রৌমারীর ব্রম্মপুত্র পাড়ের মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে

0
841

কুড়িগ্রাম, প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম জেলার পুর্বপার রৌমারী-রাজিবপুরসহ দুই উপজেলার রাক্ষুসে ব্রম্মপুত্র পাড়ের দুঃস্থ মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। প্রকৃতির রুদ্র রোষে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ পতন ঘটে। ডিজিটাল যুগেও মানুষ নানা সুযোগ সুবিধা থেকে এরা বঞ্চিত। দুই
উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়ন রাক্ষুসে ব্রম্মপুত্রের করাল গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্থ। দেখার কেউ নেই। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার পরিবার সংখ্যা প্রায় ১লক্ষ।

Advertisement

এদের মধ্যে গৃহহীন ও দুঃস্থ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। বন্যা, খড়া, নদী ভাঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রকৃতির দুর্যোগের কারনে, অভাব অনটন এসব মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গি। প্রতি বছর ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে ভিটে মাটি জমাজমি সবকিছু হাড়িয়ে অন্যচরে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে তারা। নতুন চর জেগে উঠলে দলবদ্ধ ভাবে ঘর বেঁধে নতুন জীবন শুরু করে। আর্থিক দৈন্যতার কারনে যাযাবরের মত জীবন কাটে এদের। অভাবের কারনে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায়। কুঁড়েঘর ও ঝুপড়ি ঘরেই এদের বসবাস। সরকারী বে-সরকারী বিভিন্ন সহযোগীতা এদের কপালে খুব কমই জোটে। প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকে নদী ভাঙ্গন ভুক্তভোগী গরীব দুঃখী মানুষ গুলি।
বন্দবেড় ইউনিয়নের দক্ষিন খেদাইমারীর বাবুল, জব্বার ও সামছুল আলম জানান, আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগে আমার বাবার নদীর মাঝামাঝি ও নদীর অপারে শতশত বিঘা জমি ছিল। গোয়াল ভরা গরু, ধান, পাটের ফসল বাদেও বিভিন্ন রবি ফসল ছিল অনেক। বছর মেয়াদী চাকর, কামলা ছিল। ২০০১/০২ সালের পর থেকে এবং শেষ ২০০৮/০৯ সালের বড় বন্যায় বাড়ী ভাঙ্গার পর থেকে এ পর্যন্ত কত বারযে, বাড়ী সরাসরি করেছি তার কোন নিরাকারন নেই। দক্ষিন খেদাইমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুনিয়ার হাইস্কুল ও বাজারটাও গত ২০১২/১৩ সালের বড় বন্যায় নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। পশ্চিম খেদাইমারী ব্রম্মপুত্রের পশ্চিমে নয়ারহাট সংলগ্ন এলাকার বাহাদুর, জোব্বার, একরামুল, কুবাদ আলী ও খাদেম আলী বলেন,এই চরে আমাদের শতশত বিঘা জমি ছিল সব গুলি নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে অন্যের জাগা চর এক চিল্লে একটু জায়গায় একটি কুড়ে ঘর তুলে ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে কোন রকমে আল্লাহ বেচেঁ রেখেছে। না আছে কোন রাস্তা ঘাট, অসুখ বে-সুখ হলে বাজার ঘাট করতে চাইলে অতিকষ্টে ১৫-২০ কিলোমিটার পথ হেটে অথবা রৌমারী যেতে হয় রৌমারী সদর।
ঐ এলাকার কিছু সুধীজন বলেন, অধিকার আদায়ের লক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জাতীয় সংসদ সদস্য তৈরী করে সংসদে পাঠাই। তারা এলাকার নদী ভাঙ্গনের এ করুন কাহীনির কথা সংসদে উন্থাপন করে কোটি কোটি টাকা তীর সংরক্ষণ কাজ পাশ করে এনে একটু আধটু কাজ দেখিয়ে বাকী সব টাকা লাপাত্তা। কিন্তু নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থেকেই যায়। আমাদের একথা কে শুনবে? কে দেখবে? তাই আমরা জীবন বাজী রেখে বসবাস করছি এই চরের মানুষজন। আবার আমরা বয়স্কো হয়েছি এমনিতেই চরে কাজ নেই। তার পরে দেশ বিদেশে গিয়ে কাজ করবো তাও মানুষ কাজে নেয় না। সরকারী ভাবেও কোন কিছু পাই না। আমরা এখন কোন কুলে যাবো। আমাদের আর কোন কুল নেই। একমাত্র এখন ভরসা সৃষ্টি কর্তার উপর।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here