সকালের খাবার দুপুরে, আবার দুপুরের খাবার রাতে খেতে হয়

0
620

‘মোরা স্যার কাম না করলে খামু কী? কেউ তো মোগো লইগা খাওন বাড়ি লইয়া আয় না। বেয়ান (সকাল) হইতে রাইত পর্যন্ত হগোল দোহানে পানি দিয়া যে টাহা পাই হেইয়া দিয়া চাউল কিনি আর হেইতেই মোর সংসার চলে’—কথাগুলো সূর্যভানু বেগমের।

Advertisement

থাকেন বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। আগে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন সূর্যভানু। এখন পানি টেনে সংসার চালান। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বেতাগী বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন দোকানে কলসিভর্তি পানি টানেন। দোকানদারের চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে হয়। কোনো দোকানে টিউবওয়েলের পানি আবার কোথাও খালের পানি দেন। কাজের জন্য সময়মতো খেতেও পারেন না। কখনো সকালের খাবার দুপুরে, আবার দুপুরের খাবার রাতে খেতে হয়। ৯ বছর আগে সূর্যভানুর স্বামী আব্দুস ছোমেদ মারা যান। টানাপড়েনের সংসারে ছেলে মো. শাহীন (২১) মাত্র চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত আর মেয়ে মুন্নি (১৯) পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছেন। গত বছর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। পানি টেনে কলসপ্রতি পাঁচ টাকা করে আয় করেন তিনি। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় তাঁর। তবে সূর্যভানু বললেন, ‘মুই এ্যাহন আর আগের মতো কাম করতে পারি না।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here