রিফাতকে বর্বরোচিতভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় দা দিয়ে দুই খুনি কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।একদল নপংসুক দাঁড়িয়ে পাহাড়া দিয়েছে, নয়তো বিকৃত নির্মমতায় হত্যাকান্ড উপভোগ করেছে। মিন্নি বলেছে,এরা রিফাতের খুনি দলের।
রিফাতের নববধূ মিন্নি পাগলের মতোন চেষ্টা করেছে তরুণ স্বামীটিকে বাঁচাতে। পারেনি। জল্লাদ তার বাধা আকুতি শুনেনি। তারা রক্তের নেশায় উন্মাদ হয়ে খুনের পৈচাশিক জিঘাংসাবৃত্তি পূর্ণ করেছে।
দিনদুপুরে এমন হত্যাকাণ্ড চারপাচজন মানুষ এগিয়ে এলেই প্রতিরোধ করতে পারতো। আসেনি। কেউ আজকাল আসে না। আইনশৃংখলাবাহিনী পারেনি, তাদের অগোচরে অনেক হত্যাকাণ্ড হয়। তারা হয়তো এখন খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
আমার প্রশ্ন আবারও করছি, সমাজের মানুষ যেমন দিনদিন অমানুষ খুনি হচ্ছে, তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কেনো বোধহীন! নির্জিব! কেউ হাঁক দেয় না, কেউ রুখে দাঁড়ায় না- এমনটি কেনো! দাঁড়িয়ে হত্যাকাণ্ড উপভোগ করে মানসিক বিকারগ্রস্ত ছাড়া আর কারা? এই সমাজেরর মানুষ এতোটা নির্জিব, এতোটা নিজের লাভ লোভ আর স্বার্থে অন্ধ কেনো? সামাজিক প্রতিরোধে কোথাও কেউ নেই কেনো? এ পবিত্রভূমি খুনি ধর্ষক যৌননিপিড়ক লুটেরাদের অভয়ারণ্য হতে পারে না। এটা তাদের বাপ দাদার জমিদারি নয়। জনগণের নিরাপত্তা বিধানে জনগণকেও রুখে দাঁড়াতে হবে!
মিন্নির হাতের মেহেদী শুকিয়ে যায়নি। স্বপ্নভঙ্গে পাথরের মতোন। রিফাতের জন্য সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ শুনছি। এর মধ্যে একদল ফেসবুকে কথা তুলছেন, পুলিশ ও মিন্নির পরকীয়া প্রেমের সন্ধান করছে। মেয়েটিই যেনো খারাপ! কত জঘন্য পাপী আমরা। কত নপংসুক কাপুরুষ আমরা। খুনিকে দিনদুপুরে পাকড়াও করে এই হত্যা ঠেকাতে পারিনি, এখন প্রণয়ের বিকৃত পাঠ নিচ্ছি। আরে রিফাতকে যে হত্যা করেছে, যারা খুন করেছে তারা তো এখন কেবলই খুনি! জঘন্য খুনি। এখন কে কার প্রেমিক ছিলো, এ নিয়ে কথা কেনো? খুনির পক্ষে সাফাই? না যুক্তি দাঁড় করানোর নির্লজ্জ বেহায়া বিবেকহীনদের প্রয়াস?
আমরা প্রেম বা প্রেমিকের ইতিহাস শুনতে চাইছি না। যারা এসব বলছেন তারাও মানসিকভাবে বিকৃত। আমরা, এই দেশ খুনিদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা এই দেশে একের পর এক দিনদুপুরে এমন মধ্যযুগীয় হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না। আমাদের সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।

