সংবাদ প্রকাশ করায় একাধিক মামলার হুমকি

0
1113

পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ মাননীয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম, এমপি এর দৃষ্টি আকর্ষন করছি
ভন্ডপীর মাইনুদ্দিন এর খুটির জোর কোথায়?

Advertisement

াবিব সরকার স্বাধীনঃ
বিগত কয়েকটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিলো বাঞ্ছারামপুর থানার হোগলাকান্দী গ্রামের ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিনের অপকর্মের কীর্তিকলাপ। সংবাদ প্রকাশের কিছুদিন পর সে তার ক্যাডার  বাহিনীর মাধ্যমে অপরাধ বিচিত্রার প্রতিবেদককে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদর্শন করে এবং সে আরোও বলে যে, আমার নামে হাজারও লেখালেখি করে কোন লাভ নেই বরং আপনারা (প্রতিবেদকরা) আমার কাছ থেকে চা-নাস্তা বাবদ কিছু টাকা নিয়ে  এতে করে আপনাদের পকেট ভারী হবে। ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিনের কুকীর্তিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এলাকার কিছু অসৎ রাজনীতিবিদ  সমর্থন দিচ্ছে। অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধান টিম ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিনের সাথে এ বেপারে আলোচনা করতে তার আস্তানায় গেলে তিনি (ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন) বিশাল আকারের প্রিন্ট করা একটি তালিকা তাদের সামনে প্রদর্শন করে, যাতে রয়েছে বিভিন্ন র‌্যাব, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার। অপরাধ টিমের নিকট অবাকসূচক বিষয় হলো যে, তিনি (ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন) কিছুদিন পরপর মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে, এর কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন কিছু বলতে নারাজ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম্বার ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে চলছে। অনেকের কাছ থেকে ঔষধের নামে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পরবর্তিতে মোবাইল বন্ধ করে দিচ্ছে। কোন ভুক্তভোগী যদি তার ঠিকানায় বাড়িতে চলে যান তাহলে তার (ভুক্তভোগীর) উপর নেমে আসে (ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন) এর পোষা পেটোরা বাহিনীর অত্যাচার যাদেরকে ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন মাশওয়ারা দিয়ে থাকেন। এইতো কিছুদিন আগে গত ১২ ই এপ্রিল আনুমানিক বেলা ১১.০০-১১.৩০মিনিটে নিলুখী থেকে আগত এক ভুক্তভোগী মেয়ে (ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিনের) আস্তানায় এসে জানায় যে তার (মাঈনউদ্দিনের) কাছ থেকে যে তাবিজ নেওয়া হয়েছিল সে তাবিজে কোন ফলাফল না হওয়ায় তার (ভুক্তভোগীর) দেওয়া নগদ ৫০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দাবি করে। কিন্তু ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন তাকে টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন অজুহাত স্থাপন করে এবং কূকর্মের ভয়ভীতি দেখায়। শুধু তাই নয়, এই ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন এর কাছ থেকে কত নিরীহ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছে তা অপরাধ টিমের অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছে। এবং তার গ্রামের অনেকেই আমাদের অনুসন্ধানী টিম এর নিকট তথ্য দিয়েছে সে তার নিজের গর্ভধারিণী মাকে স্বামীর ভিটা ছাড়তে বলে, মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এমনকি গায়ে পর্যন্ত হাত তুলতে কুন্ঠাবোধ করে না।মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত আমরা সকলে জানি এবং বিশ্বাস করি কিন্তু সেই মাকে এতো কষ্ট দিয়ে এই ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন আজ রাজ প্রাসাদে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। অথচ বৃষ্টি আসলে তার মায়ের বসত ঘরে থাকতে পারে না, অন্যের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। এমনকি অন্যের ঘরে কাজ করে খেতে হয়। ভন্ডপীরের রাজ প্রাসাদে রয়েছে ১০টি কামরা এবং ৫তলা ফাউন্ডেশন করা এর একটি মাত্র কামরায় থাকে তার নব-বিবাহীতা স্ত্রী। প্রিয় পাঠক আপনারা শুনলে অবাক হবেন তার প্রথম স্ত্রীর ঘরের প্রথম সন্তানের বয়স এখন প্রায় ২২বছর অথচ এই ভন্ডপীর মাঈনউদ্দিন ৪৫ বছর হওয়া সত্বেও সুন্দরী যুবতীর প্রতি রয়েছে তার অগাধ নেশা ও লোভ। যার প্রমাণ তার এই নব বিবাহীতা স্ত্রী। তাইতো এলাকার লোকজন তার নাম দিয়েছে কৃষক থেকে পীর মাঈনউদ্দিন। এখানেই শেষ নয় তার আরেক স্ত্রী রয়েছে কুয়েতে। যাকে মাঈনউদ্দিন নিজের টাকা দিয়ে কুয়েতে পাটিয়েছেন মোটা অংকের টাকা ইনকাম করে আনার জন্য। আজ থেকে ১২-১৩বছর আগে সে ছিল কৃষক আজ সে মস্তবড় পীর। অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে হোমনা থানা মিঠাভাঙ্গা গ্রাম ভন্ড মাঈন উদ্দিনের জন্মস্থান। তার নানার বাড়ী বাঞ্ছারামপুর থানার কমলপুর গ্রামে। তার পিতা মৃত. সুরুজ মিয়া ছিলেন একজন দিনমজুর, উনি ছিলেন অত্যন্ত ভালো এবং সৎ চরিত্রের অধিকারি। পারিবারিক কলহের জের ধরে তিনি বসতি গড়েন বাঞ্ছারামপুর থানার হোগলাকান্দী গ্রামে। এই হলো বন্ডর প্রকৃত পরিচয়।
প্রতারণার গল্পঃ
আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের কথা সালটা ১৯৯৬ সালের শেষের দিক সে হঠাৎ অসুস্থ্যতার অবিনয় করে গ্রামের পারা-প্রতিবেশি ও তার নিকট আতœীয় স্বজনদের সবার কাছে মাফ চেয়ে বলে যে, আমার হয়তো দুনিয়াতে বেচেঁ থাকার সময় শেষ এর কিছুদিন পর হঠাৎ সে গ্রাম ছেড়ে উদাও। কেউ জানতো না সে কোথায় আছে, বেচে আছে নাকি মারা গেছে। এভাবে তার জীবন থেকে হারিয়ে যায় প্রায় ৩ বছর। সত্য কখনো চাপা থাকে না। একদিন হঠাৎ করে সে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসে। এবং গ্রামে বলে বেড়ায় সে আধ্যাতিœক জগতে ছিল এবং সে অনেক অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা দিয়ে সে মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে পারে। আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সে (ভন্ডপীর) ছিল বাঞ্ছারামপুর থানার ছলিমাবাদ গ্রামের মৃত ওছমান ফকিরের শীর্ষ। যেখানে ওস্তাদ একজন সাধারণ ফকির সেখানে শীর্ষ কীভাবে এত বড় কামেল বাবা হতে পারলো সাধারণ মানুষের কাছে অপরাধ বিচিত্রার প্রশ্ন রয়ে গেল। ভন্ডপীর নিজ এলাকার সাধারণ একজন ফকিরের কাছে থেকেও তিনি নিজেকে ভারতের আসাম রাজ্যের পাহাড়ি উপজাতি এবং কামরূখ কামাখার মন্ত্র সাধনের সাহায্যে এসব অসাধ্য সাধন করার অর্জন করেছে বলে দাবি করে এবং প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে পরে। অথচ তার ব্যবহৃত অলৌকিক জিনিস হলো শুধুমাত্র একটি আগরবাতি, একটি কাচের গলাস, গোলাপজল এবং কিছু টুকরা কাগজ ও একটি লাল রঙ্গের কলম। এগুলো সামন রেখে সে দূর-দূরান্ত থেকে আগত অসহায় মানুষকে সর্বশান্ত করে। চিকিৎসা ধরণঃ দুরের মানুষ কাছে আনা,সংসার বিচ্ছেদ করা, বন্ধা মহিলার গর্ভধারণ করা, শক্রকে ধ্বংস করা, ব্যবসায় আয় বৃদ্ধি করা, যৌন সমস্যার সমাধান করা, মামলায়/শালিসে জিতিয়ে দেয়া, হারানো মানুষকে ফিরিয়ে পাওয়া সহ আরো অনেক জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা গ্যারান্টি সহকারে করে থাকে। আর এসকল কাজের নজরানা হিসেবে ভুক্তভোগীকে গুনতে হয় সহস্রাধিক টাকা। তার অসংখ্য আস্তানা রয়েছে-ক) তেজখালী থানাঃ বাঞ্ছারামপুর খ) বাতাকান্দী থানাঃ হোমনা গ) হোমনা সদর ঘ) আগাঁরগাও,ঢাকা এবং ঙ) নরসিংদী। গত কিছুদিন পূর্বে তেজখালী আস্তানায় এলাকার কিছু স্থানীয় লোকজন ভন্ডকে মেরে আস্তানা থেকে বের করে দেয়। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, তার বর্তমান নিজ গ্রাম হোগলাকান্দী গ্রামের কিছু পরিচিত আতœীয়ের কথায় ভন্ডকে ছেড়ে দেয় স্থানীয়রা। তবুও থামছেনা ভন্ডর প্রতারণার দৌরাত্ব। ভন্ড মাইনউদ্দিনের কু-কর্মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপরাধ বিচিত্রায়  তুলে ধরার পর বিভিন্ন সন্ত্রাসি এবং কিছু উপরযত রাজনৈতিক মহল দিয়ে হুমকী ধুমকী অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু বাঞ্ছারামপুর থানার সর্বস্তরের জনগন অপরাধ বিচিত্রার এই প্রদক্ষেপ এবং ভন্ড মাঈনউদ্দিনের মুখোশ খুলে দেয়ায় বিভিন্নভাবে অপরাধ বিচিত্রাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং এর আইনী সমাধান চেয়েছেন। অভিযোগরে আশ্বাস পেয়ে আমরা গর্বীত। তাছাড়া বাঞ্ছারামপুর থানার ১৩টি ইউনিয়ন সবার কাছে ওসির আলাদা সুনাম আছে বলে জানা যায়। ইতিপূর্বে আমরা আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন পুলিশ সুপার (০৩/০৭/২০১৬) উপজেলা চেয়ারম্যান বাঞ্ছারামপুর, (২১/০/২০১৬), অফিসার ইনচার্জ (৩১/০৭/২০১৬), ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বরাবর পর্যায়ক্রমে একের অধিক বার পাঠানো হয়েছে। এরই কিছুদিন পর অপরাধ বিচিত্রার (সাংবাদিক) এর মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে এবং সে নিজে বাঞ্ছারামপুর থানার এস.আই আলী দাবি করে আমাকে এই ভন্ড পীরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আমাদের প্রতিবেদনের কপি চায় আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার অযুহাতে। তাকে কপি পাঠানো হয় এবং যোগাযোগের স্বার্থে তাকে ফোন করা হয় এবং আমরা তার নাম্বার বন্ধ পাই। নাম্বারটি তুলে ধরা হল “০১৯১৯৪৭৫২২১”। পরবর্তীতে বাঞ্ছারামপুর থানার অফিস ইনচার্জ এর সাথে কথা বললে জানা যায় ঐ নামে তাদের থানায় কোন এস.আই নেই এবং একই ধারাবাহিকতা আবারও আওয়ামীলীগ এর সহ সভাপতি পরিচয় দিয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা ছোনিয়াবাদ গ্রাম থেকে ০১৯৮৬২৭৬৪১৫ নাম্বারে ফোন করা হয়। সে বলে তার হাত অনেক লম্বা এবং আমাদের সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে। এতে করে তিনি আওয়ামীলীগের নাম ক্ষূণ্য করছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। অতএব মাননীয় সাবেক মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম এম.পি এর দৃষ্টি আকর্ষন করছি। ধর্ম ব্যবসায়ী কে আইনের আওতায় আনা হোক এবং কেউ যেন আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হক। ভন্ডপীর মাইনুদ্দিন এর ব্যাপারে পরবর্তীতে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here