সমবায়ের আড়ালে অবৈধ ব্যাংকিং, চড়া সুদের ব্যবসা শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

0
1672

মাহমুদুল হাসানঃ
উত্তরার দক্ষিনখান গাওয়াইর বাজারে নবদিগন্ত মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে সমবায় অধিদপ্তর হতে রেজিষ্ট্রিশন নিয়ে অবৈধ ব্যাংকিং লেনদেন করে চওড়া সুদ আর আমানত আদায় করে পাবলিকের নিকট থেকে অন্তত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবদিগন্ত মাল্টিপারপাসের এমডি  রাসেল ও শেয়ারহোল্ডার আমিনুল ইসলাম বরিশাল জেলা থেকে গাওয়াইর এসে নবদিগন্ত মাল্টিপারপাস চালু করে। রাসেল ও আমিনুল ইসলাম তাদের পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ এমন ২০ লোকের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের অধীনে জমা দিয়ে সমিতির নিবন্ধন গ্রহন করে। যেখানে সমিতির সদস্যরা নিয়মিত মাসিক চাঁদা প্রদান করবে এবং দুর্দিনে তারা ঐ চাঁদার টাকা হতে ঋন গ্রহন করবে। যে ২০ জনকে লোককে সমিতির সদস্য দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে ১৬ জনই জানেনা তারা সমিতির সদস্য। তারা জানেনা কিভাবে সমিতির সদস্য বইতে সই স্বাক্ষর করতে হয়। সমিতিতে কত টাকা মাসিক চাঁদা দিতে হয়। কখন সমিতির সভায় উপস্থিত থাকতে হয়। সমিতির সদস্যদের নামে মাসিক যে টাকা চাঁদা দেখানো হয়েছে। তাতে কোন সদস্যই ওই টাকা চাঁদা দেননি বলে জানা গেছে। সমিতির সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে কয়েকজন সদস্য। সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী সমিতি নিবন্ধনে সমবায় অফিস হতে অডিট ও হিসাবপত্র রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ৬টি খাতা দেওয়া হয়। আর ঐ খাতায় যেই হিসাব দেখানো হয় তাতে সমিতির মুলধন ৫০ হাজার টাকার নিচে। অথচ মাঠ পরিদর্শক সমবায় অফিসারকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সমিতির ২০ জন সদস্যের বাহিরে অন্য গ্রাহকদের মাঝে অন্তত ৫ কোটি টাকার উপরে চওড়া সুদে ঋণ প্রদান করার তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে। যা সমবায় নীতিমালার পরিপন্থীহী। সমিতির নীতিমালা অনুযায়ী কেবল সমিতির ২০ জন সসদস্যের নিকট হতে আদায়কৃত সঞ্চয় ও শেয়ার মুলধন থেকে সমিতির সদস্যরাই ঋন গ্রহন করতে পারবে। তাও আবার সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা মাত্র। অথচ এই নিয়মে আড়ালে এমডি রাসেল সমিতির বাহিরের সদস্যদের সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ঋন প্রদান করেছে বলে জানান একাধিক সুত্র। অডিট হলে সরকার রাজস্ব পাবে তাই নবদিগন্ত মাল্টিপারপাস তাদের অফিসে দুই সেট খাতা-পত্র ব্যবহার করে। অডিট খাতায় সমিতির মুলধন দেখানো হয় ৫০ হাজার আর অডিট বিহীন গোপন খাতায় সমিতির মুলধনের পরিমান রয়েছে ৫ কোটির উপরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, ২ লাখ টাকা দিয়ে আমিনুল ও রাসেল নবদিগন্ত মাল্টিপারপাস শুরু করে এখন ৫ কোটি টাকার উপরে মুলধন। জনগনের নিকট থেকে চড়া সুদের প্রলোভন দেখিয়ে সমবায়ের নিয়ম ভঙ্গ করে যেভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছ তা সম্পুর্ন অবৈধ। জনগনের টাকা নিয়ে এরা যেকোন সময় পালিয়ে যেতে পারে। কারন সমবায়ে নিয়ম অনুযায়ী সমিতির নামে ব্যাংক একাউন্ট থাকার কথা থাকলেও তাদের রয়েছে নিজস্ব একাউন্ট নাম্বার। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র কেবল সমিতির ২০ জন সদস্যই সমিতিতে মাসিক চাদা প্রদান করবে। কিন্তু সমিতির সদস্যদের বাহিরে নবদিগন্তের মাল্টিপারপাসের রয়েছে কয়েক হাজার সঞ্চয়ী গ্রাহক। যারা দৈনিক ১০/২০ /৫০/১০০ বা তার অধিক হারে চাদা প্রদান করে থাকে। যা সম্পূর্ন রুপে অবৈধ। সমবায়ের বিধিমালা ভঙ্গ করে এভাবে একজন লোকের নিকট থেকে মাসে ১০০০/২০০০/৩০০০ টাকা সঞ্চয় আদায় করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে বেশী সময় লাগেনা। আর গ্রাহকদের জমাকৃত সঞ্চয়ের উপর কোন লাভ প্রদান করা হয় না। অথচ ঐ সঞ্চয়ের টাকা আবার ঐ সকল গ্রাহকের মাঝে ৬৮% চক্রবৃদ্ধিহারে ঋণ প্রদান করে হয়। সমিতির নিবন্ধন অনুযায়ী সমিতির সদস্যরাই কেবল সমিতিতে সঞ্চয় ও ঋন সুবিধা গ্রহন করার কথা থাকলেও নবদিগন্ত একসেট গোপন খাতাপত্র ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার ব্যাংকিং লেনদেন করে চলছে। যেন দেখার কেউ নেই। এদিকে একই নিয়মে নামেমাত্র সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিয়ে স্থানীয় সমবায় অফিসারকে মাসোহারা দিয়ে অন্তত ৩০ কোটি টাকার মুলধন নিয়ে একাই মহাজনী চড়া সুদের ব্যবসা করে যাচ্ছে সেনাবাহিনীতে কর্মরত তৃতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তা বাদল বেপারী। জানা গেছে, বিগত সময় বাদল বেপারী দোবাদিয়া এলাকায় এই মাল্টিপারপাসের আড়ালে জনগনের নিকট থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে চলে আসে গাওয়াইর বাজারে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here