রৌমারীতে দু’বারের বন্যায় ব্যপক ক্ষতি কৃষি পুর্নবাসন ও রাস্তাঘাটের বাজেট প্রস্তাব

0
576

মাজহারুল ইসলাম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম জেলার ব্রম্মপুত্র পুর্বপার চরাঞ্চল মঙ্গা পিড়ীত ভারতীয় আসাম সীমান্ত ঘেষা উপজেলা রৌমারীতে দু’বারের বন্যায় রাস্তাঘাট,বাড়ীঘর, বাঁধ, কৃষি খাত ও পুকুরের পাড় ভেঙ্গে ব্যপক ক্ষতির হিসাব উপজেলা বিভাগীয় সুত্রে জানা গেছে। সরকারী ভাবে কৃষি পুর্নবাসন ও রাস্তাঘাটের বাজেট প্রস্তাব করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে ব্রম্মপুত্র, সোনাভরি, হলহলিয়া নদী ও পুর্ব পাশে জিঞ্জিরাম নদী এবং ভারতীয় আসাম সীমান্ত। ব্রম্মপুত্র হললিয়া সোনাভরি নদীর তীর ঘিরে রয়েছে বন্দবেড়, চরশৌলমারী, যাদুরচর ও দাঁতভাঙ্গার আংশিক ইউনিয়ন।
গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে ও আগষ্ট মাসের ১১ তারিখে শুরু হওয়া দু’বারের বন্যায় টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ব্রম্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ব্রম্মপুত্র নদের ভাঙ্গন বৃদ্ধি পায় এবং রাস্তাঘাট ভেঙ্গে প্রায় ৭০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়। অপর দিকে ডিসি রাস্তার পুর্ব পাশে ভারত থেকে কালো নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রৌমারী, যাদুরচর, শৌলমারী ও দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট, পুকুরের পার ভেঙ্গে তছনছ হয়েছে এবং হাজার হাজার একর জমির ধান,পাট, শাকসবজী ও বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৫ শত পুকুরের মাছ চলে যাওয়ায় আর্থিক ভাবে ক্ষতি সাধিত হয়েছে মাছ চাষিরা।
এতে দু’টি বন্যায় উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধমীয় প্রতিষ্ঠান, কাঁচা পাকা রাস্তা, প্রায় ৫০ হাজার পানি বন্দি পরিবারের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উপজেলার কৃষি বিভাগের তথ্য মতে দু’টি বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার) ফাউজুল কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ইঞ্জিনিয়ার (পরিদর্শক) নুর আলম জানান, বন্যায় ক্ষতিপুবণে সরকারী ভাবে বরাদ্দ চেয়ে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নিকট বাজেট  প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট আসলে কৃষি পুনরবাসন ও রাস্তাঘাটের কাজ শুরু হবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here