বাগেরহাটের রমাপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত ও যুক্তি নিয়ে গণমাধ্যম সরব। সবচেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে ভারতের ভেতরে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে ভারত সরকার ও দেশটির উচ্চ আদালত নিষেধ করেছে সে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারন হবে না কি করে? বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিশেবাদি সংগঠন, পরিবেশ বিষয়ে গবেষক ও বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য সর্বনাশ বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেন। ১ হাজার ৩২০ মগোওয়াটের ওই প্রকল্পটি চালু হলে সুন্দরবসহ বনের আশেপাশের মানুষ ও জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে বিভিন্ন গবেষনা ও জরিপে উঠে এসেছে। সর্বনাশা এ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, মিটিং, লং মার্চ ও মানব বন্ধন চলছে। চলছে প্রেস কনফারেন্স। লং মার্চে মিছিলের ওপর সরকারের পলিশ বাহিনী নির্মম লাঠি চার্জ করেছে বলে সচিত্র প্রতিবেদন আমরা দেখতে পাই। দেশী-বিদেশী শত আবেদ-নিবেদন ও কর্মসূচি প্রবেশ করছে না সরকারের কানে। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলন আরও গতিময় করছে। এদিকে সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সময়েই বোঝা যাবে। সুন্দরবন ধ্বংসকারী এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্ব যেখানে সোচ্চার সেখানে বংলাদেশের এক শ্রেনীর ভাড়াটে বুদ্ধিজীবি ও কিছু তথাকথিত পন্ডিতরা এ প্রকল্পের পক্ষে অনেক গান গেয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তারা টক শো তে অংশ নিয়ে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন। রামপালে এ প্রকল্প নির্মানে অর্থায়ন না করতে ভারতের এক্সিম ব্যাংককে বিশ্বের ১৭৭ টি প্রতিষ্ঠান অনুরোধ জানিয়েছে। রামপাল প্রকল্পবিরাধী এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এক খোলা চিঠিতে এ অনুরোধ জানান বাংকট্রাক নামে একটি সংস্থার পরিচালক জোহান ফিজেন্স। রামপাল প্রকল্পবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ২১টি, যুক্তরাজ্যের রয়েছে ১৪টি, বাংলাদেশের ৩২টি, ভারতের ২০টি, জার্মানির ১২টি, অষ্ট্রেলিয়ার ৮টি, চীনের ২টি এবং সুইজারল্যান্ডের ৮টি। একটি দেশের জনমতকে উপেক্ষা করে কোন প্রকল্প নির্মান বা সরকারী কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যেমন কঠিন তেমন অবাস্তব।
