রৌমারীতে ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্টের প্রাদুর্ভবে দিশেহারা কৃষক

0
782

মাজহারুল ইসলাম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট (ধানের পুরা শীষ সাদা) রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সমাধানের জন্য পাগলের মতো ছুটাছুটি করছেন কৃষি কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন ঔষধের দোকান গুলিতে এবং তাদের পরমর্শ অনুপাতে জমিতে দিচ্ছে ট্রপার, নাটিবো, জিল ও ব্লাস্টিন। এ দিয়েও কোন প্রকার নেক ব্লাস্ট রোগ কমছে না বরং বারছে। তবে অনেক কৃষকের কাছ থেকে জানা গেছে মেয়াদ উত্তির্ণ ঔষধ কোম্পানির লোকদের সাথে আতাত করে কৃষকদের দেয়া হচ্ছে।
রৌমারী কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে বোরো ধানের চাষের লক্ষমাত্রা মোট ৯ হাজার ৩শত ৯৫ হেক্টর জমি। আর ধান উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ১.৬ মেট্রিকটন। সেই হিসাবে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিকটন ধান নির্ধরণ করা হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর বোরো ধানের চাষ গমের চাষে মার খাওয়ায় বোরো ধনের চাষ লক্ষ মাত্রার চেয়ে ১৬৫ হেক্টর জমি বেশী হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ১৫শত ৭০ হেক্টর, স্থানীয় কালী বোরো ১৫০ হেক্টর, ব্রী- ২৯ জাতের ৩ হাজার ৪শত ৫৪ হেক্টর ও ব্রী- ২৮ জাতের ৪ হাজার ২শত ২১ হেক্টর জমি। হঠাৎ করে আবহাওয়া জনিত কারনে নেক ব্লাস্ট রোগ (ধানের শীষ সাদা) প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছেন। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্থ্য পাগলের মতো ছুটাছুটি চাষিরা জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে মাঠে না যাওয়ায় তারা এখন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অন্যদিকে কৃষি কর্মকর্তাগন বলেন, চাষিদের অভিযোগ সম্পন্ন সঠিক নয়। আমরা সব সময় এলাকায় ঘোরাফেরা করে দেখি। কিন্তু হঠাৎ করে আবহাওয়া জনিত কারনে এ রোগে ধান আক্রান্ত হয়েছে এবং আমাদের অফিস থেকে কয়েকদিন যাবৎ পোষ্টারিং লিফলেট ও মাইকিং করেও কৃষকদের জানান্ োহচ্ছে।
রৌমারী গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, আমার প্রায় দের বিঘা জমিতে ব্রী- ২৮ করেছি, পুরা ধানেই নেক ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়ে ধানের শীষ সাদা হয়েছে। আমার বাড়ীতে খাবার না থাকায় বাধ্য হয়ে রোগাক্রান্ত ধান গাছগুলি কেটে এনে বাজারে বিক্রি করছি। একই গ্রামের হাশু মিয়া ও আব্দুল্যাহ এর পুত্র দুলাল মিয়া বলেন, এবছর আমি আড়াই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান চাষ করেছি। আমার প্রায় সব ধানের শীষ সাদা হয়েছে। তবে ব্রী-২৮ জাতের ধান কিছুই নাই। কৃষক শওকত জানান, আমি অল্প জমি আবাদ করেছি যা দিয়ে আমার ১ বছর চলে। সেই টুকুই ব্রী-২৮ জাতের ধান চাষ করেছি সব শেষ। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের সামছুল হক, বদিউজ্জামান, শের আলী, শৌলমারীর আব্দুর রাজ্জাক, শহর আলী, সোহেল হক, যাদুরচরের লিটন, সবুর, আক্তারুজ্জামান, রৌমারীর এন্তাজ আলী, মাহমুদা, আব্দুস সাত্তার, চরশৌলমারীর রহমত আলী, সেকেন্দার আলী, রমজান জানান, কৃষি অফিসের ও দোকানদারদের পরামর্শ মতে ঔষধ ব্যবহার করেছি। শেষ রক্ষা হয়নি। তবে আমরা জানতে পারলাম কিছু ঔষধের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা তো মেয়াদ না দেখে জমিতে প্রয়োগ করেছি। হয়তো বা সে কারনে আমাদের ঔষধে ধানের কোন কাজ হয়নি

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here