সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্টের সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী কারখানা নিরাপদ ও কমবান্ধব করা হয়েছে তৈরী পোশাকের উপযুক্ত মূল্য দিন

0
546

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূণ ব্যবসায়িক অংশিদার। বিশেষ করে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এভ্রিথিংস বাট আমস(ইবিএ) এর আওতায় বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে বেশ উপকৃত হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ বাণিজ্য সুবিধার ফলে বাংরাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, তৈরী পোশাক খাতের উন্নতি হচ্ছে, বাংরাদেশের শ্রমিকরা উপকৃত হচ্ছে। বাংরাদেশ আশা করছে আগামীতে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংরাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো উন্নত করেগড়ে তোলা হয়েছে। বিল্ডিং ও ফায়ার সেপটি নিশ্চিত করা হয়েছে। উন্নত ও কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে শিল্প মালিকগণ বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে কিন্তু তৈরী পোশাকের মুল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে না।

Advertisement

 

বাংরাদেশের তৈরী পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। সরকার বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন করেছে। শ্রমিকরা এখন যে কোপন সময়ের তুলনার অধিক শ্রম অধিকার ভোগ করছে। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিক ও মালিকরা শান্তিপূর্ণ পডিরবেশে উৎপাদন বৃদ্ধির রক্ষ্যে কাজ করছে। ক্রেতারা বাংলাদেশথেকে আরো বেশি তৈরী পোশাক আমদানি করবে বলে বাংরাদেশ আশা করে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। বাংরাদেশ আশা করছে ২০২৭ সালের পর থেকে বাংরাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবধিা প্রদান করা হবে। এজন্য বাংরাদেশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। আমাগামী দিনগুলোতে ক্রেতাগোষ্টি বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আজ (২৫ জুন) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্টের ৪র্থ পর্যালোচনা সভার উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদানের সময় এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্র মায়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জীবন বাচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একান্ত মানবিক কারনে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করেছে। প্রায় বারো লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংরাদেশের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে বাংরাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, বাংরাদেশে নিযুক্ত অষ্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত, আইএলও প্রতিনিধি বক্তব্য রখেন। তারা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। বক্তাগণ বাংরাদেশের তৈরী পোশাক খাতের শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও শিল্প মালিকদের গৃহীত পদক্ষেপর প্রশংসা করেন। বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশে এখন অনেক গ্রীণ ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। কাজের পরিবেশ বিগত যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো। উন্নত পরিবেশে শ্রমিকরা এখন কাজ করছে। সরকার এবং কারখানার মালিকদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বক্তাগণ আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও বাংরাদেশ সরকার এবং শিল্প মালিকগণ এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
ঊাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু, বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম, বিজিএমই-এর প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান খান, বিকেএমই-এর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ এ্যামপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তাগণ এ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। ব্রাসেলসে নিযুক্ত বাংরাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রীইউরোপিয়ন ইউনিয়নের ট্রেড কমিশনার মিজ সিসিলিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার এবং শিল্প মালিকগণ প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাাজা র্দুঘটনার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মবান্ধব পরিবেশ, উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করেছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে, কারখানা ভবন নিরাপদ করা হয়েছে, ইলেকট্রিক ও ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরীপোশাক শিল্পের শ্রমিকরা এখন নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। কারখানার পরিবেশ, নিরাপত্তা নিয়ে এ্যাকোর্ড ও এ্যালায়েন্স এবং ন্যাশনাল ইনেশিয়েটিভ নিবির ভাবে কাজ করেছে। সরকারের ত্ত্বাবধায়নে শিল্পমালিকদের সহযোগিতায় এখর বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো কম্পøায়েন্স ফ্যাক্টরিতে পরিনত হয়েছে। বাংলােেশর তৈরী পোশাক শিল্প এখন নিরাপদ এবং কর্মবান্ধব। তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের স্বাথ সুরক্ষা করে সমোপযোগী শ্রম আইন তৈরী করা হয়েছে। শ্রমিকরা এখন সম্পূর্ণ শ্রম অধিকার ভোগ করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কারখানাগুলো সংস্কার ও নতুন ভাবে কারখানা নির্মাণ করতে শিল্প মালিকদেও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু শিল্প মালিকরা পোশাকের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে না, তৈরী পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি এবিসয়ে ট্রেড কমিশনারের একান্ত সহযোগিতা কামনা করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্র মায়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জীবন বাচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একান্ত মানবিক কারনে রোহিঙ্গাদেও বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করেছে। প্রায় বারো লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংরাদেশের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
ট্রেড কমিশনার বাংলাদেশ সরকার এবং শিল্প মালিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনিগৃহীত পদক্ষেপের ফলে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, বিল্ডিং ও ফায়র সেপটি নিশ্চিত করণ এবং কর্মবান্ধব পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বাংরাদেশের তৈরী পোশাকের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতার আশ^াস দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাদেও সাথে আলোচনা করা হবে। বাংরাদেশের তৈরী পোশাক খাতের সহযোগিতায় ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের সাথে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ও গুরুত্বেও সাথে দেখা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here