বিল্লাল হোসেন (৩৫) ও মো. ওলিয়ার রহমান (৩০)। সম্পর্কে দু’জন দুলাভাই ও শ্যালক। আগে ওলিয়ার মুদি দোকানি ছিলেন। আর বিল্লাল ছিলেন কাপড়ের ব্যবসায়ী। রাতারাতি ধনী হওয়ার অভিপ্রায়ে তারা স্বর্ণ চোরাচালানে নামে। এ দুইজনসহ আরও তিনজনকে ১১ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো: মো. রেজাউল (৩৫), মো. ওলিয়ার (৫০), ওহিদুল ইসলাম (৩০)।
তারা ৫ জনই যশোর জেলার বাসিন্দা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯৬টি স্বর্ণের বার, ৫ টি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণ চোরাচালানে খরচের জন্য ব্যবহৃত ১৯ হাজার ২৪১ টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব’র মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। র্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আনোয়ারুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রাজধানীর গাবতলীর বাস টার্মিনাল থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের দেহ ও পায়ের জুতা তল্লাশি করে ৯৬ টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে র্যাব। প্রত্যেকটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম। সর্বমোট স্বর্ণের ওজন হচ্ছে ১১ কেজি ১৩৬ গ্রাম। তিনি আরও জানান, একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালানকারী চক্র আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যেসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে সেইসব স্বর্ণ দুবাই থেকে আনা। চোরাচালানকারীরা আকাশপথে সেই স্বর্ণগুলো দেশে এনেছিল। স্বর্ণগুলো বেনাপোল সীমান্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের কথা ছিল। তার আগেই র্যাব এই চক্রটিকে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে স্বর্ণ পাচার করতো। তারা পায়ের জুতার মধ্যে একস্থান থেকে আরেকটি স্থানে স্বর্ণ নিয়ে যেতো। জুতার মধ্যে স্বর্ণ রেখে ওপরে আঠা দিয়ে টেপ লাগাতো। ২ টি জুতায় ৬ টি করে ১২ টি বার বহন করতো। জুতা ভারি ও ফুলে যাবে বলে একটি জুতায় ৬ টির বেশি স্বর্ণ তারা বহন করতো না। বিল্লাল হোসেন ও মো. ওলিয়ার রহমান দুইজনের সম্পর্কে দুলাভাই ও শ্যালক। তারা ৬ মাস হলো এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হয়েছে। কিন্তু, বাকি ৩ জন অনেক আগে থেকে এ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও জানান, এ চক্রের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা প্রত্যেক মাসে নানা কারণ দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যায়। সেখান থেকে অতিরিক্ত স্বর্ণ দেশে নিয়ে এসে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অধিক লাভে আবার পাশের দেশে পাচার করে থাকে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তারা মূলত বহনকারী। ঢাকা থেকে বাইরের জেলায় একবার স্বর্ণ বহন করলে তারা ৭ হাজার টাকা করে পেতো। স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের গডফাদারদের আদেশ অনুযায়ী তারা সীমান্তের কাছে আরেকটি চক্রকে সরবরাহ করতো। তারা মাসে ১২ থেকে ১৩ বার স্বর্ণ বহন করতো। গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের গ্রামের বাড়ি যশোর জেলায়। রেজাউল, ওলিয়ার, ওহিদুল ও বিল্লালের বাড়ি যশোর জেলার বন্দর থানার পটুখালী এলাকায়। আর ওলিয়ার রহমানের বাড়ি একই জেলার ঝিকরগাছা থানার করিম আলী এলাকায়। একই জেলায় বাড়ি হওয়ার কারণে তাদের একে-অন্যের যোগাযোগ ছিল। তারা প্রায় একসঙ্গে একস্থান থেকে আরেকস্থানে স্বর্ণ পাচার করতো। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মূল্য সাড়ে ৫ কোটি টাকা। যে চক্রের তারা স্বর্ণ বহন করতো সেই চক্রের গডফাদারের নাম জানা গেছে কী-না প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমরা তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা কয়েকজনের নাম বলেছে। এ চক্রের মূল হোতাকে চিহ্নিতের চেষ্টা চলছে। এ চক্রের সঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা জড়িত কী-না প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে চোরাচালানকারী চক্রের ডালপালা যতই শক্তিশালী হোক তা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-২ এর সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. শিবলী আহমেদ ও র্যাব’র আইন-গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি মো: মিজানূর রহমান ভূঁইয়া ও র্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া- সিনিয়র এএসপি মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম।

