সোনারগাঁয়ে ভন্ড কবিরাজ মহসিনের ডিজিটাল ভন্ডামী

0
1024

মো.দ্বীনইসলাম অনিকঃ মোবাইলের মাধ্যমে ফু দিয়ে পানি পড়া তেল পড়া দিয়ে কখনো বা আবার তাবিজ কবজ বিক্রি করে ডিজিটাল ভন্ডামী করে অসহায় মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ভন্ড কবিরাজ মহসিন দয়াল নামের এক প্রতারক।

Advertisement

নারায়নণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার আষাঢ়িয়ারচর এলাকার সোনা মিয়া বেপারীর ছেলে ভন্ড কবিরাজ মহসিন দয়াল (৩০) দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসার নামে মানুষকে প্রতারিত করে আসছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করার ফলে সোনারগাঁ থানা পুলিশ অভিযান চালায়।কিন্তু অভিযানের আগেই নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যায় ভন্ড কবিরাজ মহসিন। কিন্তু এর শেষে কোথায় ? অন্ধ বিশ্বাসে আসা নারী পুরুষদেরকে তার সহযোগীদের দিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে ফুঁদিয়ে দেয়া হচ্ছে পানি পড়া ও তেল পড়া।

গত ২৪ জুলাই বুধবার সোনারগাঁও থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ভন্ড কবিরাজ মহসিন দয়ালের (৩২) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আমেনা বেগম (২৯)। আমেনা বেগমের সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভন্ড কবিরাজ মহসিন দয়াল প্রায় লাখ খানেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

ইতিপূর্বে প্রতিবেশী মারফত আলীর ছেলে মাতু মিয়া (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, গত মার্চ মাসে তার বিবাহিতা স্ত্রী এক সন্তানের জননী শিউলী বেগম (৩৫) রহস্যজনকভাবে তার দেয়া ৪ ভরি সোনার গহনা ও নগদ ২ লক্ষ টাকাসহ ভন্ড কবিরাজ মহসিনের বাড়িতে আত্মগোপন করে। খবর পেয়ে তার স্ত্রী শিউলীকে আনতে গেলে ভন্ড কবিরাজ মহসিন ও তার সহযোগিরা মাতু মিয়াকে শারীরিক নির্যাতন করে। এখন প্রায় ৪ মাস যাবত মাতু মিয়ার স্ত্রী শিউলীকে অবৈধ ভাবে মহসিন কবিরাজের কাছে রেখে অবৈধ মেলামেশা করছে। ভন্ড কবিরাজ মহসিন ও তার পালিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, পুলিশের ডিআইজি, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান অসহায় মাতু মিয়া।

এলাকাবাসী জানায় দীর্ঘদিন যাবত ভন্ড কবিরাজ মহসিন বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষকে রোগমুক্তির নামে প্রতারিত করে আসছে। মূলত মাতু মিয়ার স্ত্রী শিউলীকে ফুসলিয়ে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে জাদুটোনার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার স্বামীর দেয়া গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে তার কাছে আসতে বাধ্য করে এবং তার সাথে একাধিক বার শারিরিক সম্পর্ক করে তাকে ফাঁদে ফেলে মহসিনের বাড়িতে শিউলীকে রেখে দিনেরপর দিন ধর্ষণ করছে বলে অভিযোগ করেন স্ত্রীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মাতু মিয়া। যাদুটোনা, অবলা নারীদের গোপন সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশ্বাস,পৃথিবীর সকল সমাধানের নামে মানুষদের কে প্রতারিত করে আসছে।

এ ব্যাপারে ভন্ড কবিরাজ মহশিন দয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,রোগীরা আমাকে খুশি হয়ে যা দেয় তাই নিয়ে কাজ করি।মহিলাদের সন্তান না হলে আমার চিকিৎসায় সন্তান হয়।

সোনারগাঁও থানার পুলিশ উপ পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহসিন দীর্ঘদিন যাবত সোনারগাঁয়ে ভন্ডামী করে আসছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। আমরা কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে তার কয়েকটি ব্যানার ও পোষ্টার উদ্ধার করতে পেরেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে যেকোন সময় তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here