কুমিল্লার লাকসামে বাসর রাতেই এক নববধূর সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামে রবিবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে নবজাতককে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই নববধূ। হঠাৎ ওই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লাকসাম শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসা শেষে গতকাল মঙ্গলবার বাড়ি নিয়ে যান। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের রিকশাচালক দুলাল মিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তারের (১৮) সাথে একই ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামের রিকশাচালক জাকির হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের (২২) বিয়ে হয়। বিয়ের দুই দিন পর রবিবার ভোররাতে বাসরঘরে ওই নববধূ পেটে ব্যথা অনুভব করে। এমতবস্থায় ঘরের পাশে টয়লেটে গেলে সেখানে সে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করে। এ সময় নবজাতকের কান্নার শব্দ পেয়ে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে নববধূ ও নবজাতককে উদ্ধার করে। বিষয়টি তারা ওই ইউপির চেয়ারম্যান এবং ৭ নম্বর (কৃষ্ণপুর গ্রামের) ওয়ার্ড সদস্যকে অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে ওই ওয়ার্ড এর সদস্য মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ ফারজানার বাবা ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকসহ ফারজানাকে বাবার বাড়ি নিয়ে যায়। আজ মঙ্গলবার উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ফারজানা তার নবজাতককে কোলে নিয়ে ঘরে ভেতর বসে আছেন। এদিকে তার নবজাতককে একনজর দেখার জন্য আশপাশের কৌতূহলী লোকজন বাড়ির উঠানে ভিড় করছেন। এতে সে অনেকটা বিব্রত বোধ করছে। ফারজানার অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগেই প্রতিবেশী মাহবুবুল আলম দুলালের ছেলে সৌদীপ্রবাসী মেহেদী হাসান পারভেজের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারভেজ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কাউকে না জানিয়ে বার বার সে পারভেজকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। পারভেজও তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে পারভেজ কৌশলে সটকে পড়ে। এবং গত বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) সৌদি আরব চলে যায়। ফারজানা জানায়, এই নবজাতককে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। সে স্ত্রীর মর্যাদা, আর সন্তানের পিতৃত্বের অধিকার চেয়ে বলেন, আমি সবার কাছে এই প্রতারণার বিচার চাই। তা না হলে, অপমান আর গ্লানিকে সঙ্গী করে বাঁচতে চাই না। ফারজানার বাবা রিকশাচালক দুলাল মিয়া জানান, আমাদের অভাবের সংসার, জমি-জমা নেই। রিকশা চালিয়ে সামান্য আয়ে কোনোরকম সংসার চালাই। তদুপরিও ধার-দেনা করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমার ওপর যে এমন খড়্গ নেমে আসবে ভাবতে পারিনি। এখন আমার মেয়ে ও এই নবজাতকের কী হবে। আমি এর বিচার দাবি করছি। এদিকে ফারজানার শাশুড়ি জাহারা খাতুন বলেন, এই ঘটনায় আমার ছেলে লাজ-লজ্জায় বাড়ি ছেড়েছেন। তিনি তাদের পরিবারের মানহানির বিচারসহ প্রকৃত দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এই ব্যাপারে জানতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পারভেজের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, তারা কেউ নেই। ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। জানতে চাইলে বাড়ির একাধিক লোকজন জানান, তারা বাড়ি নেই, এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষ্ণপুর গ্রামের এক বয়োঃবৃদ্ধ জানান, মেহেদী হাসান পারভেজের বাবাও প্রবাসী। তাদের পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না। আজগরা ইউপির সদস্য মো. তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি আমদুয়ার যান। ফারজানার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ অন্যান্য স্বজনদের কথাবার্তা শুনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই নবজাতকসহ ফারজানাকে তার বাবা ও স্বজনদের কাছে দিয়ে দেন। এ ব্যাপারে আজগরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ফারজানার পরিবার এই বিষয়ে আইনি সহায়তা চাইলে সব রকম সহায়তা দেওয়া হবে।

