কিছু গুনাহের খারাপ প্রভাব ঠিক মৃত্যুর সময় প্রকাশ পায়। তন্মধ্যে একটি গুনাহ হলো: ‘‘যিনার গুনাহ।’
এই যিনার গুনাহের প্রভাব দুনিয়াতে তো দেখা দেয়ই, মৃত্যুর সময়ও এর প্রভাব প্রকাশ পায়।
একবার আমি হযরত মুর্শিদে আলম রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম— হযরত! আমি তো ছোট, ইলমও কম, তেমন বুঝিও না; এজন্য অনেক কথা আমার বুঝে আসে না। আপনার অনুমতি পেলে, সে বিষয়গুলো আপনাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতাম।
হযরত অনেক খুশি হলেন এবং বললেন—জিজ্ঞেস করো। তখন আমি এই প্রশ্ন করলাম;
হযরত! ‘‘তালবীসে ইবলীস’’ কিতাবে একটা ঘটনা পড়েছিলাম। একজন কুরআনের হাফেজ ছিলো, যে কোন বেগানা নারীর দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। যার কারণে ২০ বছর পর সে কুরআন মাজীদ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে! কুরআন মাজীদ তার সীনা থেকেই বের হয়ে গেছে!(কুরআন মাজীদ তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।)
আমি বললাম যে, হযরত! মাত্র এই একবার কোনো বেগানা নারীর দিকে তাকানোর জন্য এতো বড় শাস্তি! কুরআন মাজীদ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে! এটাতো অনেক বড় শাস্তি! হযরত তখন বললেন; ‘‘আসলে এটা আল্লাহর গায়রতের ব্যপার।
:সেটা কিভাবে? ; আল্লাহ তা’আল চান, বান্দা আমার! তোমাকে এতো এতো নিয়ামাত দিলাম আমি, সৃষ্টিও করলাম আমি। এখন তোমার অন্তর, আমার ভালোবাসার জন্য ওয়াকফ(উৎসর্গ) হওয়া চাই।
যখন আমরা স্বীয় অন্তরে আল্লাহর পরিবর্তে কোনো গায়রে মাহরামকে জায়গা দিই, আর তার প্রতি ভালোবাসাকে অন্তরে জায়গা দিই;—আপনি কোনো মহিলার ঘরে তার সতিনকে নিয়ে এসে ঘরে বসান না, দেখেন সে কেমন রিয়েক্ট করে!?
বললেন, এটা আল্লাহর গায়রতের ব্যপার। আর আল্লাহর যখন গায়রত আসে তখন তিনি যেকোনো শাস্তি দিতে পারেন। যদি একবার কোনো বেগানা নারীকে দেখা, কুরআন মাজীদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে! তাহলে যাদের অবস্থা এই যে—আজ একজনের সাথে সম্পর্ক, কাল আরেকজনের সাথে সম্পর্ক, পরশু অন্যজনের সাথে(তাদের অবস্থা কী হবে!)
আমার সময় কাটে না, আমি তোমার কথাই ভাবি। ম্যাসেজিং চলতেছে, দেখা-সাক্ষাৎও হচ্ছে
সবশেষে এসবের ফলাফল কী দাঁড়ায়?
‘ব্যক্তি মৃত্যুর সময় ঈমান থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।’
উলামাগণ লিখেন— ‘‘জিহ্বা অকেজো হয়ে যায়।’’ কালিমা পড়তে চাইলেও পড়তে পারে না। আল্লাহ তাওফীক ছিনিয়ে নেন। তো এজন্য এইসমস্ত গুনাহ থেকে তাৎক্ষণিকভাবেই তাওবা করে নেয়া আবশ্যক।

