অপরাধ বিচিত্রা রিপোর্ট: বিশ সেরা মিথ্যুক হিসেবে মাইক নাইলর টানা চারবার সেরা খেতাব অক্ষুত্র রেখেছেন। এ বছর ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট কাম্প্রিয়ার অনুষ্ঠিত সেরা মিথ্যুক প্রতিযোগিতায় ৫৯ বছরের মাইকের চ্যাম্পিয়ানশিপ বিশ্ববাসিকে অবাক করে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমের কাউন্টি ওয়েস্ট ক্যামব্রিয়ার ব্রিজ-ইন এ একটি পানশালায় প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় ব্রিজ ইনের কুখ্যাত ভূস্বামী উইল রিটসন স্বরণে। প্রজাদের সঙ্গে মিথ্যাচারে কুখ্যাত ছিলেন তিনি।
দারুন পারফরম্যান্স দেখান তার রাজকীয় বংশ পরিচয়ে। বাকিংহাম প্রাসাদে ভ্রমণের অনবদ্ধ কল্প কাহিনী শুনাতে যেয়ে তিনি বিচারকদের অবাক করে দেন। তিনি বলেন, দাড়ি কামাতে যেয়ে তার গাল কেটে গেল।
প্যারামেডিক্স হাতুড়ের
কাছে শোনেন:
তার শরীরে রাজরক্তের অবস্থানের কথা। এহেন মিথ্যাচারে আসরকে মাতিযো দেয়ার ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। সেরা মিথ্যাচারের অদ্ভুত কল্পশক্তিধর মাইক এর মিথ্যাচারের ক্ষমতার জন্য তার ঘোটা ঘর ভরে গিয়েছিল পুরস্কারে। তবে মাইক নাইলরকে হার মানানোর ঘটনার জম্ন দিয়েছেন বাংলাদেশের সংবাদপত্র সেক্টরে রুটি রুজির আন্দোলনের শীর্ষ তারকা দাবিদার দৈনিক সংগ্রাম এর চীফ রিপোর্টার রুহুল আমীন গাজী। তার পিলে চমকানো বুজরুকি মিথ্যাচারের কুখ্যাতি বিশ্ব মিথ্যাচারের রেকর্ড ম্নান করে দেয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা উড়িযে দেয়া যায়না।
রুহুল আমিন গাজীর প্রতিবাদ প্রতিবেদকের বক্তব্য:
গত ২২ মে ২০২৩ সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় প্রকাশিত ‘রুহুল আমিন গাজীর কোন তথ্য সঠিক’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের চীফ রিপোর্টার রুহুল আমিন গাজী। তিনি দাবি করেছেন, প্রকাশিত তথ্যগুলো বানোয়াট, মনগড়া, কাল্পনিক বিদ্বেষ প্রসূত। আমি একজন সিনিয়র সংবাদকর্মী, দেশের পেশাদার সংগঠনগুলোর সিনিয়র সদস্য এবং দেশের সাংবাদিকদের রুটি রুজির আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতৃস্থানীয়। অপরাধ বিচিত্রায় প্রকাশিত সংবাদটি আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।
প্রথমত; দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক হওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আমি কোন সার্টিফিকেট জমা দেইনি। পত্রিকাটির সম্পাদক হওয়ার আমার কোন অভিপ্রায় নেই। আর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে পিলে চমকে ওঠার মতো কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে আমার চিফ রিপোর্টার পদ কখনো যায়নি। মাত্র কয়েকদিনের জন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দৈনিক সংগ্রামের আমি বিশেষ প্রতিনিধি ও চীফ রিপোর্টার। বিশেষ প্রতিনিধির চেয়ে চিফ রিপোর্টারের পদ উন্নততর নয়। তাই তদবির করার প্রশ্নই আসে না। পত্রিকাটির ৬৪ জেলায় পত্র দেওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে সংবাদ কেবল অপপ্রচারের জন্যই করা হয়েছে।
এছাড়া দৈনিক সংগ্রামের আমার চাকুরী জীবন নতুন নয়। সুতরাং চাকুরী রাখা বা পদোন্নতির জন্য সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি সম্পাদক হওয়ার জন্যও সাংবাদিকতার বয়সই যথেষ্ট। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি কখনো পড়াশুনা করি নাই। তাই ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
দ্বিতীয়ত; মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে দেশ মাতৃকার জন্য লড়াই করেছি। দেশের জন্য কিছু করতে পারাটাই আমার জন্য গর্ব। জীবন দিয়ে যুদ্ধ করেও অনেকেই সার্টিফিকেট নেননি। তাই বলে কি আমরা সবাই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাবো? সার্টিফিকেটের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। এবং কোথাও কারো কাছে কোন সার্টিফিকেট চাওয়া হয়নি।
তৃতীয়ত; দায়িত্বের খাতিরে এবং কাজ আদায় করার জন্য অনেক সময় সহকর্মীদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করতে হয়। আমার বেলায় হয়তো তাই করতে হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনা গণমাধ্যমে চলে আসাটা দু:খজনক। আবার সেই সামান্য ঘটনাটিকেও কল্পিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘদিন ধরে আছি। কিন্তু এ ধরণের কল্পকাহিনী যদি এভাবে তৈরি করে ছাপা হয় তাহলে সত্য পালাতে বাধ্য হবে। সংবাদটিতে তদন্ত কমিটির কথা বলা হয়েছে; অথচ দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ কোন তদন্ত কমিটি গঠন করে নাই। এটি কতটা মিথ্যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
রুহুল আমিন গাজী প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানাতে যেয়ে অসত্য তথ্যের অবতারণা করেছেন। নিজেকে সাংবাদিক সমাজের অবতার হিসেবে জাহির করতে যেয়ে কুৎসিত মিথ্যাচারের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। মানুষ কত নিচে নামলে মিথ্যার বেসাতি করতে পারেন তার জ¦লন্ত প্রমাণ হই সাংবাদিক। তিনি দাবি করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো পড়াশুনা করেননি। তার দাবিকৃত একটি তথ্য সঠিক বলে আমরা নিশ্চিত। তা হ’ল তিনি কখনোই বিশ^বিদ্যালয়ে পড়েননি। মূলত আলোচ্য রিপোর্ট তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ কেন্দ্র করে।
দৈনিক সংগ্রাম এ দাখিলকৃত ও তার স্বাক্ষরিত জীবনবৃত্তান্তে তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন। সরকার ও রাজনীতি বিভাগে বিএ (সম্মান) ২০০১ এবং সমাজ বিজ্ঞানে মাস্টার্স ২০০২। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না থাকা রহস্যজনক। কথিত এই সনদপত্র কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের। অথচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ২০০৬ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিকতার সময় ২০০৭ সাল। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সনদপত্র তার নামের সাথে গাজী ছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্রে গাজী নেই। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন? এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাব সদস্য চরিতাভিধান ২০০৪ এ ১২২ পৃষ্ঠা, ২০১৪ সালে ১৫৮ পৃষ্ঠায় শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক উল্লেখ করেছেন তিনি। তার এই ডিগ্রী কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সে বিষয় তদন্ত হওয়া জরুরী সত্যের স্বার্থেই।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য, ঢাকায় একটি আদালতে বিচারাধীন রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় করাগারে ডিভিশন লাভের দাখিলকৃত আবেদন পত্রে তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্র দাখিল করেছেন তা যাচাই করা অপরিহার্য। সেটি বানোয়াট হয়ে থাকলে বিচার বিভাগের সঙ্গে প্রতারণা নয় কি?
দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ রুহুল আমীন গাজীকে চীফ রিপোর্টার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেশের ৬৪ জেলা প্রতিনিধিকে কোন পত্র দেয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। শুধু ৬৪ জেলা নয়; চার বুরে্য প্রধানকেও এই অব্যাহতি পত্র পাঠিয়ে গাজীর ব্যাপারে অবহতি করা হয়েছে। তার জঘন্য মিথাচারের প্রমাণ হিসেবে দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত চিঠিটি পাঠকের উদ্দেশ্যে পুণরায় মুদ্রিত করা হলো।
রুহুল আমিনের প্রতিবাদপত্রে প্রস্ফুটিত হয়েছে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্বব্যবহার করেন। একারণে তিনি কারো কারো অসন্তোষের শিকার। তার দুর্নীতি এবং অপেশাদার আচরণ তদন্তে কোন কমিটি গঠিত হয়নি বলে দাবি করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির চলমান তদন্ত অস্বীকার করা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার শামিল নয় কি?
রুহুল আমিন গাজী স্বদম্ভে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে এলেও অবশেষে শিকার করেছেন তার কোন সনদ পত্র নেই। বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত এই সৈনিকের দাবি প্রতারণা ও জালিয়াতিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। এরপর অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে গুনধর এই নেতার চরিত্র উম্মেচিত হওয়ার পর ছাত্রলীগার এবং মুক্তিযোদ্ধার দাবি থিতিয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকদের রুটি রুজির আন্দোলনের দাবিদার রুহুল আমিন গাজী পুঁজি হুংকার। কোন পত্রিকা অফিসে বেতন বকেয়া এবং পেশাগত সংকট দেখা দিলেই তিনি দরদী বেশে হাজির হয়ে গলদগর্ম ঝরান। গোপনে মালিক পক্ষের সঙ্গে অর্থবহ সম্পর্ক করে পাততাড়ি গুটিয়ে চম্পট দেন। এমনকি তার কর্মস্থল দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক কর্মচারীরাও এই অপকৌশলের শিকার। তবে মাসিক ৪২ হাজার ৯৫৪ টাকা বেতনভোগী এই সাংবাদিক নিজের আখের গোছাতে ভোলেননি। রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় ১ বছর ৫ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তিলাভের পর তিনি প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ী কিনেছেন। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের শাসনামলে তার ভাগ্যের চাকা দ্রত ঘুরতে থাকে। তখন রাজধানীর ২৩/ক ইস্কাটন রোডের সাউথ ইস্ট ব্যাংকে রুহুল আমিন গাজীর এক্যাউন্টে এক সপ্তায় মাত্র চার কর্মদিবসে ৯৬ লাখ টাকা জমা হয়। তখন তার ওই এক্যাউন্টে টাকার পাহাড় জমে উঠে। ২০ নিউ ইস্কাটন গাউসনগর রমনায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মিরপুর ১১ নম্বরে এফ ব্লকে সাংবাদিক সমবায় সমিতির ২৭ নম্বর প্লটে বিলাসবহুল পাঁচতলা আলিশান বাড়ি আছে তার। রাজউক পূর্বাচল ব্লকে সেক্টর ২, রোড ৪০৩ প্লট ০০৬ এ আছে ১০ কাঠার প্লট। উওরায় একটি বাগানবাড়ী স্থানীয়দের কাছে গাজী মহল হিসেবে পরিচিত। এ বাড়ী ঘিরে রয়েছে নানাবিধ গুঞ্জন। এই সাংবাদিক নেতা পাকিস্তান ও ভারত সহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে গেছেন। সেখানে ব্যয় হয়েছে লাখ লাখ টাকা। তার আয়কর নথি সম্পদ বিবরণী এবং প্রাপ্ত বেতন এবং বিলাসী জীবনযাপনের বাস্তবতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত: প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রুহুল আমিন গাজীর মতামত জানতে গত ১১ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোন জবাব মেলেনি।

