বিশেষ প্রতিনিধিঃ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক শরীয়তপুর-১ আসন (সদর-জাজিরা) থেকে নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকা শরীয়তপুর-২ হলেও শরীয়তপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
শরীয়তপুর-১ নির্বাচনী এলাকার সদর ও জাজিরায় স্হানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি গ্রুপের কোন্দল থাকায় এ এলাকা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে আছে বলে দাবি শহীদুল হকের।দলীয় কোন্দল নিরসন করে শান্তি স্থাপন এবং সদর ও জাজিরার উন্নয়নে অবদান রাখতে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হতে চান তিনি।
শহীদুল হকের বাড়ি শরীয়তপুর-২ নির্বাচনী এলাকার নড়িয়া উপজেলার নরবালাখানা গ্রামে। তাঁর ছোট ভাই ইসমাইল হক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। আরেক ভাই নুরুল হক ব্যাপারী নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে অবসর গ্রহনের শহীদুল হক গ্রামের বাড়িতে তাঁর মা–বাবার নামে মজিদ-জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশ নিলেও কখনো আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হলে গতকাল সোমবার পর্যন্ত শরীয়তপুর-১ আসনের জন্য ১২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী তা সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হক, সাবেক পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবদুল আলীম ব্যাপারী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী জামিল প্রমুখ ।
জেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দেওয়ায় বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী স্থানীয় নেতাদের প্রায় সবারই আলাদা আলাদা নিজস্ব নেতা-কর্মী বাহিনী আছে। সবাই নিজ বলয় তৈরী করে রাজনীতি করেন। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারেন না। এই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চাচ্ছেন শহীদুল হক।
এসব বিষয়ে শহীদুল হক সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ থাকবে সুসংগঠিত।সাধারণে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকা জরুরি । বাস্তবে শরীয়তপুর-১ নির্বাচনী এলাকায় তা অনুপস্থিত।এখানে দলীয় নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকট। জনসাধারণ এসব ঘটনায় বিরক্ত, এসব আর দেখতে চায় না তারা।
নেতৃত্ব কোন্দলের কারনে এই এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। দলের তৃণমূলের অনেক নেতা ও সুশীল সমাজের লোকজন তাঁকে রাজনীতিতে আসার অনুরোধ করেছেন বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক হতে পারব। তাই সংসদ সদস্য হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন, তাহলেই নির্বাচন করব।’ তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এছাড়া তিনি আইজিপি থাকা অবস্হায় জঙ্গি দমন, হেফাজতের বিশৃঙ্খলা দমন, পেট্রোলবোমা সন্ত্রাস দমনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন এ দাবি নিয়ে ভোটের মাঠে থাকতে চান।

