সূত্র জানায়, ভ্যাট আইন, ভ্যাটের হার ও বাজেট নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী দুটি নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথমত, ব্যবসা ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং দ্বিতীয়ত, অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী শনাক্ত করে শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রসঙ্গত, ভ্যাট আইন নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কারণ এ আইনে ব্যবসায়ীদের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট চাপিয়ে দেয়া হয়। এতে পণ্য উৎপাদন এবং পণ্যমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান হুমকি-ধমকিসহ নানা মন্তব্য করেন। ব্যবসায়ী নেতারাসহ দেশের পুরো ব্যবসায়ী সমাজ বিষয়টি কোনোভাবে মেনে নিতে পারছে না। ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৩৮তম পরামর্শক কমিটির সভায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বক্তৃতার একপর্যায়ে বলেন, ‘এখানে কে-কী করেন, সবার নাড়ি-নক্ষত্র আমার হাতে আছে। সবার ডাটাবেজও আছে। এজেন্সি আমাকে ডে টু ডে ভিত্তিতে রিপোর্ট করে কোথায় কী হচ্ছে। আমি তো চুপ করে থাকি। যত বেশি তথ্য পাই, তত বেশি ধীরস্থির থাকি।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের অভ্যন্তরে যারা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেন দয়া করে তাদের ওয়াজ-নসিয়ত করেন। না হলে আমি মেডিটেশনের কোর্স শুরু করেছি। স্কুল আছে। সেখানে এক্সপার্ট প্যানেল আছে। তারা ধ্যান মেডিটেশন নিয়ে কাজ করে। বেশি রাগ হলে সেখানে পাঠিয়ে দিয়েন। উত্তপ্ত লোহাকে শীতল করার প্রশিক্ষণ আমার আছে।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যেভাবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছিল তা শুধু ব্যবসায়ী সমাজ নয়, সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলত। দিনশেষে যা সরকারের জন্য মোটেও ভালো ছিল না। বিশেষ করে নির্বাচনের বছরে এমনটি করা হলে আওয়ামী লীগের জন্য বুমেরাং হতো। সর্বোপরি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এনবিআর চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক বক্তব্য পুরো পরিবেশকে আরও বিষিয়ে তুলেছে।
জানা গেছে, বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে ১ হাজার ৩৬২টি পণ্য ও সেবার ওপর বিভিন্ন হারে সম্পূরক শুল্ক বা এসডি আরোপ আছে। আর স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত সিগারেট, বিড়ি, শ্যাম্পু, টাইলসসহ ২৫-৩০টি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। নতুন ভ্যাট আইনে সর্বোচ্চ মাত্র ১৭০টি পণ্য ও তিনটি সেবার ওপর আমদানি ও স্থানীয় উভয় পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার সুযোগ থাকছে।
বিতর্কিত এ আইনে ২৪১ ট্যারিফ লাইনগুলো ছাড়াও এসডি অপসারণ করার কথা বলা হয়েছে। যার ফলে আমদানি পণ্যের কাছে মার খাবে দেশে উৎপাদিত পণ্য। এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক অর্থনীতিতে। বাজেট বৈঠকেও অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার বা কমাতে হচ্ছে। এতে দেশি শিল্প কঠিন প্রতিযোগিতায় পড়বে। তবে শেষ পর্যন্ত এ বিতর্কিত ভ্যাট আইন সংশোধনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হচ্ছে। যার সুফল পাওয়া যাবে আগামী নির্বাচনে। এ খবরে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
