চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এক জ্যেষ্ঠ সেবিকাকে (নার্স) বিশেষজ্ঞ নারী চিকিৎসক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে প্রসূতি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে পৌনে নয়টায় হাসপাতালের নার্সদের সংগঠন আন্দোলনে নামে।
ওই ওয়ার্ডে সব নার্স তিন ঘন্টা সেবাদান থেকে বিরত থাকেন। পরে হাসপাতাল পরিচালকের আশ্বাসে নার্সরা ওই ওয়ার্ডে ফিরে গেলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে বিক্ষুদ্ধ নার্স ও তাঁদের অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএমএ ও স্বাচিপ নেতারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। কিন্তু নার্সরা চিকিৎসকের বিচার দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করা হবে বলে জানায়। আগামীকাল শুক্রবার এমবিবিএস পরীক্ষা। পরদিন শনিবার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আবার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে নার্সেস অ্যাসোশিয়েশন চমেক হাসপাতাল শাখার আহ্বায়ক রতন কুমার নাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৩৩ নম্বর প্রসূতি ওয়ার্ডে একলামসিয়া ব্লকে গুলজার নামে এক রোগীকে প্যাড পরাচ্ছিলেন আমাদের সিনিয়র স্টাফ নার্স বনানী রাণী। তাঁকে সহযোগিতা করছিলেন এক আয়া। এ সময় হঠাৎ করে গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহেনা আক্তার এসে আমাদের স্টাফকে থাপ্পড় মারেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ১৭ নার্স তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এর পর আমরা হাসপাতালে সেবা তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছি। আমরা ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ঘটনার বিচার না হলে আমরা আন্দোলনে যাব। পরিচালকের আশ্বাসে প্রসূতি ওয়ার্ডে আমাদের স্টাফরা দুপুর ১২টার দিকে কাজে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। তাই আমাদেরকে কর্মসূচি না দেওয়ার অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে শনিবার আবার বৈঠক হবে।’ তবে নার্স লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে চমেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহানারা চৌধুরী বলেন, ‘এক রোগীর ইউরিন ব্যাগের নল খোলার সময় কাপড় বুক পর্যন্ত তুলে ফেলেন ওই সিস্টার। এ সময় ওয়ার্ডে রাউন্ডে থাকা বিভিন্ন ডাক্তার, ইন্টার্ন, রোগীর স্বজনসহ অনেকে ছিলেন। এতে রোগীর গোপনীয়তা নষ্ট করায় আমাদের এক চিকিৎসক জানতে চান-এটা কী করছ?-এই বলে তিনি সিস্টারের পিঠ চাপড়ান। আর এখন তাঁরা বলছেন, নার্সকে থাপ্পড় মারা হয়েছে। তাদের এই অভিযোগ সত্য নয়।’

