুর রহমানসহ জনতা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাদের উপরও হামলা চালায়। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে ২ সন্ত্রাসীকে আটক করলেও অন্যান্য সন্ত্রাসীরা পিস্তলের ফাঁকা গুলি ছুড়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই রবিউল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রহলাদ তার বক্তব্যে আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়। এ ঘটনায় প্রহলাদ বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে ৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলো তনু দাসগুপ্ত, পিন্টু দাস, রাজু দাস, হরি দাস সুমন, নজির মিয়া ও সুজন মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন। সংবাদ সম্মেলনে প্রহলাদ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ তার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রহলাদের স্ত্রী পিংকী কর্মকারসহ আত্মীয় স্বজন।

