রাজউক এর পূর্বাচল সেল হয়রানি ও ঘুষ দুর্নীতির আখড়া সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জমান এর নামে থানায় জিডি

0
937

মোঃ আবদুল আলীম/ মোঃ নাসির উদ্দিন মাসুদঃ ঢাকা শহরে প্রায় পাঁচ হাজারের ওপর ভবন রাজউক এর নিয়ম ভঙ্গ করে নির্মিত হয়েছে। এ্যডভোকেট আবদুল মান্নান পূর্ত উপমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এসব ভবন কোনটির পূর্নাঙ্গ ও কোনটির অনিয়মিত অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু এক অদৃশ্য শক্তি ও কালো হাতের থাবায় এই মহৎ উদ্দেশ্য থেমে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে এতগুলো ভবন রাজউকের নিয়ম ভঙ্গ করে রাতারাতি নির্মিত হয় নাই। বহুতল ভবনের প্ল্যান পাস ও জমির ছাড়পত্র থেকে শুরু করে সম্প্রতি রাজউকের পূর্বাচল শহর প্রকল্পে বিশালাকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সেবা গ্রহনকারীরা হচ্ছেন হয়রানির শিকার। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হচ্ছেন রাতারাতি বিশাল টাকা ও বাড়ি-গাড়ির মালিক। রাজউকের সামান্য পিওনের পদে চাকুরি করে ঢাকা শহরে বাড়ি, গাড়ি ও বিশাল টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সের মালিক এমন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রায়ই প্রকাশিত হচ্ছে। রাজউকের নতুন শহর প্রকল্পের আদি অধিবাসীদেরকে প্লট দেয়ার কথা বলে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকৃতদেরকে ১ টি করে কাগজ দেয়া হয়। উক্ত কাগজ দেখিয়ে তারা রাজউক থেকে প্লটের নম্বর আনতে গেলে ছয়/সাত লাখ টাকা গুনতে হয়। ভুক্তভোগিদের কাছ থেকে জানা গেছে আমমোক্তারনামা গ্রহন, দলিল রেজিষ্ট্রি, মালিকানা হস্তান্তর, নকশার ছাড়পত্র ও আবাসিক ঋনের ছাড়পত্র পেতে মোটা অংকের উৎকোচ দিতে হয়। নতুবা জুলুম, আপত্তিকর আচরন ও হয়রানির স্টিম রোলার চলে। এমআইএস শাখায় সেবা গ্রহনকারীদের হয়রানির সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্লটের আকার অনুযায়ি উৎকোচ না দিলে ফাইল নড়ে না। অসংখ্য লোক টাকা দিতে না পারার কারনে মাসের পর মাস ঘুড়েও কোন কূল কিনারা পাচ্ছেন না। অনুসন্ধানে জানা গেছে পূর্বাচল সেলে তিন কাঠার প্লটের রেজিষ্ট্রি করতে ৭০ হাজার, ৫ কাঠার জন্য ১ লাখের ওপরে, সাত কাঠার জন্য ১.৫০ লাখ টাকা উৎকোচ দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে সহকারী পরিচালক, উপ পরিচালক, পরিচালক ও মেম্বার(সদস্য-এস্টেট) পর্যন্ত টাকার ভাগ বাটোয়ারা হয়। রাজউকের এমআইএস শাখা সবচেয়ে হয়রানি ও দুর্নীতির মধ্যে নিমজ্জিত। এই শাখায় প্লটের নম্বরের জন্য কাগজপত্র ও আবেদন যাচাই বাছাই করা হয়। এই শাখায় সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুল হককে ৫০ হাজার টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না। প্রোগ্রামার আবু নাইম মোঃ সেলিমকে দিতে হয় ৩০ হাজার টাকা। ওদেরকে টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল বিভিন্ন বাহানা দেখিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়। এ ব্যাপারে সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের সাথে তার মতামতের জন্য যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে  রাজি হননি এবং এ প্রতিবেদকদের সাথে আপত্তিকর আচরন করেন। প্রকাশ, তিনি রাজউকের অনেক কর্মকর্তাদের সাথেও যাচ্ছে তাই আচরন কারনে। পূর্বাচল বিভাগে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে পর্যন্ত হয়রানী করা হয়ে থাকে। গত ৩০-১০-২০১৬ ইং তরিখে রাজউক এর পূর্বাচল সেলে এ প্রতিবেদক হয়রানীর শিকার হন। সংবাদপত্র লিখা ফিতা এ প্রতিবেদকের গলায় ঝুলানো দেখে সহকারী পরিচালক ভূমি ও এস্টেট – ৩ মেহেদউজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে যান ও এ প্রতিবেদককে পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলাম, ভূমি ও এস্টেট-২ এর পিএর কাছে নিয়ে যান অনেকটা জোরপূর্বক। তারপর একেরে পর এক জেরা করতে থাকেন ও এ প্রতিবেদকের মোবাইল ফোন হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলামের পিএ এবং অপরাপর কর্মচারীরা। অবস্থা দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় নাই যে গণমাধ্য কর্মীরা হচ্ছে ওদের দুষমন। এ প্রতিবেদক তার অফিসে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, পরিচালক শেখ  শাহীনুল ইসলামের  পিএ ও অপরাপর কর্মচারীরা বাধা দেয়। তারা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়র পর এ প্রতিবেদককে অনেকক্ষন অবৈধভাবে আটকিয়ে রাখে। এধরনের অচরনের কারন জিজ্ঞাসা করলে মেহেদউজ্জামান ও পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলামের কর্মচারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে শারীরিক আক্রমন করার জন্য তেড়ে আসে। সেই মুহুর্তে এ প্রতিবেদকের সাথে রাজউকএর অনেক কর্মকর্তার সাথে বান্ধুসলভ সম্পর্ক আছে এবং অনেক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে সুসম্পর্ক আছে বলাতে তারা একটু নড়েচড়ে বসে এবং এ প্রতিবেদককে এক পর্যায়ে ছেড়ে দেয়। তবে পূর্বাচল সেল থেকে চলে আসার সময় সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, পরিচালকের পিএ ও কর্মচারীরা এ প্রতিবেদককে বলে যে, ভবিষ্যতে রাজউক ভবন বা তার আশেপাশে দেখলে সুস্থ অবস্থায় ফেরত আসা যাবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এ প্রতিবেদক সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান ও পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলামের পিএ ও অন্যান্য কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় জেনারেল ডাইরি দায়ের করেন(জিডি নং ২১৫০ তারিখ ৩০-১০-২০১৬)। জিডির তদন্ত দেয় হয় এসআই ইব্রাহীম খলিল উল্লাকে। রাজউকের নতুন শহর প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় সেবা গ্রহনকারীদের ভীর ও জটলা লেগে আছে। ঘুষ ও হয়রানির কারনে সেবা গ্রহনকারীদের সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা কাটাকাটি থেকে শুরু করে হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায় প্রায় প্রতিদিন। রাজউকের নতুন শহর প্রকল্পে এস্টেট শাখার পরিচালক, উপ পরিচালক, সহকারী পরিচালক, কাননগো, এস্টেট তত্বাবধায়ক, ডিলিং এসিস্টেন্ট মিলে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এ সিন্ডিকেটের হাতে সেবা গ্রহনকারীরা জিম্মি। সিন্ডিকেট কর্তৃক অন্যায়ভাবে আদায়কৃত ঘুষের টাকা রাজউকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঝে বিলি বন্টন হয় বলে আজ পর্যন্ত এ চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্তা নেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যহত আছে। আগামী সংখ্যায় আরও বিস্তারিত থাকছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here