নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা মহামারীর এবং সড়ক আন্দোলনসহ নানা সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়ে কটাক্ষ করা মো: ফরহাদ হোসেনকে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে। ১৬ মে বেসরকারি সম্মিলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সুমন এবং সাধারণ সম্পাদক এ এইচ স্বাগত স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেন।তবে কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া মো: ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, করোনাকালীন সময়ে সরকারের স্বাস্থ্যখাত, সড়ক আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ রয়েছে।এমন একজন বিতর্কিত ফরহাদ হোসেনকে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। এমনকি পদ পাওয়া ৫ জনের মধ্যে তিনজন নেতাই বলেছেন, ফরহাদ হোসেন কখনোই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না। এমনকি ছাত্রলীগের পোস্টারও ছিঁড়েছিল ফরহাদ হোসেন।
অভিযোগ উঠে যে সভাপতি পদে মনোনীত ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ইতোপূর্বে করোনার প্রথম ঢেউ চলাকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী পালনকে কটাক্ষ করে এবং সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণকর কাজকে বিদ্রুপ করে সরকার বিরোধী বিভিন্ন সমালোচনা করে।
এই সবগুলো স্ক্রিনশট ভোরের পাতার হাতে রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিকভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় না থেকেও আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন ফরহাদ হোসেন।
এমনকি বেসরকারি সম্মিলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ স্বাগত’র বিরুদ্ধে রাজধানীর ইস্কাটন রোডে অবস্থিত একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শীর্ষ নেতার কাছ থেকে মোটরসাইকেল উপহার নিয়ে পদ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেসরকারি সম্মিলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সুমন ভোরের পাতাকে বলেন, ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগটি সত্য নয়। ২০১৮ সাল থেকেই ফরহাদ সক্রিয় ছিল। তবে, প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করার বিষয়টি তার জানা ছিল না।
কমিটি হওয়ার পর বিষয়গুলো আমরাও জেনেছি। অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। এমনকি ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কেও জানানো হয়েছে। তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফরহাদ হোসেনকে বহিষ্কার করা হবে। তবে অর্থ লেদদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন মিজানুর রহমান সুমন।
বেসরকারি সম্মিলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ স্বাগতকে ফোন করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়া, আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেনের ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

