মার্কিন রাষ্ট্রদূত-তোফায়ের বৈঠক সব দলের অংশগ্রহনে নির্বাচন প্রত্যাশা বাংলাদেশের উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ

0
506

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশিলতা প্রয়োজন। বিগত ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করে, নির্বাচন প্রতিহত করার নামে প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে। অগ্নীসন্ত্রাস করে দেশব্যাপী মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। এটি তাদের সঠিক পথ ছিল না, এখন তা বুঝতে পেরেছে। সে নির্বাচনে অংশ না নেয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। বিএনপি আবারো সে ভুল করবে বলে আমার মনে হয় না। দেশের সংবিধান মোতাবেক আগামী জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে। এ সময় সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। এ নির্বাচনে দেশের সকল দল অংশগ্রহণ করবে বলে আমি বিশ^াস করি। কোন দলকে বাদ দিয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়ীক অংশিদার।

Advertisement

বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে এখন তিনশত এর বেশি গ্রীন ফ্যাক্টরি রয়েছে। বিশে^র একনম্বর ডেমিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে এখন শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ্যাকর্ড এবং এ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ, বাংলাদেশ এখন নিজেই কারাখা নিরাপদ রাখতে সক্ষম। নিজ ব্যবস্থাপনায় কারখানার তদারকি করবে। গত অর্থ বছর বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯৮৩.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ১৭০৩.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাণিজ্যমন্ত্রী আজ (২২অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত গৎং. গধৎপরধ ইবৎহরপধঃ -এর সাথে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশিলতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিক বলে বিশ^াস করি। সকল দলের অংশ গ্রহনে, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সকলের প্রত্যাশা। দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সকল রাজনৈতিক দল আন্তরিক হবেন বলে আশা করি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তৈরী পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধান করেছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক আমদানি কারক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক নম্বরে। এ শিল্পের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও শ্রম অধিকারে অনেক উন্নতি হয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এ্যাকোর্ড, এ্যালায়েন্স, তিন রাষ্ট্রদূত ও ৫ সচিবের কমিটি তৈরী পোশাক শিল্পকে নিরাপদ করতে অনেক অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ এ খাতে দক্ষতার সাথে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সাথে সফলবাণিজ্য করছে, দিনদিন এ বাণিজ্য বাড়ছে। বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আছে, আগামীতে আরো বাড়বে। তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ড. কামাল হোসেনের সক্ষমতা সম্পর্কে দেশবাসী জানেন। বিএনপি খুনিদের দল হিসেবে প্রমানীত। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তা প্রমান হয়েছে। তাদের সাথে হাত মিলিয়ে ড. কামাল হোসেন সফল হতে পারবেন না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশবাসী ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে ঘৃনা করেন। তিনি রাজনৈতিক ভাবে চরিত্রহীন। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি মোস্তাক ও ফ্রিডম পার্টির সাথে রাজনীতি করেছেন। শিবিরের কর্মীসমাবেশে তাদের কার্যকলাপের প্রশংসা করে বক্তৃতা করেছেন। একজন নারী সাংবাদিককে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সাংবাদিক সমাজ তাকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫৫ জন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হকসহ সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here