মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন মাদক পরিদর্শক হেলাল উদ্দিনের শত শত কোটি টাকার বিত্ত বৈভবের উৎস কোথায়?

9
1149

স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক হেলালের মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ, আর এই মাদক ব্যবসার সুবাদে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন ভূইয়া।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর সূত্রাপুর সার্কেলে কর্মরত পরিদর্শক হেলাল তার চাকুরী জীবনের শুরুতে ছিলেন ডাইরেক্টর ফিনান্সের ব্যক্তিগত সহকারী, পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ষ্টেনো গ্রাফার এবং ২০০১ খৃষ্টাব্দে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। পরিদর্শক পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় হেলালের মাদক ব্যবসা। অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে পরিদর্শক হেলালের ভয়াবহ মাদক ব্যবসার তথ্য উঠে এসেছে। সম্মানিত পাঠক, গত সংখ্যায় প্রকাশিত মাদক পরিদর্শক হেলালের মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অবৈধ সম্পদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। হেলালের অবৈধ সম্পদ সমূহ নিম্নরুপ ঃ

Advertisement

(১) লেক ভিউ রেষ্টুরেন্ট এন্ড বার, বাড়ী-৩৯, গরীবে নেওয়াজ রোড, সেক্টর-১৩, উত্তরা, ঢাকা। (২) নেষ্ট রেষ্টুরেন্ট এন্ড বার, বাড়ী-১২, রোড-১৪/এ, সেক্টর-৪,উত্তরা, ঢাকা। (৩) ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানাধীন পূর্ব সাঈদনগরের ২৬৮২ দাগের ৫ কাঠার প্লট। (৪) ব্যক্তিগত গাড়ী, টয়োটা প্রিমিও এফ, ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-৭২৫০. (৫) পার্ক ভিউ রেষ্টুরেন্ট, ইন্ডিরা রোড, ঢাকা (তেজগাঁও কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে)। (৬) তিতাস ফিশিং প্রজে, লুটেরচর, মেঘনা উপজেলা, কুমিল্লা। (৭) ১৫ বিঘা জমি, লুটেরচর, মেঘনা উপজেলা, কুমিল্লা। (৮) ইট ভাটা, লুটেরচর, মেঘনা উপজেলা, কুমিল্লা। (৯) কাদামাটি প্রপার্টিজ লিঃ, ৩৩, কারওয়ান বাজার ঢাকা (ফ্লাট ও প্লটের ব্যবসা)। পরিদর্শক হেলালের মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত এই অবৈধ সম্পদের তালিকা দেখে যে কোনো ব্যক্তিরই চোখ ছানা ভরা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মাদক ব্যবসায়ী হেলালের আরো অবৈধ সম্পদের তথ্য অপরাধ বিচিত্রার কাছে এসে পৌঁছেছে যা দেখে সবারই চোখ কপালে উঠবে। মাদক পরিদর্শক হেলালের সদ্য প্রাপ্ত অবৈধ সম্পদের তালিকা নিম্নরুপ ঃ
(১) রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৫ কাঠার প্লট। (২) রাজধানী ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকা ইষ্টার্ন হাউজিং (আফতাব নগরে ৫ কাঠার প্লট)। (৩) ৪ হাজার বর্গফুটের ২ টি ফ্লাট, বাড়ী-২/৪, সড়ক-১/এ, ব্লক-বি, নবদয় হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। (৪) স্বপ্ন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ক্যামেলিয়া হাউজ, কাঠেরপুল, উত্তর রেইস কোর্স, কুমিল্লা। (৫) মিরপুর ডি.ও.এইচ.এস শপিং কমপ্লেক্সে ৭ টি দোকান।
অপরাধ বিশ্লেষকগণ মনে করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থেকে যে কর্মকর্তা নিজেই অবৈধভাবে মাদক ব্যবসা করছেন, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ দেশ থেকে কখনোই মাদক নির্মূল করা যাবে না।
অপরাধ বিশ্লেষকগণের মতে হেলালের মতো পরিদর্শক হলো সর্ষের মধ্যে ভূত। এই ভূত যতোদিন থাকবে সমাজ থেকে কখনোই মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না। এই ধরনের অপরাধীরা তাদের অবৈধ কার্যক্রম সচরাচর নিকটজনদের নামে করে থাকে। এক্ষেত্রে হেলাল যদি তার নিকটজনদের নামে অবৈধ মাদক ব্যবসা করে থাকে এবং তাদের নামে অবৈধ সম্পদ গড়েন, তাহলে তার দুষ্কর্মের সহযোগী সকল নিকটজনদেরও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই হেলালের মতো দুর্বৃত্তদের শাস্তি নিশ্চিত হবে। কেননা পরিদর্শক হেলাল অত্যন্ত গরীব পরিবারের সন্তান ছিলেন, তার নিকটজনদেরও সামাজিক অবস্থান তার মতোই হবে। অত্যন্ত গরীব পরিবারের কোনো ব্যক্তি প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হওয়াই পরিদর্শক হেলালের দুর্নীতির প্রমাণস্বরুপ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন এদেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে যা যা করা দরকার সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের গত কয়েকদিন আগে ঘোষণা দিয়েছেন, যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। প্রশাসনে থেকে যদি কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন মাদক ব্যবসার সাথে যেই জড়িত হোক তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। আর প্রশাসনে মাদক নির্মূলের দায়িত্বে থেকে কেউ যদি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকেন তাহলে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু হেলালের মতো লোক যদি মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থেকে অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে এ দেশ থেকে মাদক নির্মূলের পরিবর্তে মাদকের বিস্তার ঘটবে। তাই অনতি বিলম্বে হেলাল উদ্দিনকে শাস্তির আওতায় আনা জরুরী।
পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন ভূইয়ার মাদক ব্যবসা ও তার বিশাল অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরিদর্শক হেলালের অনৈতিক কর্মকান্ড ও অবৈধ সম্পদ সম্পর্কে বক্তব্যের জন্য মোঃ কামাল উদ্দিন আহাম্মদ, মহাপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here