সংসদ উত্তপ্ত ফারমার্স ব্যাংকের অপকর্মে

0
676

জলবায়ু ফান্ডের ৫০৮ কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংক ফেরত না দেয়ার কারণ নিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই অর্থ ফেরত পেতে ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চান জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন। জবাবে মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যাংকটির তারল্যের সঙ্কটের কথা জানান। এরই জেরে এক অনির্ধারিত আলোচনায় দেশের ব্যাংকখাতের দুরবস্থা নিয়ে ফের সংসদ উত্তপ্ত হয়।

Advertisement

এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী জানান, সর্বোচ্চ সুদের হার প্রদান করায় দ্য ফারমার্স ব্যাংকের ঢাকার বিভিন্ন শাখায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের ৫০৮ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা ১ বছর মেয়াদে স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা রাখা হয়। এর মধ্যে ৪৫৫ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। যা নগদায়নের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরে কয়েকবার চাহিদাপত্র পাঠিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে এফডিআরগুলো নগদায়ন করা যাচ্ছে না। মন্ত্রী বলেন, ‘এফডিআরগুলো নগদায়নের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ওই প্রশ্নের জবাবের কথা উল্লেখ করে এক অনির্ধারিত আলোচনা শুরু করেন বিরোধী দলের আরেক সংসদ সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে বাঁচান। একই দলের সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামও আলোচনায় অংশ নিয়ে বাবলুকে সমর্থন করেন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বব্যাংকে আটকে থাকা ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যাপারেও সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর আলোচনায় অংশ নেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিরোধী দলের সমালোচনাকে ‘গঠনমূলক’ উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংক খাতের ব্যাপারে আমারও ধারণা জন্মেছে, এ ব্যাপারে আমাদের আরো যত্নবান ও সতর্ক হতে হবে। কারণ ব্যাংকিং খাত আমাদের অর্থনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে।’ তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এসব ব্যাপারে নিরবে নেই। ফারমার্স ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান দেয়া হয়েছে। এদিকে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য একে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮৩ হাজার কোটি টাকার ৬০ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৫৬০ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রকল্প ৪৯৭ টি আর বেসরকারি প্রকল্প ৬৩টি। মন্ত্রী আরো বলেন, গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে ২২৭টির (সরকারি ১৭০টি, বেসরকারি-৫৭টি) কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ৩৭ কোটি ৩ লাখ ২ হাজার ৩০০ লাখ টাকা বরাদ্দে মোট ২৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here