দেশবরেণ্য কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও কলামিস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেছেন, প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানি করা সফটওয়ারের পিছনে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করছি আমরা। অথচ দেশে তৈরি নিত্য নতুন সফটওয়ার ও সংশ্লিষ্ট লোকবল কাজে লাগিয়ে সহজে এই অর্থ সাশ্রয় করা যেত। তিনি আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা আইসিটি সেক্টরে সামনে সুদিন আসছে। প্রোগ্রামিং কনটেস্টে ভারতের চেয়ে বহুদূর এগিয়ে বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা।
এগিয়ে যাওয়া তরুণ প্রজন্ম মেধায় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউর) স্কুল অব সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডে’ উৎসবের প্রথম দিনে প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর খুলশীর পূর্ব নাসিরাবাদের নোমান সোসাইটির ইডিইউর স’ায়ী ক্যাম্পাসে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান। ইডিইউর অ্যাসোসিয়েট ডিন ও স্কুল অব সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর সামস উদ দোহা, উৎসবের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক এটিএম মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ আইসিটি বিষয়ক নানা ধরণের আইডিয়া বেশি করে আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং অলিম্পিয়াড, প্রোগ্রামিং কনটেস্টের মতো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছেলে মেয়েদের ভিতর সমস্যা সমাধানের একধরনের মনোভাব গড়ে ওঠে। যা পরবর্তী সময়ে তাঁদের নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিক দক্ষতা বাড়ায়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলোকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই যেখানে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে সেখানে আমাদের চিত্র হচ্ছে মাত্র আড়াই শতাংশ। দেশে তৈরি সফটওয়ারের ব্যবহার বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, পাকশী ব্রিজের মতো একটি সেতুতে এখনও বিদেশ থেকে বহু টাকা দিয়ে সফটওয়ার কেনা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সাফল্য পৃথিবীর সবখানে। ইডিইউর শিক্ষার্থীরা আইসিটি সেক্টরে সুনাম কুড়িয়ে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচিত করবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, উৎসবে ছোট ছোট উদ্ভাবনগুলো নিয়ে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লেগেছে। হয়ত তাদের হাত ধরেই আরেক বাংলাদেশ সামনে যাত্রা করবে বলে আমি মনে করি। ইডিইউ ছাড়াও চট্টগ্রামের আরো ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৭০টি টিম মেধা যাচাইয়ের নানা পর্বে অংশ নিচ্ছে বলে জানান উৎসবের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক এটিএম মাহমুদুর রহমান।

