রোগীদের জিম্মি করে এম্বুলেন্স ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া

0
858

অবি ডেস্কঃ আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল। সরকারি না হলেও সাশ্রয়ী সেবার জন্য নগরীতে এই হাসপাতালের জনপ্রিয়তা অনেক। দূর-দূরান্ত থেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসে অনেক মধ্যবিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবার। কিন্তু এসব রোগীদের জিম্মি করে এম্বুলেন্স ব্যবসার নামে নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। কোন নিয়ম-নীতি না মেনেই গলাকাটা ভাড়া আদায় করে যাচ্ছেন এম্বুলেন্স চালকেরা। ভোগান্তির শিকার রোগীদের এই অসহায়ত্ব কমাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই কোন উদ্যোগ।

Advertisement

 

সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, মূল গেটের সামান্য দূরেই একটি দোকানে অফিস খুলে রেখেছে এম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। দোকানের বিপরীতে একটি সারিতে পার্ক করে রাখা হয়েছে ১০-১৫টি এম্বুলেন্স। সেবা পেতে এই দোকানে এসেই চালকদের সাথে দর কষাকষি করছেন রোগীর স্বজনরা, আর ইচ্ছামত দাম হাঁকাচ্ছেন চালকেরা। জানতে চাইলে শুরুতে ভাড়া নির্দিষ্টকরণে কোন রকম নিয়মের কথাই বলতে পারেননি তারা। দীর্ঘ সময় পর একজন চালক অফিসে থাকা একটি ভাড়ার তালিকা বের করে দেন। ময়লা, ধুলো জমা তালিকাটিতে দেখা যায়, মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে পরবর্তী গন্তব্য স্থানের ভাড়ার নির্দিষ্ট করতে এই তালিকা তৈরি করেছে এম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি। এতে শিশু হাসপাতাল থেকে চমেক হাসপাতালের ভাড়া নির্দিষ্ট করা হয়েছে সর্বনিন্ম ১৩০০ টাকা। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানের জন্য ৫০০ থেকে শুরু করে ২০০০ টাকার অধিক ভাড়ার কথা উল্লেখ করা আছে এটিতে। কিন্তু এই তালিকার ভাড়ার সীমা কোন তোয়াক্কা না করেই ভাড়া আদায় করেন এম্বুলেন্স চালকেরা। নগরীর পাঠানঠুলি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘শিশু হাসপাতাল থেকে চৌমুহনীর এম্বুলেন্স ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হতে পারে। সে জায়গায় তারা হেঁকে বসে ২ হাজার টাকা। শেষে দেড় হাজার টাকা দিয়ে আমার দাদাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মা ও শিশু হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, ‘আগে এখানে এসব এম্বুলেন্স ছিল না। চমেক থেকে ভাড়া করে এনে নিয়ে যাওয়া হতো রোগীদের। ভাড়া ছিল ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যেই। কিন্তু এখন সে জায়গায় এখন ১৮০০ বা ২০০০ টাকা দিয়ে রোগীদের যেতে হচ্ছে। এমনকি বাইরে থেকে এম্বুলেন্স আনলেও বাধা দেয় তারা।’

এদিকে হাসপাতালের ভিতরেও এম্বুলেন্সের ভাড়ার একটি তালিকা দেখা যায়। সমিতির তালিকা থেকে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার উল্লেখ আছে এটিতে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাত্র ৪টি এম্বুলেন্সই আছে তাদের। এর মধ্যে একটি কিছুটা নতুন, বাকিগুলো পুরানো। এগুলোর অনেকগুলো আবার হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ডাক্তারদের কাজেও ব্যবহৃত হয়। ফলে রোগীদের জন্য বরাদ্দ হাসপাতালের ন্যায্য মূল্যের এম্বুলেন্সগুলো রোগীদের খুব একটা কাজে আসছে না। বাইরে থেকেই এম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয় তাদের। এসব বিষয়ে শিশু হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মুহাম্মদ নূরুল হক বলেন, ‘হাসপাতালের সীমানায় আমরা বাইরের এম্বুলেন্স পার্ক করতে দেই না। রোগী নিয়ে আসলেই এম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে। বাইরের এম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ন্ত্রণের এখতেয়ার আমাদের নেই।’

এম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি বেলাল মু. নূরী বলেন, ‘অফিসে না এসে বাইরের চালক, দালালদের সাথে কথা বলেই এম্বুলেন্স ঠিক করে ফেলে অনেক রোগী। ফলে এটি তদারকি করা যায় না। হাসপাতালের এম্বুলেন্সও বেশি ভাড়া আদায় করে। অথচ এসব এম্বুলেন্স হাসপাতালের মালিকানাধীন। আমাদের এম্বুলেন্সগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। ৮-১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মালিকদের ৪০০ টাকা আয় করতে দুই দিন লাগে। তালিকায় উল্লিখিত টাকার সাথে অক্সিজেন, হেলপার, ইত্যাদি কারণে অনেক সময় ভাড়া বেড়ে যায়। কিন্তু চালকেরা ১০০-২০০ টাকার বেশি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে না।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here