তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের পিতৃহীনা ১৪ বছরের কিশেরীকে গ্রাম্য মাতব্বর ও দাঙ্গবাজ পরিবারের বখাটে যুবক কতৃক ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার কারনে তদন্তকারী অফিসার বুধবার বিকেলে ফাঁড়িতেই কয়েক দফা ভিকটিমকে গালি-গালাজ ও উল্টো শাসাতে থাকেন। উপজেলার দরিদ্র পরিবারের ওই গ্রামের কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে গ্রামের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এদিকে সন্ধারপর উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামে ঘটনা তদন্তের নামে অভিযুক্তদের পিতা ও তার স্বজনদের সাথে যোগসাজস করে ভিকটিমের মা-ও ভাইদের মামলা করলে হয়রানী বাড়বে বলে বিষয়টি আপোসের জন্য চাঁপ সৃষ্টি করেন ওই অফিসার। বালি-পাথর লুট আর মামলা মোকদ্দমার হের ফের করে দু’হাতে টাকা কামানোর মেশিন খ্যাত এসআই একেএম জালালের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারন মানুষের অভিযোগের শেষ নেই।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভোক্তভোগীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, তাহিরপুর থানায় বদলী হয়ে আসার পর গত এক বছরেরও বেশী সময় ধরে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতেই টানা দায়িত্বরত ইনচার্জ জালালের বিরুদ্ধে একের পর এক নানা বির্তিত কমকান্ডে গোটা পুলিশ বিবঅগের ভামমুর্তি ক্ষুণ্য হচ্ছে। এলাকাবাসীরও অভিযোগের অন্ত নেই। টাকার বিনিময়ে মামলাকে এদি-সেদিক করা, অভিযোগ পেলে উভয় পক্ষের নিকট থেকে উৎকোচ নেয়াটা তার জন্য এখন অনেকটা ওপনে সিক্রেট হয়ে গেছে। দু’দফা লাঞ্চিত হওয়ার পরও ওই ফাঁড়িতেই নিজেকে আটকে রেখেছেন তদবীর বাণিজ্য আর খুঁটির জোড়ে। ঘুষ-দুর্নীতি আর অপরাধীদের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলায় ফাঁড়ি এলাকার জনসাধারন এখন তাকে এসআই জালাল নয়’ “টাকা জালাল” নামেই ডাকেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের গ্রামের ধর্ষিতা কিশোরীর অভিযোগ নিয়ে তদন্তের নামে নয়-ছয় করা ছাড়াও ইতিপুর্বে মুক্তিযোদ্ধার কলেজ পড়–য়া কন্যাকে অপহরণের ঘটনায় ভিকটিম উদ্ধারের পর মামলা না করাতে রাতভর পুলিশ ফাঁড়িতে বসিয়ে রেখে নানা ফন্দি ফিকির করতে থাকেন। বেশ কিছু দিন পুর্বে এতিম কিশোরীকে পতিতালয়ে আটকে রেখে দু’দিন ধরে ৬ জন কতৃক গণধর্ষণের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ওই ইনচার্জ ভিকটিম ও বাদীকে চাঁপ সৃষ্টি করে নিজের হাতে এজাহার লিখে একজন কতৃক ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে মামলা রুজু করান। শুধু এখানেই শেষ নয় সোনাপুর গ্রামের একটি ব্যাক্তিকে রড দিয়ে পিঠিয়ে আহত করার ঘটনায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আসামীদের নিকট থেকে লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে মামলায় সাধারন ধারা যুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। পরবর্তী হামলার শিকার ওই ব্যাক্তি মৃত্যু বরণ করলে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি থেকে তার পরিবার বঞ্চিত হয়। ইউনুছপুর গ্রামের একটি মামলার বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের নিকট থেকে কয়েক দফা ঘুষ নিয়ে ৫ আসামীর ৪ জনকেই বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। কিছু দিন পুর্বে কামড়াবন্দ গ্রামের রাজ্জাক ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরকে ভারতীয় মদের চালান সহ গ্রেফতার করার পর রাতের আঁধারে ৫০ হাজার ঘুষ নিয়ে রাজ্জাকের ছেলে জাহাঙ্গীরকে ফাঁড়ি থেকেই রাতে ছেড়ে দেন। সংখ্যালঘু পরিবারের এক স্কুল ছাত্রকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় দু’যুবককে আটকের পর পুলিশ ফাড়ি থেকেই তাদেরকে তদবীর আর ঘুষ বাণিজ্যের মুখে ছেড়ে দেন। এসআই জালাল উদ্দিন গত এক বছরেরও অধিক সময় ধরে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান করে মাহারাম ও জাদুকাটা নদীতে বালি পাথর লুঠকারী, সেইভ, ড্রেজার, বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উক্তোলনকারীদের সাথে আতাত করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিগত মৌসুমে জাঁদুকাটা নদীর বড়টেক এলাকায় অবৈধ ভাবে ৮০টির অধিক সেইভ ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি পাথর উক্তোলনের জন্য প্রতিটি সেইভ ও ড্রেজার থেকে থানা পুলিশ এবং উধ্বর্তন কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করার কথা বলে তিন দফায় ১০ হাজার টাকা করে সোর্সের মাধ্যমে উৎকোচ গ্রহন করেন। রাতে নদীর তীর কেঁটে বালি লুটের জন্য প্রতিরাতে ৬/৭টি ট্রলারের প্রতিটি থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন ওই এসআই। এসব কারনে তাকে তিরস্কার না করে উল্টো পুলিশের দায়িত্বশীলরা তার প্রতি সু-নজর রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন পুর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ লাখ টাকার সেইভ ও বোমা মেশিন জব্দ করে মাহারাম জাদুকাঁটা নদীতে পুড়িয়ে ফেলেন। ঐ দিন প্রকাশে লোকজন ওই এসআই’র বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেন। এর দুদিন পরই নদীতে সাভেয়ার না হয়েও নদীর সীমানা চিহ্নিত করার নামে ওই এলাকার চাঁদাবাজ চক্রের এক গডফাদারের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে নদী দু-টির আরো তীরবর্তী এলাকায় সীমানা চিহ্নিত করে দিয়ে আসেন বালি পাথর লুটের জন্য। সম্প্রতি ৬ মাসের ট্রেনিং এ যাবার কথা থাকলের তদবীর করে কামাজ-রুজীর ধান্দায় ছাতক থানার অন্য এক এসআইকে তিনি ম্যানেজ করে ট্রেনিংয়ে পাঠিয়ে দেন। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী সহ সব ধরনের অপরাধী এমনকি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষা ও তাদের ইশারায় ইঙ্গিতে আইনের তোয়াক্কা না করেই টাকার পাহাড় গড়ে তোলার জন্য সব সময় ব্যস্ত থাকেন ফাঁড়ির ওই ইনচার্জ।
এ ব্যাপারে এসআই একেএম জালালের বক্তব্য জানতে বুধবার রাতে পুলিশ ফাঁড়িতে বসে আলপকালে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ভিকটিমকে আমি গালি-গালাজ ও তাছাড়া তার মা-ভাইদের আমি ভয়-ভীতি দেখাইনি, তারাই তো মামলা করতে ইছ্ছুক না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

