রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ডাক্তার রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে

0
1140

চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় রোগীর রিপোর্ট ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হচ্ছে, রিপোর্ট ছুড়ে ফেলার পাশাপাশি রোগীর সাথে অসৌজন্যে আচারণ করে তাকে চেম্বার থেকে বের করে দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

ডাক্তারের এমন আচরণ সহ্য করতে না পেরে কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতাল ছাড়লেন চিকিৎসা নিতে আসা মারুফা বেগম।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মারুফা বেগম মণিরামপুর পৌর এলাকার দূর্গাপুরের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী। তবে রিপোর্ট ছুড়ে ফেলাসহ রোগীর সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি বেমালুম অস্বীকার গেছেন ডাক্তার রেবেকা সুলতানা।

মারুফা বেগম জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। গত এক সপ্তাহ আগে তিনি মণিরামপুর হাসপাতালের চিকিৎসক রেবেকা সুলতানার কাছে চিকিৎসা নিতে যান। ওই সময় রেবেকা সুলতানা তাকে কয়েকটি টেস্ট লিখে যশোর শহরের বে-সরকারি কুইন্স হাসপাতাল থেকে করিয়ে আনতে বলেন। কিন্তু সোমবার (২২ জুলাই) তারা যশোর শহরের ইবনে সিনা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে সেই রিপোর্ট করান।

রিপোর্ট নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মণিরামপুর হাসপাতালে ডাক্তার রেবেকা সুলতানার চেম্বারে যান তিনি। এ সময় রিপোর্ট দেখে চটে যান রেবেকা সুলতানা। তিনি রোগীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে রিপোর্ট ছুড়ে ফেলে দেন তিনি। কুইন্স হাসপাতাল থেকে পুনরায় রিপোর্ট না করালে তা দেখবেন না বলে জানিয়ে দেন, এমনটি অভিযোগ মারুফা বেগমের।

মারুফা বেগম বলেন, আমি রিপোর্টটি দেখে দেওয়ার জন্য ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আমাকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেন। অনেক অনুরোধের পরে তিনি একটা প্রেসক্রিপসন করে দেন। কিন্তু আমি কোন ওষুধ কিনিনি। ডাক্তারের আচরণ দেখে আমি কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসি। আমি আর এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাবো না।

মারুফার স্বামী রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি বাজারে পান বিক্রি করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে যশোর থেকে রিপোর্টগুলো করিয়ে আনি। কিন্তু ডাক্তার রেবেকা সুলতানা আমার স্ত্রীর সাথে যে আচরণ করেছে তা মানা যায় না। আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. রেবেকা সুলতানা রিপোর্ট ছুড়ে ফেলার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রোগীর অভিযোগ সত্য না। কুইন্স হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট না করানোয় আমি তাকে একটু চড়াও ভাবে কথা বলেছি।

এদিকে, রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ডাক্তার রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে নতুন নয়। প্রায়ই তিনি রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানলেও তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এছাড়া ডাক্তার রেবেকা সুলতানা নিয়মিত হাসপাতালে ডিউটি করেন না বলেও অভিযোগ রোগীদের। তাকে দেখাবে বলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা না নিয়েই অনেক রোগীকে ফিরে আসতে দেখা যায়।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমি সিভিল সার্জন স্যারকে বিষয়টি জানাবো।যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দীলিপ রায় বলেন, টিএইচএ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। অভিযোগ আমলে নিচ্ছি, খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here