রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র থেকে সেবা পাচ্ছেনা মানুষ!

10
1940

প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ ঃ
প্রয়োজনীয় জলবল না থাকায় রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবার চরম অবনতি ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দরিদ্র, হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ। সময়মত প্রাথমিক চিকিৎসা, ঔষধ ও ডাক্তারি পরামর্শ না পেয়ে তাদের ছুটতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা জেলা শহরে। এতে করে তৃনমূল পর্যায়ে মা, শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ এবং সেবা পেতে যেমন বেগ পেতে হচ্ছে তেমনি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নানা সমস্যায় জর্জরিত। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে সরকারি উদ্যোগ আলোর মুখ দেখছে না বলে জানান সচেতন মহল। এতে স্বাস্থ্যসেবায় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের হাজার হাজার স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশী অসহায় গরিব-দুঃখী পরিবার। এদিকে, বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা দিনের পর দিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জায়গা জবরদখল করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে ক্রমেই বেহাত হয়ে যাবে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের জায়গা। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকার গ্রামে গ্রামে ডাক্তার দিয়েছে। অথচ চিকিৎসা নিতে আট মাইল পথ পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে।’ চনপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ডাক্তার বসেন শুনে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে কয়েক দিন থেকে ঘুরছি। অথচ পাঁচ দিন ঘুরেও ডাক্তারের দেখা পাইনি।’ চনপাড়া গ্রামের লতফিা বেগম, সোহেল মিয়া, আব্দুল আলী, মনির হোসেনসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে আমরা তেমন কোন সেবা পাই না। দেখা গেছে নরমাল ডেলিভারির জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে রোগীকে নিয়ে আসলেও চা খেতে তাদের পয়সা দিতে হয়। তারপরও আবার সময়মত কেন্দ্র খোলা না পাওয়ায় রোগীকে নিয়ে যেতে হয় অনেক দূরে। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট এলাকার সুবিধাভোগীরা। এ কেন্দ্রটি নির্ধারিত সময়ের পর খোলা হয় এবং সময়ের আগের তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলো খোলা থাকার কথা থাকলেও এ কেন্দ্রটি খোলা হয় ১০টায় আর বন্ধ হয়ে যায় ২টার আগেই। তাই অনত্র চিকিৎসা নিতে হয় রোগীদের। এ অবস্থায় প্রতিনিয়ত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থের পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই কেন্দ্রে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করেন একজন। নাম শাহিন সুলতানা। তিনি বলছিলেন, ‘এই কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টাই গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা। এজন্য থাকার কথা একজন মেডিকেল কর্মকর্তা (এমবিবিএস), ২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি হেলথ অফিসার, একজন টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্টসহ আয়া, ধাত্রী ও পিয়ন। কিন্তু এগুলো কেবল কাগজে কলমেই। বাস্তবে তার কিছুই নেই।’ এ বিষয়ে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিদর্শীকা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, আমাদের কেন্দ্রে সিজারিয়ান কোনো অপারেশন হয় না। আর নির্ধারিত সময়ের আগে কেন্দ্র বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মিটিংয়ে থাকায় কেন্দ্র বন্ধ ছিল কিন্তু নিয়মিত কেন্দ্র খোলা থাকে। এছাড়া বিনামূল্যে যেসব সেবা প্রদান করার কথা তা আমরা আমাদের সাধ্যমত দিয়ে যাচ্ছি। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নাজমুল আলমের সাথে। তিনি সেবা ঘাটতির কথা স্বীকার করে জানান, জনবল সঙ্কটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে জনবল বাড়ানো হলে এসব সমস্যা থাকবে না। আর সিজারিয়ান অপারেশনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা জরুরি রোগীদের সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য পাঠানো হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়ে গেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here