রৌমারী হাসপাতালে গর্ভপাতে গৃহবধুর মৃত্যু, নার্স গ্রেপ্তার

0
538

রৌমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি, কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবৈধ ভাবে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে জামেলা বেগম (৪২) নামের এক গৃহবধুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। প্রচুর রক্তক্ষরনের কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ওই গৃহবধুর মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালে ভর্তি না দেখিয়ে এবং কর্মকর্তাকে অবহিত না করে অবৈধ উপায়ে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোসনে আরা বেগম নামের এক নার্সকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল ১৫ মার্চ শুক্রবার বিকাল ৩ টার দিকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার দুর্গম চরকাজাইকাটা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল শেখের স্ত্রী নিহত জামেলা বেগম। তাদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

Advertisement

আব্দুল শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর হোসনে আরা বেগম নার্সের সঙ্গে ৫হাজার টাকা রফাদফা ঠিক করে ৩হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের লেবার রুমে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেখে চিকিৎসার কাজ শুরু করেন। চিকিৎসার ঘন্টা দেড়েক পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই নার্স আইসা কয় রোগী মারা গেছে। আমার স্ত্রীর এই করুন মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছি না। অবশ্যই নার্সের অবহেলা ও গাফিলাতি ছিল।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের নার্স হোসনে আরা বেগম ভর্তি না দেখিয়ে এবং কর্মকর্তা বা চিকিৎসককে না জানিয়ে অবৈধ উপায়ে ওই গর্ভপাত ঘটাতে গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘রোগী মারা যাওয়ার পর বিষয়টি আমরা জানতে পারি। ঘটনার পর পরই বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত হোসনে আরা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত পাঠানো হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালে গৃহবধুর মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসি বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ অভিযুক্ত নার্সকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানোরও উদ্যোগ নেয় থানা পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মো. দিলওয়ার হাসান জানান, নার্সকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here