মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া: সুনামগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসে দীর্ঘদিন যাবত চলছে ওপেন চাঁদাবাজি। আর এই চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে গণপরিবহণ মালিক, শ্রমিক ও চালকরা। এব্যাপারে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযাগ করার পরও কোন সমাধান না হওয়ায় আজ রবিবার (১৯ সেপ্টেম্ভর) সকাল থেকে পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ভোক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোন বাস ছেড়ে যায়নি এবং বহিরাগত কোন বাস সুনামগঞ্জে আসেনি। শুধুমাত্র আঞ্চলিক সড়কে ( সিলেট-সুনামগঞ্জ ) যানবাহণ চলাচল করছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ-কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ-ময়মনসিংহসহ বগুড়া, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ ৫টি আন্তঃ জেলা বাস সার্ভিস ও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সারাদেশ থেকে সুনামগঞ্জে আগত পর্যটক ও পোষাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পড়েছে।
এব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জের কয়েকটি বাস কাউন্ডারে যাওয়ার পর আটকে পড়া যাত্রী আমির হোসেন, জমির উদ্দির, পর্যটক রাজিব আহমদ, সুমন আহমদসহ আরো অনেকেই বলেন, আমরা ঢাকা যাওয়ার জন্য সকালে বাস কাউন্টারে আসার পর জানতে পারলাম পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। আর কবে এই ধর্মঘট উঠানো হবে তা কেউ বলতে পারছেনা। আমরা ঢাকা যাওয়ার জন্য বিকল্প কোন গাড়িও পাচ্ছিনা। একারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, সুনামগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে যাতায়াতের সময় সিলেট বাইবাস সড়সসহ একাধিক স্থানে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদাবাজরা সরকার দলের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবত আন্তঃজেলা বাসগুলো থেকে ওপেন চাঁদা উত্তোলন করছে। আর এই চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করার পরও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নালিশ করার পর চাঁদাবাজদের চাঁদার পরিমান আরো বেড়ে গেছে। এজন্য এই পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।
জেলা মিনি বাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া ও শ্যামলী পরিবহণের শ্রমিক আব্দুল করিমসহ আরো অনেকেই বলেন, চাঁদাবাজরা সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া। তাদের চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে মারধর করে বাস আটক করে রাখে। চাঁদাবাজদের অত্যাচার, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি দিনদিন বেড়েই চলেছে। চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধর্মঘট চলবে।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দিয়েছে। আমরা শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলেছি, তারা এব্যাপারে আলোচনা করে আমাদেরকে জানাবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মানুষের ভোগান্তি সৃষ্ঠি হয় এমন কাজ করা ঠিক নয়। এব্যাপারে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা কবর।

