স্বামী শিবানন্দ বললেন নামাজ বেহেশতের চাবি

0
1627

সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের রহস্য জানালেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ মনোরোগে পিএইচডি করা ব্যক্তি স্বামী শিবানন্দ। জানালেন নিয়মিত যোগব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসই তাকে দীর্ঘ জীবন দিয়েছে।

Advertisement

 

যেকোনো মুসলিম মানুষের জীবনে সফলতার চাবি হিসেবে জানালেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার কথা। নামাজ বেহেশতের চাবি উল্লেখ করে স্বামী শিবানন্দ বলেন, বিশ্বের শান্তি অর্জনে ধর্ম-কর্ম ঠিকভাবে পালন করতে হবে। তাহলে নিজের মধ্যে সৎ ভাবনা, সৎ কর্ম থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো সনাতন হিন্দুদের প্রতিদিন তিনবার জপ করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন ১২৩ বছর বয়সী এই চিকিৎসক। স্বামী শিবানন্দের জন্ম বাংলাদেশে। তবে কর্মসূত্রে তিনি এখন ভারতীয় নাগরিক। ১৮৯৬ সালে বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার হরিপুর গ্রামে গোস্বামী পরিবার ও প্রখ্যাত ঠাকুরবানী বংশে জন্ম তার। শিবানন্দকে আকর্ষণ করে তার জন্মভিটা। তাই ১২৩ বছর বয়সে শিবানন্দ বাংলাদেশের সিলেটে সফরে এসেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও প্রচারবিমুখ শিবানন্দ সবসময় থেকেছেন প্রচারের বাইরে। বিশ্বের বর্তমানে জীবিত মানুষের মধ্যে বয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কিংবা কোনো রেকর্ডে নেই তার নাম। নিজের বয়সের সার্টিফিকেটের প্রমাণ হিসেবে দেখালেন ভারতীয় পাসপোর্ট। জানালেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র (ভারতীয়), পাসপোর্টসহ সব বৈধ পরিচয়পত্রতেই বয়সের প্রমাণ রয়েছে। সিলেট নগরের জগদ্বন্ধু সুন্দর ধাম মন্দিরে শ্রীচৈতন্য গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত স্বামী শিবানন্দের শ্রীহট্ট পরিক্রমা উৎসবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময়কালে স্বামী শিবানন্দ বলেন, আমার কর্মজীবন ভারতে হলেও জন্ম বৃহত্তর সিলেটে। শিক্ষাজীবনে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন শেষে লন্ডন থেকে গ্র্যাজুয়েশন এবং পিএইচডি ডিগ্রি (সাইকিয়াট্রি) অর্জন করেন। সুস্থ জীবন ও দীর্ঘ আয়ুর রহস্য হিসেবে জানালেন নিয়মিত যোগব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের কথা। অন্ন, রুটি আর সিদ্ধ সবজি খেয়ে বেঁচে আছে তিনি। নিয়মিত ডায়েটের পাশাপাশি তেল, চর্বি এবং মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার, ফল-দুধ বর্জন করেন তিনি। স্বামী শিবানন্দ জানান, তার শরীরে কোনো রোগ নেই। কামনা-বাসনা নেই। দুঃখ-কষ্ট, চিন্তা ও সমস্যা নেই। অর্থ কিংবা দান গ্রহণ করেন না তিনি। রাত ৩টায় ঘুম থেকে উঠে যোগব্যায়াম করেন। আধ্যাত্মিক সাধনা বাড়াতে মন্ত্রজপ করেন। বাংলাদেশের হিদু-মুসলিমের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের অন্য দেশের জন্য অনুকরণীয় উল্লেখ করে স্বামী শিবানন্দ বলেন, আমি নিজেও হিন্দু-মুসলিম বাছবিচার করি না। মুসলমানদের পবিত্র মক্কা এবং বেশ কয়েকবার খাজা মঈনুদ্দীন চিশতীর (র.) মাজার জিয়ারতে গিয়েছিলাম। এ সময় খাজা মঈনুদ্দীন চিশতীর (র.) মাজারের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। বিশ্বে এত অশান্তি কেন- একজন প্রবীণ মানুষ হিসেবে সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নের জবাবে শিবানন্দ বলেন, মানুষের আয়ু কম, বাসনা বেশি। তাই এত অশান্তি। এই জন্যই যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি এবং মারামারি। আমি আশা করি, পৃথিবী একদিন শান্তির নীড় হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হসপিটাল ও একটি সরকারি হসপিটাল আমার চেকআপ শেষে নীরোগ হিসেবে ঘোষণা দেয়। এই বয়সেও সর্বাঙ্গ যোগব্যায়াম করতে পারি আমি। এ সময় সাংবাদিকদের সামনে এমন কঠিন যোগব্যায়াম করে দেখান তিনি। তার নীরোগ থাকা এবং দীর্ঘ আয়ুর এটি একটি রহস্য বলে জানালেন তিনি। প্রচারবিমুখ এই মানুষের ঘনিষ্ঠজনেরা চান বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে বিশ্ব স্বীকৃতি। জাপানের কেইন টানাকা ১১৬ বছর ৫৩ দিন নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মহিলা এবং জার্মানের গুস্তাভ গারনেথ ১১৩ বছর ১৩২ দিন নিয়ে বিশ্ব রেকর্ডে থাকলেও ১২৩ বছর বয়সী স্বামী শিবানন্দ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ- এমনটিই দাবি তার স্বজনদের।

 

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here