রৌমারীতে মাধ্যমিক কর্মকর্তা নিরব ভুিমকায় এইসএসসি ফরম পুরনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

0
646

মাজহারুল ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শিক্ষা বিভাগে দুনর্ৃীতি এখন অপেন সিক্রেট। মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী নাহিদ বলেছেন, পরিক্ষা ক্ষেত্রে ছাত্র ছাত্রীদের নিকট থেকে ফরম পুরণে কোন অবস্থাতেই বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোন টাকা নেয়া যাবেনা।

Advertisement

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে উপজেলায় ৯ টি ডিগ্রী ও বিএম কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিক্ষার ফরম পুরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করেছে বলে ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবকসহ এলাকায় অভিযোগে সমালোচনার ঝর উঠেছে। এইচএসসি ফরম পুরনে বোর্ড নির্ধারিত ফি বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ৬০৫ টাকা, মানবিক ও কর্মাস বিভাগে ১ হাজার ৪৭০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও সরকারকে ব্রদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রৌমারী ডিগ্রী মহাবিদ্যালয় ৬ হাজার থেকে ৫ হাজার ২শত টাকা, রৌমারী মহিলা ডিগ্রী মহাবিদ্যালয় ৪ হাজার ৮ শত থেকে ৩ হাজার ৬ শত টাকা, যাদুরচর কলেজ ২ হাজার ২ শত থেকে ২ হাজার ৬ শত টাকা, দাঁতভাঙ্গা হাইস্কুল এন্ড কলেজ ৩ হাজার ২ শত টাকা, যাদুরচর মডেল কলেজ ৩ হাজার ২ শত থেকে ৫ শত টাকা, চরশৌলমারী মহাবিদ্যালয় ৩ হাজার ২ শত থেকে ৫শত টাকা করে এভাবে অতিরিক্ত ফরম পুরণে ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপর দিকে বিলম্ব ফি ও অকৃতকার্য বিষয়ে জরিমানা ফি’র নামে ছাত্র ছাত্রীদের কাছেও অতিরিক্ত ফি নিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রৌমারী ডিগ্রী কলেজের পরিক্ষার্থী ফারজানা খাতুন, শিল্প, আঞ্জুআরা বেগম, বিলকিছ বেগম, আশরাফুল, নুরুল ইসলাম, জাহাঙ্গির আলম, সুজনসহ আরো অনেক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের এবার ফরণ পুরনের অনেক টাকা ধরেছে। আমরা গরীব ছাত্রছাত্রী এতো টাকা দিয়ে ফরম পুরণ করতে পারবো না।
রৌমারী মহিলা ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী সুলতানা পারভীন, নার্গিস, সুমাইয়া খাতুন, রহিমা খাতুন, জবেদা, আরজিনা বেগমসহ অনেকে বলেন, মহিলা ডিগ্রী কলেজে আমরা পড়া লেখা করি। এবার আমরা পরিক্ষা দিবো। ফরন পুরণের জন্য গিয়ে দেখি মানবিকে ৪ হাজার ৭ শত টাকা। আমরা এতো টাকা দিয়ে ফরম পুরণ করতে পারবো না। অধ্যক্ষকে কম টাকায় ফরম পুরণের কথা বলেছিলাম, তিনি কম টাকায় ফরম পুরণ করবেন না। তাই আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়ে আসলাম। দেখি স্যার কি করেন।
রৌমারী ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম জীবনকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান, ছাত্র ছাত্রীরা সারা বৎসর কলেজের বেতন দেয়না এবং সেশন ফি ও অন্যান্য ফি সহ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিজ্ঞান বিভাগে ৬ হাজার ৮০ টাকা এবং মানবিক ও কমার্সে ৫ হাজার ২ শত টাকা করে নেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন বোডে কাগজ লটকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গরীব এলাকা কেহই ২ থেকে আড়াই হাজারের বেশী টাকা দিতে চায় না। অপর দিকে মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোমদেল হোসেন সেও বলেন, পরিক্ষার ফরম পুরনের সময় সুযোগ ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার। কারন দুটি বৎসরের এক সময় তাদের কাছ থেকে ভর্তি ফি, কলেজের বেতন, সেশন ফিসহ অন্যান্য টাকা আদায় করা যায় না। এ কারনে ফরম পুরনের সময় টাকা গুলি আদায় করা হয়। তা ছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের টাকায় কলেজ চলে। সরকার তো এতো দেখে না।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বিপঙ্কর রায়কে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান, বেশী টাকা নিয়ে ফরম পুরণের কথা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে আমি কলেজের সভাপতি হিসাবে অধ্যক্ষদেরকে ডেকেছিলাম। তারা এসে যে ভাবে, যে হিসাবটি দিয়েছে, তা ঠিক আছে। কারন ছাত্র ছাত্রীরা সারা বছর বেতন সহ অন্যান্য টাকা দেয় না। তাই ফরম পুরণের সময় আদায় করে নিচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা শাহজাহান আলীকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান, আমরা প্রতিটি কলেজে বলে দিয়েছি বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি নেয়া যাবে না। যদি অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ পাই তাহার ব্যবস্থা নেবো।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here