যৌতুকলোভী পাষন্ড জাকিরুলের নির্যাতনে স্ত্রী মোনালিসা পঙ্গু

0
1196

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক ঃ
আমাদের দেশে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের অভিশাপ এখনও প্রকট। গণমাধ্যমে এ নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক লোমহর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একজন সাদাসিধে সরল মনের মেয়ে ফারজানা মোনালিসা। শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গেছেন। সিলেট জেলার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আইন বিষয়ে পড়াশুনা করছেন। পড়ার এক ফাঁকে তাকে বিয়ে দেন অভিভাবক।

Advertisement

 

স্বামী: মোঃ জাকিরুল ইসলম রিপন, পিতা: হাজী আবদুল হক, মাতা: মোছা: সাহেনা বেগম সাং খাড়ারপার, থানা: দক্ষিন সুরমা, জেলা: সিলেট। ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক গত ১২-০১-২০১৬ ইং তারিখে তাদের মধ্যে বিবাহ হয়। বিবহের পর থেকেই স্বামী মোঃ জাকিরুল ইসলাম স্ত্রী ফারজানা মোনালিসার সাথে আপত্তিকর আচরন করতে থাকে। সামান্য বিষয়ে কটু কথা থেকে শুরু করে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এ নির্যাতনের মূল কারন হচ্ছে স্বামী রিপনের টাকার লোভ ও অন্য নারীর প্রতি আশক্তি। স্ত্রীর পারিবারক সূত্রে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায় পর নারীতে আশক্তি থাকায় স্বামী মোঃ জাকিরুল ইসলাম রিপন তার স্ত্রী মোনালিসাকে সহজে মেনে নিতে পারেনি। তা ছাড়া নেশার টাকা যোগানোর জন্য এক পর্যায়ে মোনালিসার ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন। একদিকে শারীরিক নির্যাতন অপরদিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার সময় শাশুড়ি মোছা: সাহেনা বেগম ও শশুর হাজী আবদুল হক ছেলেকে সহায়তা ও উষ্কানি দেয়। এধরনে নির্যাতনের সময় সুজন নামে আরও একজন মোনালিসার গায়ে হাত তুলতো যার ঠিকানা বাদামবাগিচা, ২০/২ আ/এ, সিলেট এবং মোবাইল নং ০১৭৭৯-৮৪৭৩৭৩। ফারজানা মোনালিসার পিতার নাম আজহারুল ইসলাম, মাতা: আক্তার বানু, ঠিকানা: মিরপুর-১০, ব্লক সি রোড নং ৬, বাড়ি নং ১৭, থানা মিরপুর, ঢাকা। কন্যার পিত্রালয়ে স্বামী রিপন শারীরিক নির্যাতন করার সময় কন্যার পিতা মাতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অনুুরোধ মানতো না। মোনালিসা শারীরিকভাবে মারাত্মক আহত হওয়াতে ঢাকা জেনারেল হাসপাতাল, ৬/১, হুমায়ুন রোড, ব্লক-বি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা তে ১৩-৯-২০১৭ ইং তারিখে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হতে বাধ্য হন। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরত আসলে কিছুদিন যেতে না যেতে পুণরায় তার ওপর নির্যাতন করে পাষন্ড স্বামী রিপন। দ্বিতীয় দফায় নির্যাতনের কারনে স্ত্রী মোনালিসা পুণরায় অর্থপেডিক চিকিৎসক আহমেদ আল মোস্তাক এর চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্সরে করাতে দেখা যায় নির্যাতনের কারনে মোনালিসার বাম পা প্রায় অচল হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি স্ক্রাচে ভর করে চলাফেরা করছেন। অবশেষে তিনি বাধ্য হয়ে মিরপুর মডেল থানায় জিডি নং ১৫৫৭ তাং ২৬-১২-২০১৭ দায়ের করেন। জিডির তদন্ত দেয়া হয় এস আই আঃ হালিমকে। জিডি করার সংবাদ পাষন্ড স্বামী রিপনের কানে পৌঁছে। কেন তার নামে থানায় জিডি করা হয়েছে একথা বলে রিপন তার স্ত্রীর ওপর হিংশ্র প্রাণীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মারাত্মক জখম করে। জীবন বাঁচানোর জন্য আহত মোনালিসা পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুণর্বাসন প্রতিষ্ঠান, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭ তে পুলিশ কেস ফরম পুরন করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। চিকিৎসক তাকে ২ সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। এভাবে একের পর এক নির্যাতনে টিকতে না পেরে স্বামীর বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানা, ডিএমপি, ঢাকাতে মামলা নং ২৩ তারিখ ১১-০১-২০১৮ দায়ের করতে বাধ্য হন। এধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বামী রিপনের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন,“আপনারা অভিযোগ বা এ ব্যপারে তথ্য পেয়ে থাকলে তদন্ত করে যা পারেন তা করেন।” এ বিষয়ে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যহত রয়েছে। পরবর্তি সংখ্যায় চোখ রাখুন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here