লুটের স্বর্গরাজ্য পিডিবিএফ

0
1503

বেলায়েত হোসেন
দেশের গ্রামীণ  সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) দেড় যুগেও কাঙ্খিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। পিডিবিএফ’য়ে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সর্ষেতে ভূত থাকার মত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতি-অনিয়মে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছেন। দারিদ্র্য বিমোচনের বরাদ্দ টাকা লুটপাট করে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন দুর্নীতিবাজ লুটেরাচক্র ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লুটপাট হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প আর ঋণ বিতরণের নামে। নিয়োগ-পদোন্নতি নিয়েও ফ্রি স্টাইল বাণিজ্য হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এ অবস্থা। ফলে বিভিন্ন জেলায় বিতরণকৃত ঋণ বেহাত হয়ে গেছে। শীর্ষ পদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই রয়েছে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। পাশাপাশি দুর্নীতি-অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত,এমনকি দুদকের মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হলেও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা পদবঞ্চিত থাকছেন। জাতীয় সংসদের সরকারী হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি-অনিয়মের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রহস্যজনক কারণে সেসব আমলে নেওয়া হয়নি। বরং দুর্নীতিবাজ চক্র বহাল থেকেই অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। উদ্বেজনক বিষয় হচ্ছে,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হলেও স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠানে সরকারের কার্যকর নজরদারি ।
গোড়াতেই গলদ: বাংলাদেশ সরকার ও কানাডিয়ান সিডা কর্তৃক পরিচালিত একটি প্রকল্পকে ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে পল্লী পৃথক আইনের মাধ্যমে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এটি পরিচালিত হচ্ছে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এমনকি নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোন নিয়ম-নীতির ধার ধারেনি। বর্তমানেও শীর্ষ পদ থেকে নিচের স্তরের অনেক কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম থাকার পরও দোর্দন্ড প্রতাপে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মদন মোহন সাহা। তিনি দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন। এর আগে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, এ প্রতিষ্ঠানে তার নিয়োগ ছিল অবৈধ।
বাংলাদেশের কম্পোট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কয়েক বছর আগেরই এ অনিয়মের বিষয়টি ওঠে আসে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখের অনেক পরে মদন মোহন সাহা আবেদন করেছিলেন। এমনকি তার চাকুরির নথিতে অভিজ্ঞতার স্বপক্ষে কোন প্রমাণ মিলেনি। নির্ধারতি সময়ের মধ্যে আবেদন না করার বিষয়টি পিডিবিএফ কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিল,মদন মোহন সাহার যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অডিট কর্মকর্তারা এ বক্তব্য গ্রহণ করেননি। বরং তার নিয়োগকে বেআইনী ঘোষণা করে অবিলম্বে তা বাতিলের নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি তার কাছ থেকে সকল টাকা আদায় এবং তাকে চাকুরিচ্যুৎ করতে বলেন। একই সঙ্গে নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
২০০০ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ২০০৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের ওই বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে শুধু মদন মোহন সাহা নন, আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি ওঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, প্রায় সবার নিয়োগে কোন নিয়মনীতি মানা হয়নি। এমনকি কারো ক্ষেত্রে যে পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সে পদের জন্য  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। প্রার্থীও নিয়োগকৃত পদের জন্য আবেদন করেননি। আবার কোন প্রার্থী নিম্ন পদের জন্য আবেদন করলেও উচ্চ পদে অধিক বেতনে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কারো ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত অভিজ্ঞতার সময়সীমা না থাকা সত্বেও নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে নিয়োগের সময় সর্বনিম্ন ধাপ বেতন নির্ধারণ না করে ইচ্ছেমতো  বর্ধিত  বেতন নির্ধারণ করা হয়।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এদের প্রত্যেকের অনিয়মের পৃথক বর্ণনা দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়সহ চাকুরিচ্যুৎ করে নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেসব সুপারিশ কার্যকর হয়নি। বরং অভিযুক্তরা একের পর পদোন্নতি আর সুবিধা বাগিয়ে নিয়ে লুটপাটের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন।শুধু নিয়োগ নয়,পদোন্নতির ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। এমনকি দুর্নীতির শিরোমণি হিসেবে পরিচিত এক কর্মকর্তা ছয় বছরে পাঁচটি পদোন্নতি পেয়েছেন।
একের দখলে একাধিক পদ: প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মতে, পিডিবিএফে দুর্নীতি-অনিয়মের সূতিকাগার হচ্ছে একজনের একাধিক পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ। শীর্ষ কর্তারা নিজেদের দুর্নীতি নিষ্কণ্টক রাখতেই পছন্দের কর্মকর্তাকে একাধিক দায়িত্ব দিচ্ছেন। এতে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না। আর সুযোগ পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ফ্রিস্টাইল লুটপাট শুরু করে দেন। পিডিবিএফে এমন দুই ভাগ্যবান কর্মকর্তা হলেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও যুগ্ম পরিচালক মনারুল ইসলাম। ওই প্রতিষ্ঠানে তারা সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ও সকল অপকর্মের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের পদটি ছাড়াও আমিনুল ইসলাম চারটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর একটি হাজামাজা বা পতিত পুকুর পুনঃখননের মাধ্যমে সংগঠিত জনগোষ্ঠীর পাট পচানো-পরবর্তী মাছ চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প। ৫৯ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের শস্য সংগ্রহ-পরবর্তী সহযোগিতার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ, এই প্রকল্পের ব্যয় ৬১ কোটি টাকা। এ ছাড়া তিনি কাজ করেছেন ১৯ কোটি ৫০ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ের জলবায়ু দুর্গত এলাকায় সৌরশক্তি উন্নয়ন কর্মসূচি, ২৪ কোটি ৯৫ লাখ দুই হাজার টাকা ব্যয়ের ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে সোলার সিস্টেম স্থাপন কর্মসূচি এবং আট কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনে সৌরচালিত সড়ক বাতি স্থাপন কর্মসূচিতে।
বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, দিনাজপুরে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপক থাকাকালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৪ সালের ২৮ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) তিন বছর বন্ধ ছিল। অথচ তিনি এখন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আর মনারুল ইসলাম যুগ্ম পরিচালক (নীতি ও পরিকল্পনা), যুগ্ম পরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং পিডিবিএফ সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিটি প্রকল্প নামে আরেকটি প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করলেও গত ৩১ মার্চ এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এমনকি ওপরের চাপে যুগ্ম পরিচালক (মানবসম্পদ বিভাগ) পদটিও ছেড়ে দিতে বাধ্য হন মনারুল।
ঋণ নিয়ে নয়ছয়: দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাবলম্বী করতে গড়ে তোলা হয় পিডিবিএফ। এ জন্য প্রতি বছর মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দ থাকে। বর্তমানে ৫২টি জেলার ৪০০টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে বলে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় দাবি করা হয়। ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা এর কাজ হলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র উল্টো। সংক্রামক রোগের ন্যায় শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতি মাঠ পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা জালিয়াতি হয়েছে, লুটপাট করা হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা। ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে মাঠকর্মীরা কোটি কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন। ঋণ বিতরণ বেশি দেখিয়ে খেলাপি ঋণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে অনেক কর্মী টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ প্রমাণের পরও আত্মসাতকারীরা রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। ‘গুরু পাপে লঘু সাজা’ নীতিতে কেন্দ্র থেকেই বিষয়টি ধামাচাপার কৌশল নেয়া হয়। এমন কয়েকটি অভিযোগের মধ্যে একটি হলো ছবি রাণী রায় (পরিচিতি নং-০০৮৩৯)। তিনি নরসিংদী অঞ্চলে উপ পরিচালকের কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকাকালে প্রায় ৩১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গ, প্রতারণা, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগও ওঠে। এ জন্য প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার সাময়িক বরখাস্ত বাতিল করে অফিস আদেশ জারি হয়। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদন মোহন সাহা স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ‘তার অপরাধসমূহ প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত’ উল্লেখ করা হলেও আত্মসাতকৃত প্রায় ৩১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ফেরতের সুযোগ দেওয়া হয়।  জানা গেছে, ছবি রাণীর স্বামী পিডিবিএফ প্রভাবশালী সিবিএ নেতা। এখন মদন মোহন নিজের অপকর্ম ডাকা দিয়ে গতি রক্ষায় তার সহায়তা প্রত্যাশী বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। সংশ্লিষ্ট নেতা বলেছেন, তিনি কারো লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেননা। কর্তৃপক্ষের আদেশ তামিল করছেন মাত্র।
একইভাবে কিশোরগঞ্জ অঞ্চল উপ পরিচালকের কার্যালয়ে সংযুক্ত মাঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুল আলম খান (পরিচিতি নং-০৩৫৯৮), খুলনা অঞ্চলের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শেখ মুজিবুর রহমান (পরিচিতি নং-০০২৯০), সিলেট অঞ্চলের মাঠ কর্মকর্তা নিতীশ কুমার সরদারসহ (পরিচিতি নং-০৩৩৯৬) অনেকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতসহ অনিয়ম-দুর্নীতি, অসদাচরণ, শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগ প্রমাণের পরও টাকা ফেরতের সুযোগ দিয়ে তাদের বহাল রাখা হয়েছে। পক্ষান্তরে শীর্ষ কর্তাদের পছন্দের না হওয়ায় মাত্র কয়েক হাজার টাকা হাতে রাখার অভিযোগে কাউকে কাউকে বিদায় করার নজিরও আছে। প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মতে, মাসে ১২-১৪ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করার চেয়ে এদিক-সেদিক করে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পকেটে নেওয়াকে নিরাপদ ভাবছেন অনেক মাঠকর্মী। টাকা নেওয়ার পর চাকরি গেলেও তারা সমস্যা মনে করছেন না। ওই টাকা মাঠে ভুয়া ঋণ হিসেবে দেখানোর ফলে প্রকৃত জালিয়াতি উদ্ঘাটনেও বেশ সময় লাগবে।
সৌর প্রকল্পে সাগর চুরি: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি হ্রাস এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠিকে নিরবিচ্ছন্ন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পিডিবিএফ সৌরশক্তি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। সরকারী অর্থায়নে এ প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ৩ হাজার ২ শ’ ৮টি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে সোলার সিস্টেম স্থাপন কাজ শুরু হয়। অথচ এ প্রকল্প নিয়ে হরিলুট চলে। কমিশন খেয়ে নিম্নমানের মালামাল ক্রয়ের কারণে শুরুর কিছুদিনের মধ্যে অধিকাংশ ইউনিয়নের সোলার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। একইভাবে জলবায়ু দুর্গত এলাকায় প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সৌরশক্তি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও লুটপাট হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৬৫০টি সোলার সিস্টেম বিনামূল্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে বরাদ্দের কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সিংহভাগই আত্মসাত করেছেন। বাকি কিছু আত্মীয়স্বজনের মাঝে বিতরণ করেন।
এভাবে বিভিন্ন প্রকল্প ঘিরে সিন্ডিকেট বাণিজ্য হয়েছে। ঢালাও দুর্নীতি হয়েছে নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রেও। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তদন্ত করছে। দুদক সূত্র মতে, নিয়োগ বাণিজ্য, ঋণ বিতরণের নামে লুটপাট, প্রকল্পের কাজ না করেও অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি অভিযোগ যাচাই বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সূত্র  জানায়, পিডিবিএফ এর সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান ও সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) শেখ মেজবাহউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিটি পিডিবিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। এরই মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার টেলিফোন করা হলেও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও যুগ্ম পরিচালক মনারুল ইসলামের মন্তব্য পাওয়া যায়নি । ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মদন মোহন সাহা তার ও বিভিন্ন কর্মকর্তার নিয়োগে অনিয়মের এবং বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, অনিয়মকে জায়েজ করতে বোর্ড সম্মত হয়েছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here