মো: আবদুল আলীম: ঢাকা শহরের যাত্রাবড়ি থানা এলাকায় অবস্থিত শহীদ জিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজটি যাত্রা শুরু করে ১৯৯২ সনে। এক সময় ছাত্রী সংখ্যা প্রচুর থাকলেও অনিয়ম দুর্নীতির কারনে তা ক্রমশ: কমে আসছে। বর্তমান অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কোন অভিযোগেরই সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না বলে ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক এমনকি এলাকাবাসী সবাই ক্ষুদ্ধ। এ পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে যেসব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তার কপি এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে তিনি এতদিন অনিয়মের মাধ্যমে অধ্যক্ষের পদ দখল করে রাখতে পারেন না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলে এ পর্যন্ত একাধিক শিক্ষক তার রোষানলে পড়ে কেউ বরখাস্ত, কারও বেতন বন্ধ। ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, এলাকাবাসী, প্রশাসন কাউকে তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না। গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে দাপুটে এই অধ্যক্ষ যাচ্ছে তাই আচরন করছেন। অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অধ্যক্ষ হিসেবে তার নিয়োগই অবৈধ। ০১/১১/১৯৯৩ তারিখে তিনি ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে স্কুল শাখায় যোগদান করেন।
০১/১১/১৯৯৪ তারিখে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তিনি উক্ত পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৪/১১/১৯৯৪ তারিখে। অথচ ফাতেমা রশিদ তার অধ্যক্ষের এমপিও এর আবেদনের সঙ্গে যে অভিজ্ঞতার কাগজপত্র জমা দেন সেখানে তিনি প্রভাষক পদে যোগদানের তারিখ উল্লেখ করেন ৩/১১/৯৪ যা সম্পূর্ণ বানোয়াট। নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৪/১১/৯৪ তারিখে অথচ তিনি পরীক্ষার আগেই ৩/১১/৯৪ তারিখে প্রভাষক পদে যোগদান দেখান।
আবার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের সময়ও তিনি অনিয়ম অবলম্বন করেন। স্কুলের অভিজ্ঞতাকে তিনি কলেজে যোগদানের অজ্ঞিতা হিসেবে দেখিয়ে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা জীবনে একটি তৃতীয় শ্রেণী থাকলে কোন শিক্ষক অধ্যক্ষের পদে নিযুক্ত হতে পারেন না। ফাতেমার রশিদ এই আইন অমান্য করে একটি তৃতীয় বিভাগ নিয়ে বছরের পর বছর অধক্ষের পদ দখল করে আছেন অথচ সংশ্লিষ্ট করে আসছে। ফাতেমা রশিদ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আসমা আক্তার নামে একজন শিক্ষককে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। শাহীন আসমা সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত সরকারি টাকা উত্তোলন করেন।
মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ফাতেমা রশিদ শাহীন আসমার নভেম্বর ২০১৬ মাসের বেতনের সাথে এক লক্ষ বাষট্টি হাজার পাঁচশত ছিয়াশি টাকা বকেয়া বেতন হিসেবে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন বলে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। ফাতেমা রশিদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কলেজের ইসলাম শিক্ষার কোন ক্লাস নেন নাই। কিন্তু প্রতি মাসে ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে কলেজ থেকে টাকা উত্তোলন করেন। ২০০৪ সালে ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে তার এমপিও হয়। ২০০৬ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত হওয়ার পর থেকে তিনি একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বেতন+কলেজ শাখার ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে বেতন+ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে সরকারি বেতন উত্তোলন করেন।
তিনি জানুয়ারী ২০১৬ পর্যন্ত প্রতি মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তোলন করেন ৩৩,৫০৪ টাকা। অথচ তিনি প্রতিষ্টানে আসেন কোন সপ্তাহে ২ দিন আবার কোন সপ্তাহে ১ দিনও আসেন না। স্কুল শাখায় ১ম শ্রেণী তেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি থেকে যে আয় হয় তা স্কুল ফান্ডে জমা না করে নিজের খরচ হিসেবে ব্যবহার করেন। কোন ছাত্রী একদিন অনুপস্থিত থাকলে ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করে ফাতেমা রশিদ। এভাবে ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত জরিমানা আদায়ের ৮ লাখ টাকা তিনি শিক্ষা প্রতিষ্টানটির ফান্ডে জমা না করে আত্মসাৎ করেন। জরিমানার টাকা কলেজের সাথে পরিচালিত যাত্রাবাড়ি অগ্রণী ব্যাংকে জমা হয়নি বলে একাধিক শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানান। একটি রেজিস্ট্রারে জরিমানার টাকা জমা দেখানো হয়। খদিজা বেগম নামে কলেজ শিক্ষক উক্ত রেজিষ্ট্রার নিয়ন্ত্রন করেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্টানের দেয়াল ঘেঁষে চারটি দোকান নির্মান করেছেন।
এই নির্মান কাজে খরচের টাকা কলেজ ফান্ড থেকে নিয়েছেন। কিন্তু অদ্য পর্যন্ত টাকার কোন হিসাব প্রতিষ্টানে জমা দেন নাই বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। তিনি নিজের রুমে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে টাইলস, হাই কমোড বাথরুম, দামি পর্দা দিযে সজ্জিত করেন। অথচ শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ ভাঙা, রুমে দরজা জানালা নেই, বাথরুম নোংরা ও দুর্গন্ধময়। অনেক শ্রেণীকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা নেই এমনকি পর্যাপ্ত আলো নেই। তিনি দাপটের সাথে বলেন এমন শক্তি বাংলাদেশে নেই যে তার বিচার করবে। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু এ প্রতিবেদকে বলেন তিনি নিজে বাদি হয়ে দুর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের কপি এ প্রতিবেদকের কাছে হস্তান্তর করেন।
অথচ দীর্ঘ দিন অতিক্রম হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরবতায় তিনিও হতাশা প্রকাশ করেন। ক্ষুদ্ধ একাধিক অভিভাবক এ প্রতিবেদককে জানান দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে হাত করে ফেলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন নিজের অনুকুলে নিতে জেলা শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মকর্তাকে প্রচুর টাকা দিয়েছেন। এই ব্যপারে তার বক্তব্য নেয়ার জন্য মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দাপটের সাথে বলেন, “সমস্ত পেপার ভরে লিখলেও আমার কিছুই করতে পারবেন না”। দুর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। এই ব্যাপারে এই প্রতিবেদকের তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় আরও বিস্তারিত থাকছে।

