কুড়িগ্রাম জেলার পুর্বপাড় ব্রম্মপুত্র, ভারতীয় আসাম সীমান্ত ঘেষা রৌমারী উপজেলার সাথে সংযোগ সড়ক গুলির নির্মান কাজে অপরিকল্পিত, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে কালর্ভাট,ব্রীজ নির্মান কাজ শেষ হতে না হতেই বন্যার পানিতে ভেঙ্গে যায় এবং স্লুইজ গেট নির্মানে সমস্যায় পড়ে এলাকাবাসী।
ভাঙ্গলে আর সহজে ভালো হয় না কালভার্ট ব্রীজ ও রাস্তাঘাট। সরকারের দেয়া বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ কাজের নামে লোপাট। সংযোগ সড়কে যাতায়াতে বেহালদশায় জরুরী সংস্কারের দাবী এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে রৌমারী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নসহ চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার ৩টিসহ ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ লাখ মানুষ। রৌমারী উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ সংযোগ থাকায় রাস্তা গুলি বন্যার ভাঙ্গনে যাতায়াতের বেহাল সৃষ্টি হয়েছে।
দাঁতভাঙ্গা হতে ধর্মপুর পর্যন্ত ব্রীজ ভাঙ্গন কার্পেটিং, ইটখোয়া, রৌমারী বাজার সদর হতে সুতিরপাড়া বামনেরচর খাটিয়ামারী পর্যন্ত রাস্তা ভাঙ্গন ইটখোয়া, কার্পেটিং, খঞ্জনমারা স্লুইজ গেট হয়ে রিপ-২ রাস্তা দাঁতভাঙ্গা শালুর মোড় পর্যন্ত ভাঙ্গন কার্পেটিং ইটখোয়া, পাখিউড়া ব্রীজ পার হতে আজাদ চেয়ারম্যানের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইট খোয়া উঠেছে, বাঞ্ছারচর প্রথম মাতা হতে টাপুরচর ব্রীজ পর্যন্ত ইট খোয়া উঠে গিয়ে সকল কাঁচা সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যাতায়াতে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যে জানা যায়, প্রতিবছর বন্যার পরবর্তীতে শোনা যায় রাস্তাঘাট সংস্কারের নামে প্রকল্প দেয়া হয়। তবে আমরা শুনেছি সড়ক ও জনপদ বিভাগ, এলজিইডি বিভাগ ও বাস্তবায়ন বিভাগ থেকে সরকার সড়ক সংস্কারের কোটি কোটি টাকা দিয়ে থাকেন, কিন্তু সঠিক পরিকল্পিত ভাবে কোন কাজ দেখা যায় না। সংস্কারের অভাবে সড়ক গুলির ইটখোয়া উঠে গিয়ে শতশত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এবং পাকা সড়কের দু’পাশে ও কাাঁচা সড়কের সম্পন্নই ভেঙ্গে গিয়ে মানুষের যাতায়াত ও পরিবহনের চলাচলের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
অপর দিকে রৌমারী সদর হতে সুতির পার বামনেরচর সড়কে অপরিকল্পিত ভাবে স্লুইজ গেট নির্মানে বন্যার পানিতে রাস্তার উত্তর পাশে থাকা প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষের রোপা আমন শাক সবজী হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি থাকে। স্লুইজ গেটের পাশে বন্যার তীব্র পানির চাপে সড়কটি বার বার ভেঙ্গে যায়। এলাকবাসীর দাবী স্লুইজ গেট সংলগ্ন ভাঙ্গন যায়গায় পরিকল্পিত ভাবে একটি ব্রীজ নির্মান প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান জানান, এবারের বন্যায় মানুষ সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। এবং ৬ টি ইউনিয়নের ৫ টি ইউনিয়নেই বেশী রাস্তাঘাট ভেঙ্গে মানুষ ও পরিবহন যাতায়াতে অনুপযোগী হয়েছে। এগুলি রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য অতি তারাতারি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা ইঞ্জিনিয়ার ও উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে। বন্যার পরবর্তী প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেল। সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারী ভাবে এখন পর্যন্ত কোন প্রকল্প পাওয়া যায়নি।
এমপির একটি টিআর ও কাবিটা প্রকল্প এসেছে, তা কেবল মাত্র অনুমোদিত হলো। কাজ আসলে সড়ক সংস্কারের কাজ ধরা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাইউম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংযোগকারী পাকা সড়ক ও ব্রীজ কালভার্ট গুলি সংস্কারের জন্য এলজিইডি বিভাগে বরাদ্দ চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত ২/৩ বছর আগের টেন্ডার দেয়া কিছু কাজ সেগুলি চলমান আছে।
অভিজ্ঞ মহল বলেন, সংযোগ সড়ক ও কালভার্ট ব্রীজ গুলি পরিকল্পিত ভাবে জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন্।

