ষ্টাফ রিপোর্টার: পুরো নাম তানভীর আহম্মেদ হায়দার, এলাকায় সকলের নিকট হায়দার নামেই বেশি পরিচিত। উক্ত হায়দার একাধিক গুনের অধিকারী- একদিকে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, অন্যদিকে মাদক ব্যবসার গডফাদার, পল্লবী থানাধীন, ১০৯ নং বারনটেক, বর্তমান- ১/১ গোলটেক (বারনটেক), জনতা ব্যাংক সংলগ্ন মো: সুলতান মিয়ার ছেলে ছোট বেলা থেকেই বখাটে জীবন যাপন করে অভ্যস্ত। এলাকায় এহেন কোন খারাপ কাজ নেই যে, হায়দার তাতে জড়িত নয়।
ব্যবসায়িক সাইন বোর্ডের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ অন্যের জমি দখল, চাঁদা বাজি, জোর পূর্বক বালি ভরাট, সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে চাঁদা আদায়, ইয়াবা এবং ফেনসিডিল, গাজা ইত্যাদির ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্রভাবে চালিয়ে আসছে থানা পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগায়। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে কিছু বলেনা এবং থানা পুলিশের নিকট অভিযোগ করার দুঃসাহস কারো নাই। কেউ দূঃসাহস দেখালে তাকে হতে হয় এলাকাছাড়া অন্যথায় তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। উক্ত হায়দার ও তার গডফাদার সাবেক কমিশনার আওয়ামীলীগ নেতা হায়দারের চাচা।
মোঃ শফিউদ্দিনের সেল্টারে দীর্ঘদিন ধরে সকল জগন্য ও ঘৃন্যতম কাজগুলো করে আসছে। বর্তমান সরকারীদলের নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছেনা। এলাকায় সর্বত্র চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে দীর্ঘ দিন। গত কিছুদিন পূর্বে পল্লবী থানা আওয়ামীলীগের (প্রস্তাবিত) কমিটিতে হায়দার এর নাম সদস্য হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তার চাচা শফিউদ্দিনের তদবীরে। উক্ত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমি দস্যু হায়দারের গডফাদার তার চাচা সাবেক কমিশনার আওয়ামীলীগ নেতা ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামীলীগ এর সদস্য মো: শফিউদ্দিন শফি। উক্ত শফির ১টি লাইসেন্স করা পিস্তল রহিয়াছে যাহা সে অবৈধ কাজে প্রায়ই ব্যবহার করে। নানান জনকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দেয়ার সময় সে উক্ত পিস্তল প্রদর্শন করে। বর্তমানে সে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছে বারন টেকে। ছেলের সাথে তার দূরত্ব অনেক কারন ছেলের তার বাবার এমন সব জঘন্য ঘৃন্য কার্যক্রমের বিরোধিতা করে বিধায় ছেলেকে সে ত্যাজ্য পূত্র করেছেন। শফির ভাতিজা মাদকসেবী (ইয়াবা এবং ফেনসিডিলে) আসক্ত হায়দার ‘‘প্রিয়তা প্রপার্টিজ লিঃ’’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। উক্ত ব্যবসায় সাইন বোর্ডের অন্তরালে অবৈধভাবে মানুষের জায়গা দখলকরে এবং ভরাট করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে। ড্যাপ এর জায়গায় কাগজপত্রে মালিকানা না থাকলেও ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অনেক ক্রেতার কাছ থেকে বিরাট অংকের টাকা নিয়ে আজ পর্যন্ত ফ্ল্যাট নির্মান করে হস্তান্তর করতে পারে নাই। কারন অন্যের জমি বালু ভরাট করে প্লট গুলো বিক্রির জন্যে ‘‘প্রিয়তা প্রপার্টিজ লিঃ’’ প্লট বিক্রি চলছে মর্মে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। যাহাতে প্লট নির্মাণ এবং গ্রাহকদের নিকট হস্তান্তর করা আদৌ সম্ভব নয় কারন তাহাতে অধিকাংশ জমিই অন্যের নামে এবং জোর পূর্বক বালি ভরাট করে সাইন বোর্ড টানানো হয়েছে। গত ০৫/১২/২০১৭ ইং সন্ত্রাসী হায়দারের প্রিয়তা প্রপার্টিজ এর পাশের ৮ টি প্লটের মালিকেরা তাহাদের নিজ নিজ প্লটে দেয়াল নির্মান এবং বালি ভরাটের কাজে হাত দিলে হায়দার তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাদের লেবারদেরকে সরিয়ে দেয় এবং জমির মালিকদেরকে লাঠিসোটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে ধাওয়া করে এবং প্লটের মালিকদের মারধর করে। এতে অনেকেই আহত হন এবং প্লটের মালিক কয়েকজন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপতাালে চিকিৎসা গ্রহন করেন। এই বিষয়ে উক্ত প্লটের আটজন মালিক যৌথ ভাবে সন্ত্রাসী হায়দার ও তার গডফাদার শফির বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় গত ১৪/১২/২০১৭ ইং তারিখে মো: ফিরোজ আক্তার বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করিতে গেলে বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাদন ফকির পিপিএম) বিষয়টি থানায় বসে মীমাংসা করে দিবেন মর্মে সবাইকে আস্বস্ত করেন কিন্ত আজ অবদি বিষয়টির কোন সমাধান করেন নি। বরঞ্চ বিভিন্ন তারিখ দিয়ে উক্ত প্লটের আটজন মালিকদের থানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় অথচ শফি এবং তার ভাতিজা ভূমি দস্যু হায়দার অদ্যাবদি থানায় যায় নাই এবং আপোষ মীমাংসাও করে নাই। এই মর্মে থানার ওসির বক্তব্য তাহারা ক্ষমতাসীন দলে শক্তিশালী লোক ও টাকা ওয়ালা। তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কিছু করতে গেলে বিপদে পড়বেন। ওসির এই তালবাহানা পূর্বক কথাবার্তায় শান্তিপ্রিয় ৮ জন প্লটের মালিক বিভ্রান্ত হচ্ছে। উক্ত আটটি প্লটের প্রবেশ মুখে শফি তার ভাতিজা ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ওয়াল করে দলিলে লিখিত আট জনের প্লটে যাবার রাস্তা বন্ধ করে দয়ে এবং আটজন প্লটের মালিকের কয়েক হাজার ইট বালি ও সিমেন্ট হায়দারের সন্ত্রাসীদের দিয়ে লুটে নেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করলে এলাকা থেকে তাড়ানোর হুমকি দেয়। অত্র আট জনই শফির নিকট হইতে খরিদ সূত্রে প্লটের মালিক। দলিলে সুস্পষ্ট ভাবে মূল রাস্তা হইতে চলাচলের জন্য আট (৮) ফুট রাস্তা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে শফি কোন রাস্তা দিতে আগ্রহী নয়। তাহলে আট জন্য প্লটের মালিক তাহাদের প্লটে কিভাবে প্রবেশ করবেন? এ সবই শফি এবং তার ভাতিজা সন্ত্রাসী হায়দারের প্লট দখলের ষড়যন্ত্রের অংশ। অন্যের জমি নানাবিধ কৌশলে দখল করাই ভূমিদস্যু হায়দার এবং গডফাদার শফির কাজ। উক্ত আটটি প্লটের মালিকদের পরিচয় ও ঠিকানা নি¤œরূপ: (১) মো: ফিরোজ আক্তার (৫৩), পিতা: মৃত মাষ্টার গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ, সাং- সেকশন-১, ব্লক-এইচ, রোড-৮, বাসা-৯(২য় তলা) থানা- শাহআলী, ঢাকা। (২) মো: মজিবুল হক মজুমদার (৬২), পিতা-মকবুল হক মজুমদার, সাং- ৪১ শাহিনবাগ, থানা- তেজগাঁও, ঢাকা, মোবাইল- ০১৭১১২৩২২৪৬, (৩) মো: রবিউল ইসলাম (৩০) পিতা: আবুল হোসেন বেপারী, সাং- ৭৮ নং বারন টেক, থানা- পল্লবী, ঢাকা- মোবাইল-০১৯১১৩৪৮২২১, (৪) ডাঃ মোঃ আলমাস (৪৫), পিতা: মো: আব্দুল গাফ্ফার, সাং- বাইগার টেক, থানা- পল্লবী, ৩৬০০, মোবাইল- ০১৭১১৫৮৪৪০৭, (৫) সাইদুর রহমান (৪৫), পিতা: মৃত ফজলুর রহমান, সাং- ৮২/১, বাইগার টেক, থানা: পল্লবী, ঢাকা, মোবাইল- ০১৭১৬০৯২৭৬৫, (৬) নাঈমা খাতুন (৩৯), স্বামী- মোঃ নাজিম উদ্দিন, তাং- ৩২/২ আলী নেকির দেওরী, নাজিম উদ্দিন রোড, থানা: কোতয়ালী, ঢাকা, মোবাইল- ০১৭২৭৩০৯০৪৪, (৭) এম এ মজিদ খান (৫৫) পিতা- মৃত ইদ্রিস আলী খান, সাং- বারন টেক, থানা পল্লবী, ঢাকা, মোবাইল নং- ০১৭১২৩৬৪০৫৬, (৮) আব্দুল খালেক (৪৭), পিতা: মৃত ইদ্রিস আলী খান, সাং-১০৬ বারন টেক, থানা: পল্লবী, ঢাকা। মোবাইল নং- ০১৮৫১৫৪০৬৬৯, উক্ত আট জনই শফির নিকট হইতে প্লট ক্রয় করেন এবং ক্রয় সূত্রে মালিক। উক্ত গড ফাদার শফি এবং তার ভাতিজা মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যু হায়দার পারস্পরিক যোগসাজশে জমি দখল করিতে চায়।
তফসিল- জেলা: ঢাকা, থানা: সাবেক মিরপুর হালে পল্লবী ও সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস মিরপুর এলাকাধীন, ঢাকা কালেক্টরীয় তৌজিভূক্ত। সাবেক ২১১ নং হালে ৩৬ নং মৌজা বটে নিয়াস্থিতি। সিএস নং-৬৬৯, এসএনং-২০৪০, মহানগর দাগ নং-৩৩৩৪৭ ও ৩৩৩৮৭ নং দাগে মোট ২৫ (পঁচিশ) কাঠা জমি ক্রয় সূত্রে মালিক হইয়া ভোগ দখলে বর্তমান। উক্ত জমির মালিকগন তাদের জমিতে প্রবেশের রাস্তা মুক্ত করন ও জমিতে প্রবেশে বাধা প্রদান থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করার জন্যে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এবং শফি এবং তার ভাতিজা অনেককেই হত্যার হুমকি দেওয়ায় অনেকেই ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে গডফাদার শফি এবং তার ভাতিজা ভূমি দস্যু, সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী হায়দারের কালো থাবা থেকে রক্ষা করার জন্যে নানান জনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
বি:দ্র: সন্ত্রাসী হায়দারের বিরুদ্ধে গত ০৯/১২/২০১৭ ইং দায়েরকৃত জিডি নং-৪৮৩/১৭ এছাড়া হায়দারের বিরুদ্ধে রয়েছে অনেক জিডি ও বিভিন্ন অভিযোগ।

