ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার ওসি ইসমাঈল মিঞার বিরুদ্ধে লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষের সাথে দূর্ব্যবহার, ব্যাপরোয়া উৎকোচ গ্রহন, গ্রেফতার বাণিজ্য, অর্থের বিনিময়ে নিরপারাধী ব্যক্তিকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় তার নির্যাতনের হাত থেকে স্থানীয় সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছেনা। এমন পুলিশ কর্তকর্তার বিচার দাবী করে নোয়াখালী পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ করেছেন ভূক্তোভুগীরা। তবে বরারই তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে ।
সূত্রে জানা যায়, ইসমাঈল মিঞা এক বছর আগে সোনাইমুড়ী থানায় ওসি যোগদান করে নানা অনিয়ম ও দূনীর্তিতে জড়িয়ে পড়েন। কোন লোক মামলা করতে এলে প্রথমে তিনি তালবাহানা শুরু করে। দূর্ব্যবহার করে তার রুম থেকে বের করে দেন। পরে দালালের মাধ্যমে তার চাহিদা মোতাবেক টাকা দিলেই থানায় মামলা রুজু করা হয়। আর টাকা না দিলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি শিকার হতে হয় বিচার প্রার্থী সাধারণ মানুষকে। যে কোন মামলার চার্জশিট দিতে বাদী তার চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে আসামীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মুল আসামীকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ওসি ইসমাইল মিঞার বিরুদ্ধে। ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থানায় ক্যাশিয়ার কোন পদ না থাকলেও ওসি ইসমাঈল মিঞা থানার কনস্টেবল নেয়ামতকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। সে থানায় কোন ডিউটি না করে সাদা পোশাকে ১টি চোরাই মোটর সাইকেল নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অপরাধ স্পটে ঘুরে বেড়ায়। ওসির নির্দেশে এই সব অপরাধ জগত থেকে নেয় মাসোয়ারা। আর মাসোয়ারা নিতে দেয়া হয় ওসির স্বাক্ষরীত টোকেন। প্রতিটি মাটিবাহী অনুমোদনহীন ট্রাক্টর থেকে প্রতি মাসে টোকেনের মাধ্যমে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়। সোনাইমুড়ী জননী মালিক সমিতির কৌশলারবাগস্থ অফিস থেকে ৩ হাজার টাকা, সোনাইমুড়ী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনের সিএনজি স্টান্টের ঠিকাদারের কাছ থেকে মাসিক ২ হাজার টাকা, সোনাইমুড়ী চৌরাস্তার সিএনজি স্টান্ডের ঠিকাদার হাছানের কাছ থেকে নাম্বার সংযুক্ত প্রতি সিএনজি থেকে মাসিক ১০০ টাকা ও নাম্বার বিহীন প্রতি সিএনজি থেকে মাসিক ২০০ টাকা করে নেয়া হয়। সোনাইমুড়ী অটোস্ট্রান্ডের ব্যাটারি চালিত ৭০টি অটোরিক্সার ঠিকাদার স্বপনের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৬শত টাকা করে নেয়া হয়। কোন জনসাধারণ পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য নোয়াখালী পুলিশ সুপারের বিশেষ শাখায় আবেদন করলে স্বাক্ষর হয়ে থানায় আসে তদন্তের জন্য। এ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে ওসিকে দিতে হয় ১৫০০ টাকা করে।
সূত্রে জানায়, র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী সোনাইমুড়ী এলাকার জিয়াউর রহমান প্রতি মাসে থানার ওসিকে ১০ হাজার টাকা করে মাসোয়ারা দিতেন। গতমাসে যথা সময়ে মাসোয়ারা না দেয়ায় জিয়াউর রহমানকে ২০ পিচ্ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।
উপজেলার মুটুবি গ্রামের সাংবাদিক জসিম উদ্দিন জানান, তিনি তার নিকটতম এক আতœীয়ের বাড়ী থেকে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাতে তার একবন্ধুকে নিয়ে বাড়ী যাচ্ছিলেন। এ সময় ওসি ইসমাইল মিঞা তাকে আটক করে তারবন্ধুকে বেধম প্রহার করে। পরে তার কাছ থেকে পত্রিকার আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেন। এ বিষয়ে বিচার চেয়ে তিনি নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাটিবাহী ট্রাক্টর চালক অভিযোগ করে জানান, ওসির টোকেন বাণিজ্যে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি ইসমাইল মিঞার সাথে এলাকার তাবৎ অপরাধচক্রের সাথে রয়েছে গভীর সম্পার্ক। তিনি সোনাইমুড়ী থানায় যোগদান করার পর থেকে এলাকায় একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সোনাইমুড়ী থানা ওসি ইসমাইল মিঞার সাথে আলাপ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোন দূর্নীতির সাথে জড়িত নয়। তার নাম ভাংঙ্গিয়ে কোন পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেন জানান।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু আল মাসুদ জানান, ওসির বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রে জানায়, র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী সোনাইমুড়ী এলাকার জিয়াউর রহমান প্রতি মাসে থানার ওসিকে ১০ হাজার টাকা করে মাসোয়ারা দিতেন। গতমাসে যথা সময়ে মাসোয়ারা না দেয়ায় জিয়াউর রহমানকে ২০ পিচ্ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।
উপজেলার মুটুবি গ্রামের সাংবাদিক জসিম উদ্দিন জানান, তিনি তার নিকটতম এক আতœীয়ের বাড়ী থেকে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাতে তার একবন্ধুকে নিয়ে বাড়ী যাচ্ছিলেন। এ সময় ওসি ইসমাইল মিঞা তাকে আটক করে তারবন্ধুকে বেধম প্রহার করে। পরে তার কাছ থেকে পত্রিকার আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেন। এ বিষয়ে বিচার চেয়ে তিনি নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাটিবাহী ট্রাক্টর চালক অভিযোগ করে জানান, ওসির টোকেন বাণিজ্যে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি ইসমাইল মিঞার সাথে এলাকার তাবৎ অপরাধচক্রের সাথে রয়েছে গভীর সম্পার্ক। তিনি সোনাইমুড়ী থানায় যোগদান করার পর থেকে এলাকায় একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সোনাইমুড়ী থানা ওসি ইসমাইল মিঞার সাথে আলাপ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোন দূর্নীতির সাথে জড়িত নয়। তার নাম ভাংঙ্গিয়ে কোন পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেন জানান।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু আল মাসুদ জানান, ওসির বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
