ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
সাভার আশুলিয়ায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি সর্বোচ্চ মাত্রা ছুঁয়ে গেছে। অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে ছেয়ে গেছে সাভার আশুলিয়ার সড়ক ও মহাসড়ক। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে হেমায়েতপুর-গাবতলী রুট, সাভার-আশুলিয়া রুট, আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল রুট, গাবতলী হতে সাভার হয়ে নবীনগর, রপ্তানী, চন্দ্রা সহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন নিয়মিত যাত্রীবাহি বাস, মিনিবাস, লেগুনা, সি.এন.জি সহ বিভিন্ন প্রকারের হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। আর এসকল রুটে চলাচলকারী ৯০ শতাংশ যানবাহনেরই নেই ফিটনেস কিংবা বি.আর.টি.এর কোন অনুমোদন। এমনকি অধিকাংশ চালকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। মানা হচ্ছে না ট্রাফিক আইন। যার দরুন প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক মহাসড়কে দূর্ঘটনা আর একের পর এক প্রান নাশ। অন্যদিকে যত্রতত্র গাড়ি পাকিংয়ে বাড়ছে যানজট। আর সকল কাগজপত্র, অনুমোদন ও ফিটনেস বিহীন যানবাহন চলাচলে যানবাহন চালক ও মালিকদের পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও সার্জেন্টদের মাসিক হারে নিয়মিত প্রদান করতে হয় নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা। এমনকি বৈধ কাগজপত্র ও ফিটনেস থাকলেও এসকল রুটে যান পরিচালনা করতে টি.আই, সার্জেন্টদের মাসিক চাঁদা প্রদান করতে হয় যানবাহন মালিকদের। অন্যথায় কারণে অকারণে সার্জেন্টদের মামলার শিকার হতে হয় যানবাহন গুলোর। এদিকে আশুলিয়া সাভার সহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, ঐসকল স্থান ও কেন্দ্র করে চলাচল কারী যানবাহনগুলো হতে চাঁদা আদায়ের ঘটনাটি অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপ দিয়েছে সাভারের ট্রাফিক বিভাগ। চাঁদা আদায়ের রশিদ হিসাবে প্রদান করা হচ্ছে কখনো স্টিকার কখনো কার্ড বা টোকেন। বৈধ অনুমোদন, ফিটনেসবীহিন ও ঝুঁকিপূর্ণ এ সকল যান পরিচালনা ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও সার্জেন্টদের এই বেপরোয়া চাঁদাবাজির ব্যাপারে এসকল রুটের কিছু যানবাহন চালক ও মালিকদের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, “আমরা বি.আর.টি.এর সকল বৈধ অনুমোদন ও ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন পরিচালনা করলেও টি.আই. ও সার্জেন্টদের মাসিক চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় লাইনে যান পরিচালনা করতে পারব না। কারণে অকারণে মামলা দিয়ে সার্জেন্টরা হয়রানি করবে। আর মাসিক চাঁদা প্রদান করলে কোন ঝামেলা নাই। গাড়ির রেজিষ্টেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন বা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। নিশ্চিন্তে গাড়ি চলবে। শুধু শুধু আইন মানতে গিয়ে নিজেদের ঝামেলা বাড়িয়ে লাভ কি?”। সাভার ট্রাফিক পুলিশের এহেন দুর্নীতি ও গাফিলতি যে শুধু পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে কলঙ্কিত করছে তা নয়, সেই সাথে দেশকে বঞ্চিত করছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে। আর ট্রাফিক আইন অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ ও ফিটনেসবীহিন যানবাহন চলাচলের দরূন প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা, ঘটছে প্রানহানি, সাধারণ মানুষ হারাচ্ছে তাদের স্বজনদের। বাড়ছে কান্নার রোল কিন্তু হচ্ছে না কোন সমাধান। মাঝখান থেকে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের জীবনকে জিম্মি করে এসকল অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের চালক ও মালিকদের সাথে সখ্যতা গড়ে সাভার ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা ও সার্জেন্টরা ভারী করছে তাদের অবৈধ অর্থের ঝুলি।
